০৭:২৯ পি.এম
পার্বত্যাঞ্চলে অবাধে বাঁশকোড়ল (চারাবাঁশ) সংগ্রহ এবং নির্বিচারে বাঁশ নিধনের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশ বিলুপ্তির পথে রয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ বছর আগে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রাকৃতিক পেঁয়াবাঁশ, মূলিবাঁশ, মিতাবাঁশ, ওড়াবাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বাঁশের জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত সুপরিচিত ছিল। কিন্তু বহুদিন ধরে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার, বাজারজাতকরণ এবং নির্বিচারে বাঁশ কাটার ফলে এসব বাঁশের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল কেটে আগুনে পুড়িয়ে জুমচাষ করার কারণে প্রাকৃতিক বাঁশবনও ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে মূল্যবান এই বাঁশসম্পদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এসব বাঁশ ব্যবহৃত হয়।
পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বাঁশকোড়ল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাদ্য। তারা বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে এটি সবজি হিসেবে গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বাঁশকোড়ল সমৃদ্ধ স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর হয়ে থাকে। শুধু পাহাড়িরাই নয়, অনেক বাঙালিও বাঁশকোড়ল খেতে পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
স্থানীয়ভাবে বাঁশকোড়লের বিভিন্ন নাম রয়েছে। মারমা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘মেহ্যাং’, ত্রিপুরাদের কাছে ‘মেওয়া’, চাকমা ভাষায় ‘বাচ্ছুরি’ এবং তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘বাচ্ছুই’ নামে পরিচিত। এটি মূলত বাঁশের গোড়া থেকে গজিয়ে ওঠা কচি ও নরম অংশের একটি নাম।
বন বিভাগ প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য বাঁশকোড়ল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এর ফলে বাঁশের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।
পাহাড়ি সাংবাদিক শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, পাহাড়িদের কাছে বাঁশকোড়ল একটি অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার এবং এটি তারা নিয়মিত সবজি হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ বন্ধ না হলে নতুন বাঁশ গজানোর সুযোগ এনসেস হবে। ফলে ভবিষ্যতে বাঁশের সংখ্যা কমে যাবে এবং বাঁশনির্ভর বিভিন্ন শিল্প ও প্রয়োজনীয় কাজে সংকট দেখা দেবে। তদুপরি, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ ও বাঁশ নিধন বন্ধে স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণার প্রয়োজন আছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাস সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারণ এই সময় বাঁশের বংশবিস্তারের মৌসুম। এর প্রেক্ষিতে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের উদ্যোগে প্রতিটি রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয়দের বোঝানো হচ্ছে যে, বাঁশকোড়ল সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে তারা বেশি উপকৃত হবেন এবং প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশসম্পদও রক্ষা পাবে।
তিনি জানান, পার্বত্যাঞ্চলের মূল্যবান বাঁশসম্পদ সংরক্ষণ ও নতুন নতুন বাঁশবন গড়ে তুলতেও বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন