ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় দুবাই পুলিশের ৪ বিষয়ে জানতে চাওয়া


বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় দুবাই পুলিশের ৪ বিষয়ে জানতে চাওয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশের পথে ফিরিয়ে পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে, তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে চারটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এটি একজন ইতিবাচক অগ্রগতির একটি রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দুবাই পুলিশ মূলত প্রত্যর্পণের আইনি এবং কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাচ্ছে।

দুবাই পুলিশের চিঠিটি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেই সূত্রগুলো জানায় যে, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় ওই চিঠির জবাব তৈরির কাজ করছেন দুদকের কর্মকর্তাগণ।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত এবং প্রত্যর্পণের নথিপত্রের বিষয়টি সমন্বয় করছেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত জবাব পাঠানো যাবে এবং তাঁকে (বেনজীর) দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।’

বেনজীর আহমেদের দুটি ম্যাসেল দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুন প্রথম জাতীয় সংসদে জানান। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার তার আটক নিশ্চিত হওয়ার পর, আন্তর্জাতিক পুলিশের সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ চায়। দুদক প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠায়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার তথ্য এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দেয় দুবাই পুলিশ। মোটামুটি বেনজীর এখন দুবাইয়ের কারাগারে আটক আছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ এবং ইউএইর মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি কী, সেই পরোয়ানার কার্যকারিতা কতটুকু এবং সমগ্র প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে—এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা এবং নথিপত্র প্রস্তুত করে খুব দ্রুত জবাব পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে। ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, দুবাই পুলিশের চিঠির ভাষা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তাঁরা বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এবং পরবর্তীতে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এরপর আদালতের আদেশে তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে দেশ ছেড়ে যান।

পরবর্তীতে বেনজীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলমান।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

দেশ ছাড়ার পর থেকে বেনজীর আহমেদ-এর অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘ সময় নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছেও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল না।

বেনজীরকে গ্রেফতারের বিষয়ে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পেছনে তাঁর কয়েকজন সাবেক সহযোগীর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক এবং আর্থিক লেনদেনের সম্পর্কিত বিরোধের কারণে তাঁরা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন। একটি শপিং মল থেকে বেনজীরকে আটক করা হয়। উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দুবাই পুলিশের বিচারে কার্যকরী ছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ নুরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


জামায়াতের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ নুরের

জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি এটা মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হলে তরুণদের জামায়াতের রাজনীতি এবং তাদের কথিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ দ্বারা আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

নুরুল হক নুর বলেন, দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, আজ তারা বাইরে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা করছেন। বাইরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে, যার ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নুর বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায়। দলটির কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে সরকারের প্রতি দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান তিনি।

নুরুল হক নুরের এই দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থীদের পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত এবং বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন জামায়াতই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনমতকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অনেক আসনে বাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের কোনো মিল ছিল না।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতকে যারা সমর্থন করেন, তারা জামায়াতেই আছেন। কিন্তু নতুন করে যদি আরেকটি প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

বিদেশি শক্তির প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেছেন, আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। তার অভিযোগ, জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের উত্থানের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

তিনি মন্তব্য করেন, জামায়াতের উত্থান হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকারকে সফল হতে হবে। একই সাথে সরকারকে ব্যর্থ করার যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠাল ঢাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠাল ঢাকা

বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

এটি সাবেক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ লক্ষ্যে ভারতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, हालেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপিও ভারত সরকারকে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ে বলা হয়, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী।

পরে ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে, যেখানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বায়ুদূষণে শীর্ষে কাম্পালা, ঢাকার বায়ুমানের অবস্থা কেম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


বায়ুদূষণে শীর্ষে কাম্পালা, ঢাকার বায়ুমানের অবস্থা কেম

বায়ুমানের সূচকে প্রতিদিন বিভিন্ন শহরের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে চলেছে। বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও বায়ুমানের সাময়িক উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও দূষণের প্রভাব পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক দিনের বৃষ্টির পর ঢাকা শহরের বায়ুর মান বর্তমানে মাঝারি পর্যায়ে অবস্থান করছে।

আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে ঢাকার স্কোর ছিল ৭৪। এই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৩১তম স্থানে ছিল।

একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৭৪ স্কোর নিয়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা শীর্ষে ছিল। দ্বিতীয় অবস্থানে ১৬৮ স্কোর নিয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা রয়েছে, তৃতীয় অবস্থানে ১৫৩ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর শহর রয়েছে, চতুর্থ অবস্থানে ১৫১ স্কোর নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা রয়েছে এবং পঞ্চম অবস্থানে ১৩৩ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহন থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন।

তাদের ধারণা, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর এবং টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বায়ুর মানের স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব হবে না।

আইকিউএয়ারের স্কোর ৫০ এর নিচে ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝে মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে সেটিকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলা হয়।

এছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীরা বাড়ির ভিতরে থাকতে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গন্য করা হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার হারের পর বিয়ে নিয়ে পরীমণির বিশেষ বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


আর্জেন্টিনার হারের পর বিয়ে নিয়ে পরীমণির বিশেষ বার্তা

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না।’

সোমবার (২০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে পরীমণি লেখেন, ‘বিয়ে টা আর করতে হলো না এই আর কি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা। আবার দেখা হবে।’

এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রিয় দল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে তিনি আবার বিয়ে করবেন। আটলান্টায় চলা আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচের দিন তিনি এই ঘোষণা দেন।

ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এই নায়িকা। সেই ক্যাপশনে তিনি লেখেন, 'আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করবো ফাইনাল।' স্ট্যাটাসের শেষে বেশ কয়েকটি ইমোজি জুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। মুহূর্তেই তার এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও বহুবার আলোচনায় এসেছেন পরীমণি। ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০১০ সালে কাজিন ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভের সঙ্গে তার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসে। তদূর পর তামিম হাসান নামে এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার বিয়ের কথাও শোনা যায়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালে নির্মাতা কামরুজ্জামান রনিকে বিয়ে করলেও সেই সংসার টেকেনি বেশিদিন। সর্বশেষ ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ে করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই নায়িকা। এই দম্পতির সংসারে শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য নামের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে নানা টানাপোড়েনের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাজের সঙ্গেও পরীমণির আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

এদিকে, ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করল স্পেন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে লা রোহা।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও ফেরান তোরেসের ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি ১০টি সেভ করে বিশ্বকাপ ফাইনালের নতুন রেকর্ড গড়েন।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা আক্রমণে ছিল সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। লিওনেল মেসিকেও নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগ। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের বিরতির পর পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড ফেরান তোরেসের সামনে পৌঁছে যায়। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরল তারা। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে শেষ হলো মেসি ও আর্জেন্টিনার অভিযান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%