সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
ফ্রি কিকে গোল করা লিওনেল মেসির জন্য যেন একটি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রোববার কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে যে কোণ থেকে গোলটি করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা, সেটি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। প্রায় অসম্ভব এক কোণ থেকে নেওয়া মেসির বাঁ পায়ের ফ্রি কিক জালে জড়ালেও, শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমের গোলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইন্টার মায়ামিকে।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইটের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় কলম্বাস। ২৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হওয়া জোসেফ মার্তিনেজ স্পট কিক থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন।
তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। ডান প্রান্তরেখা থেকে প্রায় ৭ গজ দূরত্বে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ এক শটে বল জালে পাঠান তিনি। মেসির বাঁ পায়ের বাঁকানো শট গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্টের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের ওপর দিয়ে, ক্রসবারের নিচ দিয়ে এবং পেছনের পোস্ট ঘেঁষে সাইড-নেটে গিয়ে লাগে।
প্রথমার্ধে মায়ামির একমাত্র শট ছিল মেসির সেই ফ্রি কিক।
দ্বিতীয়ার্ধেও মেসি একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। ৬২ মিনিটে তার শট ঠেকিয়ে দেন শুল্টে। পরে আরও দুটি শট পোস্টে রাখলেও গোলের দেখা পাননি মায়ামির অধিনায়ক।
ম্যাচের একপর্যায়ে ডেভিড আয়ালা গোল করলেও সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় মায়ামির।
পুরো ম্যাচে অবশ্য আক্রমণে আধিপত্য ছিল কলম্বাসের। স্বাগতিকরা নেয় ১৪টি শট, যেখানে মায়ামির শট ছিল মাত্র পাঁচটি। লক্ষ্যে কলম্বাসের সাতটি শটের বিপরীতে মায়ামি রাখতে পারে তিনটি। মায়ামির গোলরক্ষক চারটি সেভ করলেও, শেষ পর্যন্ত দলকে রক্ষা করতে পারেননি।
ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে জামাল তিয়ারের শটে জয় নিশ্চিত করে কলম্বাস। এর মাত্র দুই মিনিট আগে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মায়ামির সান্তিয়াগো মোরালেস। ফলে ম্যাচের শেষটা ১০ জন নিয়ে করতে হয় মায়ামিকে।
এটি চলতি মৌসুমে মায়ামির দ্বিতীয় হার। তবে শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়ায় দলটির ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ল। ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে মায়ামি। কয়েক সপ্তাহ আগেও দলটি ছিল মেজর লিগ সকারের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
নিয়মিত মৌসুমের আর সাত ম্যাচ বাকি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে মায়ামি এখন পিছিয়ে ১৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে, এই জয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ পেয়েছে কলম্বাস। ২৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে দ্বাদশ স্থানে, প্লে-অফের জায়গা থেকে চার পয়েন্ট দূরে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর তার মরদেহ সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দেওয়া এবং সেখানে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে।
প্রায় দুই বছর পর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান।
অভিযুক্তদের মধ্যে আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে।
চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে রেহানা পারভীন অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার স্বামী আওলাদ হোসাইন ২৯ জুন দেশে ফেরেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিপুল সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর আমজাদ তার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন। একপর্যায়ে আওলাদ রেহানার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হত্যার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত করে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনা গোপন করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রেহানার নিখোঁজের ঘটনায় তার মা আইরিন আক্তার অপহরণ মামলা করেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের ধারায় রূপান্তর করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। তবে সেখানেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে আওলাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলায় আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন। আর জামিনে রয়েছেন দুই বোন পাপিয়া ও মাকসুদা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে, যা বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
ইতোমধ্যে লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।
চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।
খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
মিল দুটি হলো- ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মামুনুর রশিদ আরও বলেন, চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।
পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে তীব্রভাবে আঘাত হেনেছে অসময়ের শক্তিশালী ‘নর-ইস্টার’ ঝড়। নিউ ইয়র্ক, বোস্টন এবং ফিলাডেলফিয়া সহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে অন্তত একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এক লাখেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটেছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়াও, প্রায় ছয় হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে বলে ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে পার্কিং লট দিয়ে হাঁটার সময় গাছ ভেঙে পড়ে এক আবাসন কর্তৃপক্ষের কর্মী নিহত হওয়ার খবর স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, পূর্ব উপকূলে কয়েক দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসছে। নিউ ইয়র্কের মন্তক পয়েন্টে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮১ মাইল বেগে বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে। পরে বাতাসের গতি কমে ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ মাইলে নেমে এসেছে।
ঝড়ের প্রভাবে উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলীয় হাইওয়ে ১২-এর একটি অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় বাসিন্দাদের কায়াক ব্যবহার করে চলাচল করতে দেখা গেছে।
সাধারণত বছরের শেষভাগ থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত ‘নর-ইস্টার’ ঝড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে এবার মৌসুমের আগেই শক্তিশালী এই ঝড় আঘাত হানায় পূর্ব উপকূলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। কানাডা থেকে আসা শীতল আর্কটিক বাতাস এবং আটলান্টিকের তুলনামূলক উষ্ণ বাতাসের সংঘাতে এ ধরনের শক্তিশালী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো বিদ্যমান থাকলেও, সেবা কার্যক্রম চলছে ৩১ শয্যার জনবল ও ব্যবস্থাপনায়। দীর্ঘকাল ধরে চলমান জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে, সরকারি এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে চিকিৎসা সেবার এই হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ফিল্মের সংকটের কারণে এক্স-রে পরীক্ষা প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্যাথলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় কেমিকেলের অভাব এবং জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও, জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ভর্তি রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষে তালা ঝুলছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রায় দেড় মাস ধরে এক্স-রে ফিল্মের বরাদ্দ না থাকায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করাতে আসা রোগীদের হাসপাতালে বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্যত্র যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে নানা সংকট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একজন দায়িত্বশীল জানান, ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্যাথলজিতে মাত্র দুজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীদের রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রিপোর্ট প্রস্তুত সব কাজ দুজনকেই করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কেমিকেলের সংকট রয়েছে।
হাসপাতালের নতুন ভবনের প্রবেশপথে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বাম পাশে ইটের দেয়াল ঘেঁষে টয়লেটের নোংরা পানি রাস্তায় জমে আছে। এতে ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না।
নতুন ভবনের সিঁড়ির নিচে একটি নতুন জেনারেটরের দেখা মেলে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে একদিন জেনারেটরটি চালু করা হয়েছিল। এরপর জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ভর্তি রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের পশ্চিম পাশে গ্যারেজে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকের সংকট দীর্ঘদিনের। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক রাকিব একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও চালাচ্ছেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনের সময় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া ও তাৎক্ষণিকভাবে রোগী পরিবহন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি লালপুর, আড়ানীসহ পাশবর্তী বিভিন্ন উপজেলার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শেষ ভরসা। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধার সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম। চিকিৎসক তাকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিলেও, হাসপাতালের প্যাথলজিতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এতে হতাশ হয়ে তাকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে হয়। তিনি বলেন, "ডায়াবেটিসের মতো সাধারণ একটি পরীক্ষাও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের বারবার যাতায়াত করতে হয়, যা বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন উপজেলার গালিমপুর গ্রামের তোসাদ্দেক সরকার বলেন, "চিকিৎসক রোগীকে এক্স-রে করিয়ে আনতে বলেন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এক্স-রে করাই। রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসতে দুপুর পার হয়ে যায়। পরে এসে দেখি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আর নেই। ফলে রোগীকে নিয়ে আবার পরদিন আসতে হবে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব সংকটের বিষয়ে জানতে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, "স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে। তবে এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সরঞ্জাম অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। এ প্রক্রিয়ার কারণে অর্থবছরের শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ