ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এপস্টেইনের মৃত্যুর নতুন রহস্য, আসছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ


এপস্টেইনের মৃত্যুর নতুন রহস্য, আসছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ

জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। এক ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা এবং হত্যাকাণ্ড—দুই সম্ভাবনাই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ মাইকেল ফ্রিম্যান তার ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আগামী ১৬ নভেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে এ বিষয়ে তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এর পরেই গবেষণা ও নিউইয়র্ক নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের ময়নাতদন্তের নথি প্রকাশ করা হবে।

মার্ক এপস্টেইন বলেন, ফ্রিম্যানের বিশ্লেষণ তার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, সেটি নতুন করে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার দাবি, যদি এ ধরনের বিশ্লেষণ আগে করা হতো, তাহলে হয়তো মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত করা হতো না।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

মার্ক আরও জানান, প্রতিবেদনটি তার অনুরোধে করা হয়নি। গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগে এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে কিছু বিষয়কে অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর ঘটনাস্থলে এপস্টেইনের মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং যে কাপড় বা ফাঁসের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি সংরক্ষণ বা পরীক্ষা না করা।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ক্ষেত্রে বিছানার চাদর ব্যবহার করে ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের ধরন নিয়ে শারীরিক গতিবিদ্যার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এমন কিছু ছবিও পর্যালোচনা করেছেন, যেগুলোতে চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা না করা কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে ফ্রিম্যান এখনই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা, নয়তো হত্যাকাণ্ড—দুটি সম্ভাবনার একটিই সত্য হতে পারে। তার আসন্ন বক্তব্যে দুই সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ফ্রিম্যান ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যার একজন অধ্যাপক এবং একটি আন্তর্জাতিক ফরেনসিক ও আইনবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি মেরিল্যান্ডের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।

২০১৯ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু ঘটে। তখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলা চলছিল। নিউইয়র্কের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে।

তবে তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক বিদ্যমান। সম্প্রতি এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে পাস হওয়া ওই আইনের আওতায় এপস্টেইন ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিপুলসংখ্যক তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

এর আগে মে মাসে একজন ফেডারেল বিচারক এপস্টেইনের মৃত্যুর এক মাসেরও কম সময় আগে লেখা একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে একটি হত্যা মামলার অংশ হিসেবে চিঠিটি আদালতে জমা দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।

এপস্টেইনের সাবেক কারাবন্দি নিকোলাস টারটাগ্লিওনি দাবি করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরদিন সকালে একটি বইয়ের ভেতর তিনি ওই চিঠিটি পান এবং পরে তাঁর আইনজীবীদের কাছে দেন।

হাতে লেখা ওই চিঠিতে দেখা যায়, এপস্টেইন লিখেছিলেন—তাকে এক মাস ধরে তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি এবং ১৫ বছর আগের অভিযোগের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে ‘বিদায় বলার সময়’ এবং ‘কোনো আনন্দ নেই—মূল্য নেই’—এ ধরনের কথাও লেখা ছিল।

এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন ফরেনসিক বিশ্লেষণ সামনে আসার পর সেই পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রুনাইয়ে সরকারিভাবে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


ব্রুনাইয়ে সরকারিভাবে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে সরকারিভাবে ব্রুনাইয়ে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।

চাকরির বিবরণ

কোম্পানির নাম: Unity Land Sdn Bhd

পদের নাম ও পদসংখ্যা

১. কাঠমিস্ত্রি–২০

২. নির্মাণশ্রমিক–৭০

৩. রাজমিস্ত্রি–২০

৪. ইলেকট্রিশিয়ান–৫

৫. ট্রাক ড্রাইভার–২

৬. ভারী যানবাহন চালক–২

৭. অপারেটর–৪

৮. প্লাম্বার–১০

৯. ওয়েল্ডার–১৫

বেতন/মজুরি (ব্রুনেই ডলার)

১ থেকে ৩ নম্বর পদে ২০ ডলার (২,৪৫৮.৮৫ টাকা) বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪ থেকে ৯ নম্বর পদে ২২ ডলার (২,৭০৪.৭২ টাকা) বেতন দেওয়া হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।

বয়স

আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

অন্যান্য সুবিধা

কোম্পানি কর্মীদের থাকার খরচ বহন করবে, এবং বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তা প্রদান করবে।

অভিজ্ঞতা

আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

আবেদন করতে হবে brms.boesl.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। আবেদন ফি ১০০ টাকা।

নিয়োগকর্তা কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলে বোয়েসেলের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ দক্ষ কর্মীদের ৫৬,৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে। আধা-দক্ষ/অদক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৪৪,৮৫০ টাকা জমা দিতে হবে।

দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত ভিসা ফি এবং বাংলাদেশের মেডিক্যাল টেস্টের ফি কর্মীদের বহন করতে হবে।

শর্তাবলী

১. শ্রম চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর এবং এটি নবায়নযোগ্য।

২. কর্মঘণ্টা হবে দৈনিক ৮ ঘণ্টা ডিউটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থসমন্বয় ও মাইলেজ মিলিয়ে বিমানের টিকিট কেনার সুযোগ ঘোষণা আমেরিকান এয়ারলাইনসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


অর্থসমন্বয় ও মাইলেজ মিলিয়ে বিমানের টিকিট কেনার সুযোগ ঘোষণা আমেরিকান এয়ারলাইনসের

আমেরিকান এয়ারলাইনস বিমানের টিকিট কেনার জন্য এবার অর্থসমন্বয় (mix cash) ও মাইলেজ (airline miles) একত্রে ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করছে। এই নতুন সুবিধার মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের কাছে থাকা মাইলেজের সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে নগদ অর্থ মিশিয়ে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বার্তায় মার্কিন বিমান সংস্থাটি এই সুবিধার ঘোষণা করেছে। প্রাথমিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের আনুগত্য কর্মসূচির সদস্যরা অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

তবে, আলাস্কা এবং হাওয়াই থেকে অথবা এসব গন্তব্যে যাওয়া ফ্লাইটের জন্য এই সুবিধাটি প্রযোজ্য হবে না। সংস্থাটি ভবিষ্যতে আরও বেশি রুটে এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে।

আমেরিকান এয়ারলাইনস আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সুবিধাটি চালু করবে। তবে, এটি কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

অর্থসমন্বয় (mix cash) ও মাইলেজ (airline miles) মিলিয়ে টিকিট কেনার জন্য সদস্যদের সংস্থাটির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। পছন্দের ফ্লাইট নির্বাচন করার পর, টিকিট ক্রয়ের সময় তাদের কাছে থাকা টাকা ও মাইলেজ ব্যবহারের বিভিন্ন বিকল্প দেখানো হবে। একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা কত টাকা এবং কত মাইলেজ ব্যবহার করবেন, তা নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করতে পারবেন।

ডেল্টা এয়ারলাইনস এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী বিমান সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে একই ধরনের সুবিধা প্রদান করছে।

এদিকে, মার্কিন বিমান সংস্থাটি চলতি সপ্তাহে বাজারে নিজেদের অংশ বাড়ানোর জন্য আরও একটি বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী বিমান সংস্থার আনুগত্য কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট মর্যাদা থাকা যাত্রীরা আমেরিকান এয়ারলাইনসে সমপর্যায়ের মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

যাত্রীদের ডেল্টা স্কাইমাইলস, জেটব্লু ট্রুব্লু বা অন্য কোনো পুরস্কার কর্মসূচিতে থাকা নিজেদের মর্যাদার প্রমাণ দিতে হবে। এরপর আমেরিকান এয়ারলাইনস তাদের চার মাসের জন্য সমপর্যায়ের মর্যাদা প্রদান করবে।

এদিকে, ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিমানের টিকিটের দামেও প্রভাব পড়েছে। উড়োজাহাজ পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানিতে খরচ হয়।

চলতি ছুটির মৌসুমে বিমানের ভাড়া গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ভ্রমণভাড়া পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান হপার জানিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, থ্যাংকসগিভিং ছুটির সময় যাওয়া-আসার বিমানের ভাড়া গত বছরের তুলনায় ইতোমধ্যে ৩১ শতাংশ বেড়ে গেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যামাজন গ্রাহকদের ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরতের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


অ্যামাজন গ্রাহকদের ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরতের ঘোষণা

অ্যামাজনের প্রাইম সেবার কিছু গ্রাহক এবার সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরতের সুবিধা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বাণিজ্য কমিশনের সঙ্গে করা ২৫০ কোটি ডলারের সংশোধিত সমঝোতার আওতায় গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে প্রাইম সেবায় যুক্ত করার অভিযোগে এই অর্থ ফেরত দিচ্ছে অ্যামাজন।

ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন জানায়, পূর্বের তুলনায় এবার আরও অধিক সংখ্যক গ্রাহক অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ফেরতের পরিমাণ ৫১ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ২০০ ডলার করা হয়েছে।

বর্তমান বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অ্যামাজন গ্রাহকদের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দিয়েছে। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, গ্রাহকদের মোট ১৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অ্যামাজনকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৩ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৩ জুনের মধ্যে প্রাইম সেবায় যুক্ত হওয়া গ্রাহকরা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, যারা এক বছরে ১০টির কম প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করেছিলেন, কেবল তাদের অর্থ ফেরতের আওতায় রাখা হয়েছিল।

সংশোধিত নিয়মে এক বছরে সর্বোচ্চ ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকরাও অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে কয়েক লাখ নয়, বরং লাখো গ্রাহক নতুনভাবে অর্থ ফেরতের জন্য যোগ্য হয়েছেন বলে জানায় ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন।

অতিরিক্ত যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া বৃহস্পতিবার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু করেছে অ্যামাজন। একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন।

এছাড়া ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত অর্থ ফেরতের লক্ষ্য পূরণ না হলে, যারা ইতোমধ্যে এই সমঝোতার আওতায় অর্থ পেয়েছেন, তাদের আরও ১৪৯ ডলার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সব যোগ্য গ্রাহককে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বৈদ্যুতিন মাধ্যমে। এর মধ্যে ভেনমো বা পেপালের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতে পারে। এছাড়া ডাকযোগে চেকও পাঠানো হবে।

ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন জানিয়েছে, অর্থ ফেরত পেতে গ্রাহকদের কোনো আবেদন করতে হবে না। কোনো নোটিশের জবাব দেওয়ার বা কাগজপত্র পূরণের প্রয়োজন নেই।

অ্যামাজনই পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। কমিশনের নাম ব্যবহার করে কেউ অ্যামাজনের অর্থ ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেটি প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বসনিয়া জাতীয় দলের বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশে জেকোর শেষ ম্যাচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


বসনিয়া জাতীয় দলের বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশে জেকোর শেষ ম্যাচ

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জার্সিতে ১৫১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর, কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এডিন জেকো জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। সুইডেনের বিরুদ্ধে জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে তিনি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন। ‘সোয়ান অব সারাজেভো’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ডের বিদায়ের সময় পুরো স্টেডিয়ামে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গ্যালারিতে সমর্থকদের চোখে অশ্রু দেখা যায়, এবং মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এই কিংবদন্তিকে।

জেকোর বিদায়ী ম্যাচে বসনিয়ার সমর্থকগোষ্ঠী ‘বিএইচ ফ্যানাটিকোস’ বিশেষ কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে দেশের অন্যতম সেরা ১১ নম্বর জার্সিধারীকে সম্মান জানান। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভিএআরের সিদ্ধান্তে তার একটি দুর্দান্ত গোল বাতিল হওয়ায় বিদায়ের রাতটি স্মরণীয় হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরে, ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শক ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান জেকো। ম্যাচটি ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়।

জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন জেকো। তিনি উল্লেখ করেন, বসনিয়ার জার্সির প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি এবং তিনি মনে করেন, সরে দাঁড়ানোর জন্য এ সময়টিই উপযুক্ত। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রসঙ্গ টেনে জেকো জানান, তিনি দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ঐতিহাসিক অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জেকো। সারাজেভোর যুদ্ধের বিভীষিকা পেরিয়ে উঠে আসা এই ফুটবলার সময়ের সঙ্গে দেশের ফুটবলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। গোল করার দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্সের জন্য তিনি বসনিয়ার মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেন।

বিদায়ী ম্যাচ শেষে বসনিয়া ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে জেকোর সম্মানে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মানবতাবাদী সংস্থা ‘Pomozi.ba’-এর সহযোগিতায় একটি দাতব্য উদ্যোগও নেওয়া হয়। মাঠে শেষবারের মতো সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেওয়ার সময় গ্যালারি থেকে মাঠে হাজার হাজার নরম খেলনা বা সফট টয় ছুড়ে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলনাগুলো পরে দেশের এতিমখানাগুলোতে বিতরণ করা হবে।

জেকোর এই বিদায় কেবল একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়; এটি বসনিয়ার ফুটবল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও অবসান। দেশের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলা শেষে আবেগ, ভালোবাসা ও সম্মানের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের প্রিয় এই তারকা।

সূত্র: গোলডটকম

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%