বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩৫ পি.এম
দেশের ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থার মধ্যে একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে সর্বজনীন কিউআর কোড ‘বাংলা কিউআর’। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করার মাত্র প্রথম দুই দিনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই সময়টি জুড়ে দেশজুড়ে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি সফল ট্রানজেকশন বা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ৩০ জুনের পর থেকে দেশের সব ব্যাংক এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বা পৃথক কিউআর কোড ব্যবহারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন থেকে সব প্রতিষ্ঠানকে একটি একক প্ল্যাটফর্ম, অর্থাৎ ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করতে হবে।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে সতর্ক হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “৩০ জুনের পর থেকে পৃথক পৃথক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুধু সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ চলবে। এর বাইরে কেউ যদি আলাদা কিউআর ব্যবহার করেন এবং তা যদি তদন্তে পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেসব ব্যাংক বা এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর ব্যবসায়ীদের প্রদান (সরবরাহ) করবে না, তারা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। আর যারা নিজেদের কিউআর নিয়ে শহর থেকে প্রান্তিকের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, তারা বাজার দখলে এগিয়ে থাকবে।’
এর আগে দেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে গতকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করেই ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যে কোনো মাধ্যম থেকে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। আগে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর থাকায় খুচরা বিক্রেতাদের ক্যাশ কাউন্টারে অসংখ্য কোড ঝুলিয়ে রাখতে হতো, যা ছিল বেশ ঝামেলাপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ করতে ‘বাংলা কিউআর’ কে একটি একীভূত ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু করা হয়েছে। এর ফলে শপিং মল, সুপারশপ, ছোট দোকান বা ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সবাই একই ধরনের কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। গ্রাহকেরাও তাদের পছন্দের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ (যেমন: বিকাশ, রকেট, নগদ) দিয়ে এই একটি কোড স্ক্যান করেই বিল মেটাতে পারবেন।
বাংলা কিউআরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর খরচ কম এবং ব্যবহার সহজ। যেখানে প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআরের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরাও অনায়াসে ক্যাশলেস লেনদেনের আওতায় আসতে পারছেন।
নিরাপত্তা দিক দিয়েও এই ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর। গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকে সরাসরি পেমেন্ট সুবিধা থাকায় কার্ড ক্লোনিং কিংবা পিন চুরির মতো ঝুঁকি কমে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক ও এমএফএসগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ আরও মজবুত হবে, ডিজিটাল লেনদেন আরও জনপ্রিয় হবে এবং দেশে একটি টেকসই ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবৈধ ফুটপাত দখল ও রাস্তায় পার্কিং করার অপরাধে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা দোকান ও রাস্তায় পার্কিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন দোকানদার ও অটোরিকশা ড্রাইভারদের গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা প্রদান করা হয়।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ জনসাধারণের নির্বিঘ্নে চলাচলে যানজট নিরসনে এ অভিযান বলে জানান স্থানীয় প্রশাসন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ১৪ জনকে বিনাশ্রমে কারাদণ্ড ও একজনকে সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আসিফ আল জিনাত বলেন, উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফিডার রোডে অবৈধভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত ও পাশাপাশি রাস্তায় যত্রতত্র অটোরিকশা পার্কি না করার জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান ও মাইকিং করা হয়। ওই এলাকায় অটোরিকশার জন্য আলাদা জায়গা থাকা সত্ত্বেও ও তারা রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখে। তাদেরকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে সচেতন করি। আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে বলি। তারা কিছুই মানছে না। বুধবার (১ জুলাই) তাদের এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বলা হয়- তাতেও তারা সচেতন হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও একজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযান একটি সতর্কতামূলক অভিযান। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী অভিযান আরও শক্ত অবস্থানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, মোগরপাড়া চৌরাস্তার দুপাশে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয়। এ যানজটমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থাপূর্বক সাজাপ্রাপ্তদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের আমদানি কমে গেছে। তবে স্থানীয় জেলেদের আহোরিত ইলিশের দাম খুবই চড়া হয়ে উঠেছে। এই দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্রেতা অবশ্য দরদাম করে ইলিশ না কিনেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক কেজি ওজনের ইলিশ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকার মধ্যে। আর দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেছেন, আমদানি বাড়লে দাম আরও কমে আসবে। মৎস্য বিভাগ জানাচ্ছে যে, ইলিশের আমদানি কমেনি, তবে মাছের গড় সাইজ ছোট হয়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কিছু সময় ঘাটে উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, সড়ক ও নৌপথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি নেই। শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসছে আড়তে, যা সংখ্যায় খুবই কম।
সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে হাসেম খাঁ জানান, নদীতে নামার পরে কিছু ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তবে সংখ্যায় তা খুবই কম থাকে। জালে ধরা পড়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ, যা দিয়ে কোনওভাবে খরচ উঠাতে হচ্ছে।
বহরিয়া এলাকার জেলে আজগর ঢালী মন্তব্য করেন, এখন মাত্র বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। এই সময়ে অন্যান্য বছর ইলিশের আমদানি কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এ বছর তা অনেকটাই কমেছে। একেবারে ছোট সাইজের ইলিশেরও সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। জালে সাধারণত ৬শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি ধরা পড়ে।
ইলিশের বাজার দর সম্পর্কিত তথ্য জানালেন হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইব্রাহীম ও আব্দুল মান্নান।
তারা বলছেন, ইলিশের সঙ্গে পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের আমদানি কমে গেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেড়ে গেছে।
একই ঘাটের অপর আড়ৎ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল মন্তব্য করেন যে, ইলিশের দাম অধিক হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। গত বছর এই মাছ ঘাটে ইলিশ আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। অনেক আড়তের ইলিশ বর্তমানে শহরে পাঠানো হচ্ছে।
শহরের নতুন বাজার থেকে আসা ক্রেতা আব্দুল বারেক বলেন, মাছ ঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হচ্ছে। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বাসসকে বলেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম। জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আমদানি হলেও চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে।
তিনি জানান, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকার মধ্যে। ৭ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় এবং ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকার মধ্যে। তবে আমদানি বেড়ে গেলে দামও কমবে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসসকে জানিয়েছেন, ইলিশের আমদানি সংখ্যায় কমেনি। জেলেদের জালে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে, সেগুলোর গড় ওজন এবং সাইজে ছোট। এই কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে এটি যেন অনেক বেশি নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করায় গত কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে এবং আরও বাড়তে পারে যদি নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবুচর, ইলিশের খাবার সংকটসহ নানা কারণে এখন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কমে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে, বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত আকাশচুম্বী ভবন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনায় উঠে দুই তরুণ-তরুণী বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার এই ঘটনাটি ঘটে।
অবাক করা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই ঘটনার পর রুশ প্রেমিক ও প্রেমিকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
শত শত মিটার উঁচুতে, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া তাদের এই সাহসী কর্মকাণ্ড ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক এবং মুখোশ পরা ওই যুগল কোনও ধরনের নিরাপত্তা দড়ি ছাড়াই অ্যান্টেনার সরু ধাতব কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে পরস্পরকে চুম্বন করছেন।
এ সময় তারা একটি ব্যানারও উড়িয়ে দেন, যার ওপর লেখা ছিল, “যখন ভালোবাসার শক্তি ক্ষমতার প্রতি লোভ-লালসাকে পরাজিত করবে, তখনই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।”
চূড়ায় হাঁটু গেড়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তারা ব্যানারটি গুটিয়ে নামতে শুরু করেন। অ্যান্টেনার একটি প্রশস্ত অংশে পৌঁছে তাদের একজন একটি আলোকচিত্র ধারণের সরঞ্জাম স্থাপন করেন এবং অপরজনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
পরে তারা আবারও একে অপরকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করেন এবং নারী আরোহীকে বাম হাত উঁচিয়ে আংটি দেখিয়ে সেলফি তুলতেও দেখা যায়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের জরুরি সেবা ইউনিটের সদস্যরা অ্যান্টেনায় উঠে ওই যুগলের কাছে পৌঁছান।
পুলিশের বডি ক্যামেরার ভিডিওতে একজন কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এখানে থাকতে পারেন না।”
এদিকে যুগলের একজন উত্তর দেন, “আমাদের বাগদান হয়ে গেছে।”
কিছুক্ষণ পর তারা শান্তভাবে নিচে নেমে আসেন এবং পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ওই দুজনের নাম অ্যাঞ্জেলিনা নিকোলাউ এবং ইভান কুজনেৎসভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা যথাক্রমে অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বিয়ারকুস নামে পরিচিত।
তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং অন্যান্য অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে।
এ যুগল ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র ‘স্কাইওয়াকারস: একটি প্রেমের গল্প’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায়।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে তাদের বিভিন্ন উঁচু ভবন ও স্থাপনায় অনুমতি ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে আরোহণের কথা দেখানো হয়েছে। অনেক সময় তারা নির্মাণশ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে এসব স্থানে প্রবেশ করতেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনার এই আরোহণটি সম্পূর্ণ অননুমোদিত ছিল। তবে কীভাবে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে অ্যান্টেনায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে প্রবেশের সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয় এবং বড় ব্যাগ, ক্রীড়া সরঞ্জাম, মুখোশসহ বিভিন্ন সামগ্রী বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণ ডেকে থাকা পর্যটকরা দুই আরোহীকে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করতে দেখে। প্রথমে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তারা ভবনের কর্মী।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আসা পর্যটক জোনাথন রোমান বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। মনে হচ্ছিল সিনেমার দৃশ্য দেখছি।”
তিনি জানান, তিনি এবং তার ছেলে পর্যবেক্ষণ ডেকে ওঠার টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু ঘটনার কারণে ভবনের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি বলেন, “সম্ভবত এটি পর্যবেক্ষণ ডেকে দ্বিতীয়বার ওঠার চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।”
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনায় আগে আরও কয়েকবার দুঃসাহসিক আরোহণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল অননুমোদিত।
শুধু ২০২৩ সালে অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী জ্যারেড লেটো একটি কনসার্ট সফরের প্রচারণার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভবনটির ৮৬তম তলা থেকে অ্যান্টেনার নিচের অংশ পর্যন্ত আরোহণ করেছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের ওপারে বিমান হামলার পর সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তপথে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি স্থল ও নৌ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল পরিচালিত হয়েছে। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহলও জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘটন desembedo
এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি দফা বিমান হামলার বিকট শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে আবারো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন ভূমিকম্প হয়েছে এবং তারা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারের বিস্ফোরণের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তবে বাংলাদেশে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানিয়েছেন, বুধবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে, একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ অভিযোগ করেছেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এমনটাই তিনি দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, চলমান হামলার কারণে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া সীমান্তে অহেতুক ঘোরাঘুরি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং ও রাথেডং টাউনশিপসসহ কয়েকটি জায়গা থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দেয় আরাকান আর্মি। বর্তমানে এসব এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করেছে। একই সময়ে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ