১২:৫৩ এম
বরিশালের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এনে স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল শেষে বিদায়ী এই জেলাপ্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে ঝাড়ুমিছিলের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ‘চুপিসারে’ তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন তাঁর নাম ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে। সরকারিভাবে গরিব, দুস্থ ও অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য আসা বিভিন্ন অনুদান ও বরাদ্দের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে লোপাট ও নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দের টাকা এবং বিভিন্ন খাতের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
দেশে তেল সংকটের সময় সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং কালোবাজারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থলোপাট করার অভিযোগ আনা হয়েছে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে।
বিদায়ী জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর স্কুল মাঠে মেলার অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি এই মেলা পরিচালনার অনুমতি দেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এই ঘটনাটি বরিশালজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
আজ দুপুর ১২টায় শত শত ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হাতে ঝাড়ুনিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দুর্নীতিবাজ এই ডিসির অনতিবিলম্বে বিচার করতে হবে এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার করতে হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুপুরের দিকে কার্যালয়ের সামনে ঝাড়ুমিছিল ও গণ-অসন্তोषের খবর পেয়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদায়ী জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন চুপিসারে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন