প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের আমদানি কমে গেছে। তবে স্থানীয় জেলেদের আহোরিত ইলিশের দাম খুবই চড়া হয়ে উঠেছে। এই দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্রেতা অবশ্য দরদাম করে ইলিশ না কিনেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক কেজি ওজনের ইলিশ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকার মধ্যে। আর দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেছেন, আমদানি বাড়লে দাম আরও কমে আসবে। মৎস্য বিভাগ জানাচ্ছে যে, ইলিশের আমদানি কমেনি, তবে মাছের গড় সাইজ ছোট হয়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কিছু সময় ঘাটে উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, সড়ক ও নৌপথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি নেই। শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসছে আড়তে, যা সংখ্যায় খুবই কম।
সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে হাসেম খাঁ জানান, নদীতে নামার পরে কিছু ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তবে সংখ্যায় তা খুবই কম থাকে। জালে ধরা পড়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ, যা দিয়ে কোনওভাবে খরচ উঠাতে হচ্ছে।
বহরিয়া এলাকার জেলে আজগর ঢালী মন্তব্য করেন, এখন মাত্র বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। এই সময়ে অন্যান্য বছর ইলিশের আমদানি কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এ বছর তা অনেকটাই কমেছে। একেবারে ছোট সাইজের ইলিশেরও সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। জালে সাধারণত ৬শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি ধরা পড়ে।
ইলিশের বাজার দর সম্পর্কিত তথ্য জানালেন হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইব্রাহীম ও আব্দুল মান্নান।
তারা বলছেন, ইলিশের সঙ্গে পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের আমদানি কমে গেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেড়ে গেছে।
একই ঘাটের অপর আড়ৎ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল মন্তব্য করেন যে, ইলিশের দাম অধিক হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। গত বছর এই মাছ ঘাটে ইলিশ আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। অনেক আড়তের ইলিশ বর্তমানে শহরে পাঠানো হচ্ছে।
শহরের নতুন বাজার থেকে আসা ক্রেতা আব্দুল বারেক বলেন, মাছ ঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হচ্ছে। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বাসসকে বলেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম। জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আমদানি হলেও চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে।
তিনি জানান, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকার মধ্যে। ৭ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় এবং ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকার মধ্যে। তবে আমদানি বেড়ে গেলে দামও কমবে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসসকে জানিয়েছেন, ইলিশের আমদানি সংখ্যায় কমেনি। জেলেদের জালে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে, সেগুলোর গড় ওজন এবং সাইজে ছোট। এই কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে এটি যেন অনেক বেশি নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করায় গত কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে এবং আরও বাড়তে পারে যদি নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবুচর, ইলিশের খাবার সংকটসহ নানা কারণে এখন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কমে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন