বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৫১ পি.এম
২ জুলাই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার বিমান হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনের দিকে এক ব্যক্তি তাকিয়ে রয়েছেন। ছবি: এএফপি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্যতম বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে রাশিয়ার দ্বারা। রাতভর চলা এ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) শোক দিবস ঘোষণা করেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।
মেয়র ক্লিচকো মন্তব্য করেন, এটি কিয়েভের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। যদিও এর আগে কয়েকটি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল, তবে এবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সর্বাধিক সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। খবরটি জানিয়েছে বিবিসি।
হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। দক্ষিণ-পূর্ব কিয়েভের একটি বহুতল ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছেন।
দারনিৎসকি জেলায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশে বিশাল গর্ত সৃষ্টি করে, অপরটি নয়তলা ভবনের একাংশকে ধ্বংস করে দেয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভবনের বেজমেন্টে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাটি ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কয়েক দফায় চালানো হয়। প্রথমে ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক এলাকায় একটি হোটেলে আগুন লাগে। এরপর রাত ১টার দিকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কিছুক্ষণ বিরতির পর আবারও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভোর পর্যন্ত ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এক রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন রাজধানীর ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।
হামলায় আহত স্থানীয় বাসিন্দা ওলেক্সি বলেছেন, রাশিয়ার দাবি সত্য নয়। এটি ইউক্রেনের হামলার প্রতিশোধ নয়। যুদ্ধ শুরু করেছে রাশিয়াই। এটি একটি আবাসিক এলাকা এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা সভিতলানা জানিয়েছেন, এর আগেও রুশ হামলায় তিনি আহত হয়েছেন, তার মা নিহত হয়েছেন এবং পরে যুদ্ধে তার ছেলেও প্রাণ হারিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হবে। ইউক্রেন এ হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, আগ্রাসী রাষ্ট্র ও আত্মরক্ষাকারী রাষ্ট্রকে এক কাতারে দাঁড় করানো একেবারেই অনৈতিক। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর প্রতি আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার হামলার ধরন বদলেছে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতিটি অভিযান এখন দীর্ঘস্থায়ী, আরও শক্তিশালী এবং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো থেকে কৃষ্ণসাগর উপকূল পর্যন্ত রাশিয়ার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪৮ জন নামধারী নেতাকর্মীকে বিবাদী করে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এটি দায়ের করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত মো. মারজুক আব্দুল্লাহ।
অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ নালিশী মামলায় উপ-পুলিশ কমিশনার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বেশ কয়েকটি ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার প্রধান বিবাদী হচ্ছেন বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
এছাড়া বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুসহ ২৪৮ জন নামধারী এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সাবেক ১৬ নং ওয়ার্ডকাউন্সিলর এবং মামলার অন্যতম আসামী রাজিব হোসেন দাবি করেছেন, এ মামলা সম্পর্কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মামলার ২১২ নম্বর আসামী খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা ২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে মারা গেছেন। কিন্তু তিনি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে করা মামলার আসামী হিসেবে উল্লেখ আছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সময় আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে সড়ক অবরোধ করে মিছিল করছে। এতে দেশের শান্তি এবং শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। এছাড়া তাদের প্রতিহত করতে গেলে ককটেল ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের হত্যার হুমকি দেয়ার কারণে মামলাটি করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, একটি নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এনে স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল শেষে বিদায়ী এই জেলাপ্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে ঝাড়ুমিছিলের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ‘চুপিসারে’ তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন তাঁর নাম ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে। সরকারিভাবে গরিব, দুস্থ ও অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য আসা বিভিন্ন অনুদান ও বরাদ্দের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে লোপাট ও নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দের টাকা এবং বিভিন্ন খাতের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
দেশে তেল সংকটের সময় সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং কালোবাজারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থলোপাট করার অভিযোগ আনা হয়েছে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে।
বিদায়ী জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর স্কুল মাঠে মেলার অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি এই মেলা পরিচালনার অনুমতি দেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এই ঘটনাটি বরিশালজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
আজ দুপুর ১২টায় শত শত ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হাতে ঝাড়ুনিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দুর্নীতিবাজ এই ডিসির অনতিবিলম্বে বিচার করতে হবে এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার করতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুপুরের দিকে কার্যালয়ের সামনে ঝাড়ুমিছিল ও গণ-অসন্তोषের খবর পেয়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদায়ী জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন চুপিসারে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে তার দূরসম্পর্কের চাচা আলমগীর সিকদারকে (৫৫) দণ্ডিত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সময়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলেও রায়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আশরাফ উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্বকেশবকাঠী গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ সিকদারের সন্তান। আদালতের রায় ঘোষণার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্র জানায়, আদালত ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্রকে বহনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি এক লাখ টাকার জরিমানা অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য জেলার প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী নবম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রী। পারিবারিক পরিচয়ের সুবাদে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। ২০২২ সালের শেষ সময়ে বাড়িতে একা পেয়ে আলমগীর তাকে ধর্ষণ করেন। এই বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন তিনি। পরে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ পুনরায় তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তিনি ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২১ মে ভুক্তভোগীর বাবা উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানির পর আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করার আদেশ নিয়ে আসেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর বাবা দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় তার মেয়ে একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স তিন বছর এবং মা-ছেলে তার সঙ্গেই বসবাস করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই পা হারানোর পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ একজন দণ্ডিত আসামিকে বরিশালের আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। এ বিষয়ে আদালতের বিচারক পলি আফরোজ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে আইনজীবী ও বেঞ্চ সহকারী জানিয়েছেন।
ওই আসামি গৌরনদীর ভীমেরপাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম সরদার (৩৫)। তার চাচা জাকির সরদার জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলাম ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলার আসামি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে গিয়ে গত জানুয়ারি মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার ফলে তার দুটি পা কাটতে হয়েছে। ফলস্বরূপ তার পেছনের মাথা থেকে পিঠ এবং হাত ঝলসে গেছে। তার মাথাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। সৌদি আরবে চিকিৎসা শেষে তিনি গত মাসে দেশে ফিরে আসেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে পুলিশ দুই দিন আগে বাড়িতে যায়। তাদের তখন শারীরিক অবস্থা দেখে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশ আশা করেছিল, আদালত তার শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রেখে জামিন দেবেন। কিন্তু আদালতে নিয়ে আসার পর জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চাচা জাকির সরদার এবং অপর চাচা তরিকুলও উল্লেখ করেছেন, রফিকুলের সেবাযত্নের জন্য চারজন মানুষের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়াও, তার পায়ে সংক্রমণ হয়েছে। তিনি একা কিছু করতে অক্ষম। এমন অবস্থায় কারাগারে গেলে তার না খেয়ে থাকার পাশাপাশি সংক্রমণ আরও গুরুতর হয়ে যেতে পারে। রফিকুলের আইনজীবী একরামুজ্জামান জয় জানান, তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করবেন যাতে তিনি ন্যায়বিচার পান। আইন অনুযায়ী শুধুশাস্তির নয়, প্রতিকারের কথাও উল্লেখ আছে। তাকে সামনে থেকে দেখলে বোঝা যাবে তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম। তার দুটি পা নেই এবং শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে গেছে। আইনগত কার্যক্রমের জন্য একজন আসামিকে কারাগারে রাখা হয়। তবে এ পরিস্থিতিতে তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামিনের জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছিলাম, কিন্তু আদালত সেটি বিবেচনা করেনি। এখন আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।
প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল ইসলাম জানান, আসামি রফিকুল ইসলাম সরদারকে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে। আইন অনুযায়ী বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এই বিষয়ে মুক্তির সুযোগ নিম্ন আদালতের নেই। তবে উচ্চ আদালত চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। বরিশাল হাজতখানার এএসআই মো. আলমগীর বলেন, শুরুর দিকে আসামিকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কারা হাসপাতালে রাখার অনুমতি চাওয়া হয়। বিচারক সেই অনুমতি দিয়েছেন। এরপর পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বন্দরের এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় রফিকুল ইসলাম সহ দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশ দাবি করে, রফিকুলের প্যান্টের পকেট থেকে ৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উজিরপুর মডেল থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে সেই মামলায় তার অনুপস্থিতিতে আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ