প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জার্সিতে ১৫১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর, কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এডিন জেকো জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। সুইডেনের বিরুদ্ধে জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে তিনি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন। ‘সোয়ান অব সারাজেভো’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ডের বিদায়ের সময় পুরো স্টেডিয়ামে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গ্যালারিতে সমর্থকদের চোখে অশ্রু দেখা যায়, এবং মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এই কিংবদন্তিকে।
জেকোর বিদায়ী ম্যাচে বসনিয়ার সমর্থকগোষ্ঠী ‘বিএইচ ফ্যানাটিকোস’ বিশেষ কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে দেশের অন্যতম সেরা ১১ নম্বর জার্সিধারীকে সম্মান জানান। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভিএআরের সিদ্ধান্তে তার একটি দুর্দান্ত গোল বাতিল হওয়ায় বিদায়ের রাতটি স্মরণীয় হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরে, ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শক ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান জেকো। ম্যাচটি ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়।
জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন জেকো। তিনি উল্লেখ করেন, বসনিয়ার জার্সির প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি এবং তিনি মনে করেন, সরে দাঁড়ানোর জন্য এ সময়টিই উপযুক্ত। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রসঙ্গ টেনে জেকো জানান, তিনি দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ঐতিহাসিক অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জেকো। সারাজেভোর যুদ্ধের বিভীষিকা পেরিয়ে উঠে আসা এই ফুটবলার সময়ের সঙ্গে দেশের ফুটবলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। গোল করার দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্সের জন্য তিনি বসনিয়ার মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেন।
বিদায়ী ম্যাচ শেষে বসনিয়া ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে জেকোর সম্মানে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মানবতাবাদী সংস্থা ‘Pomozi.ba’-এর সহযোগিতায় একটি দাতব্য উদ্যোগও নেওয়া হয়। মাঠে শেষবারের মতো সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেওয়ার সময় গ্যালারি থেকে মাঠে হাজার হাজার নরম খেলনা বা সফট টয় ছুড়ে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলনাগুলো পরে দেশের এতিমখানাগুলোতে বিতরণ করা হবে।
জেকোর এই বিদায় কেবল একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়; এটি বসনিয়ার ফুটবল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও অবসান। দেশের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলা শেষে আবেগ, ভালোবাসা ও সম্মানের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের প্রিয় এই তারকা।
সূত্র: গোলডটকম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন