০৬:৪১ পি.এম
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে সমকামী সাজিয়ে প্রতারণায় জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ভুয়া নথি, সাজানো ছবি এবং সম্পর্কের প্রমাণ তৈরি করে দিত। আবেদনকারীদের কাছ থেকে তারা সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকার সমান।
প্রধানত, বাংলাদেশে ফিরে গেলে জীবননাশের ঝুঁকি রয়েছে— এই মিথ্যা দাবি তুলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি পুরুষের ভুয়া অ্যাসাইলাম আবেদন তৈরিতে সরাসরি সহায়তা করেছে এই প্রতারক চক্রটি।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরের দিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত বিবিসির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর এই অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের সময় দুজনকে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, গহনা এবং কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। আরেকজনকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে চক্রটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০০টিরও বেশি আশ্রয়ের আবেদন পুনর্মূল্যায়ন করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে, এই ভুয়া আশ্রয় আবেদনগুলোর মধ্যে কিছু হয়তো ‘কোনো সন্দেহ ছাড়াই’ অনুমোদন পেয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, তারা এই ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনগুলোর সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামের একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনাকারীরা সন্দেহজনক আবেদনগুলোর মধ্যে একই প্যাটার্ন বা ধরন শনাক্ত করেছেন, যা এই সংগঠনটিকে ঘিরে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন অফিসাররা বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ক্রিস ফস্টার বলেন, "আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে তারা ভুয়া চিঠি ও নথিপত্র সরবরাহ করত। এজন্য তারা ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিত। আশ্রয় আবেদন করা ব্যক্তিদের ‘সমকামী’ পরিচয়কে সমর্থন দিতে ‘আপনজন’ থেকে চিঠি ইস্যু করা হতো। এছাড়া, আবেদনকারীরা যে সমকামী তা বোঝাতে সাজানো ছবি, সমকামীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব অথবা যৌন সম্পর্কে যুক্ত এমন ভুয়া প্রমাণাদি তৈরি করে দিচ্ছিলো চক্রটি।"
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিচারকেরা এর আগে ‘আপনজনের’ দেওয়া কিছু তথ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এমনকি সংগঠনটির সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দাবি করা এক আবেদনকারীর ছবিকে সাজানো বলে মনে করেছিলেন বিচারক।
উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাজ্যে প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী আশ্রয় আবেদনে জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
চলতি বছর বিবিসির এক অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যে ভুয়া সমকামী পরিচয় ব্যবহার করে আশ্রয় আবেদন তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। ওই অনুসন্ধানে আইনজীবী ও পরামর্শদাতাদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের সমকামী হিসেবে সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
বিবিসির অনুসন্ধানে তানিসা খান নামে এক পরামর্শদাতার কথাও উঠে আসে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কথোপকথনে তিনি সমকামী ক্লাবে তোলা ছবি ও অন্যান্য সহায়ক প্রমাণসহ একটি ‘সম্পূর্ণ প্যাকেজ’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার সঙ্গে ‘ওরচেস্টার এলজিবিটি’ নামের একটি কমিউনিটি সংগঠনের সম্পর্ক ছিল বলেও জানা গেছে। কিন্তু সংগঠনটি পরে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা। তানিসা খানও ভুয়া আবেদন বা জাল প্রমাণ তৈরির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন