বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৩ পি.এম
জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্প্যাংডাহলেম বিমানঘাঁটিতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে দুর্ঘটনার আগে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, দুর্ঘটনার পর পাইলটকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একটি বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী উল্লেখ করে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা কাজ করছেন।
জার্মানির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় চারটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশগ্রহণ করছিল। এর মধ্যে দুটি বিমান প্রশিক্ষণ এলাকায় অবস্থান করছিল, অন্য দুটি বিমান স্প্যাংডাহলেম বিমানঘাঁটির দিকে ফিরছিল।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘাঁটিতে অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একটি এফ-১৬ বিধ্বস্ত হয়। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রের রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছেন জার্মান কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লচনা এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন—শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের মাজদিহি এলাকার অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিং (২৩)। নিহত অপর দুই পুরুষের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের মিরপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘আলম এশিয়া’ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি অটোরিকশা লচনা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে সিএনজির ভেতরে থাকা তিনজন যাত্রী চাপা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভীদ রাইয়ান বিন শহিদ জানান, রাত ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান।
শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ওসি মামুনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, লাশগুলো বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ করে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে জেনেটিক কারণ ছাড়াও মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের চিকিৎসক রাশি সোনির মতে, তরুণদের চুল পড়ার পেছনে সবসময় একটি নির্দিষ্ট কারণ কাজ করে না। ব্যক্তির জেনেটিক প্রবণতা, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন সবকিছুরই প্রভাব থাকতে পারে।
জেনেটিক কারণ
কপালের দুই পাশ থেকে ধীরে ধীরে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। এটি সাধারণভাবে পুরুষদের বংশগত টাক পড়া হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসক রাশি সোনি বলেন, জেনেটিক কারণে কারও চুলের ফলিকল অ্যান্ড্রোজেন হরমোন, বিশেষ করে ডিএইচটির (DHT) প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে চুলের ফলিকল ছোট হয়ে যায় এবং চুল ধীরে ধীরে পাতলা ও ছোট হতে থাকে।
চুল পড়ার প্রবণতা শুধু মায়ের দিকের পরিবার থেকেই আসে এমন ধারণাও সঠিক নয়। পরিবারের উভয় দিকের জেনেটিক ইতিহাসই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত মানসিক চাপেও ঝরতে পারে চুল
পরীক্ষার চাপ, কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা, মানসিক দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, দ্রুত ওজন কমানো কিংবা কোনো অসুস্থতার প্রভাবেও অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুল একই সময়ে ঝরে পড়ার পর্যায়ে চলে যায়। অনেক সময় মানসিক চাপ বা অসুস্থতার কয়েক মাস পর চুল পড়া শুরু হয়। ফলে চুল পড়ার সঙ্গে আগের কোনো শারীরিক বা মানসিক চাপের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বুঝতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ক্রিয়েটিন খেলেই কি চুল পড়ে?
জিমে নিয়মিত ব্যায়াম করা তরুণদের মধ্যে ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে চুল পড়ার আশঙ্কা দেখা যায়। তবে চিকিৎসকের মতে, ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার কারণ এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ক্রিয়েটিন নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো কিছু গবেষণায় ডিএইচটি মাত্রার পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে আসা। তবে কোনো হরমোনের মাত্রা বাড়লেই তা সরাসরি চুল পড়ে যাওয়ার কারণ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
খাদ্যাভ্যাসেও নজর জরুরি
অপর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, অতিরিক্ত কড়াকড়ি ডায়েট কিংবা আয়রনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। পুষ্টির ঘাটতি বা শারীরিক চাপের সময় শরীর প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়। এতে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
তবে চুল পড়া শুরু হলেই নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। চুল পড়ার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০-এর কোঠাতেই চুল পড়া শুরু হলে শুধু বয়স কম এমনটা ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার ধরন, পারিবারিক ইতিহাস, সাম্প্রতিক মানসিক চাপ, ঘুমের অভ্যাস, ওজনের পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল পড়া, দ্রুত চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুলের ঘনত্ব কমে গেলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপ্রতিমের পরিবার দাবি করেছে, ওই অভিযানের সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিশোধের বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে ফাহাদসহ সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় সহকারী প্রক্টররাও উপস্থিত ছিলেন। পরে জব্দ করা গাঁজা ধ্বংস করা হয়।
আটক কিশোরদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায়, ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার ফাহাদ চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিকের দোকানে কাজ নেয়। অপ্রতিমের বাবা নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫ সালে তার স্ত্রী ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আটক হওয়া কিশোরদের একজনই এই ফাহাদ।
এদিকে অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।
তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে ধরেছি। ওই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত নির্মম। আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক, কিন্তু আমার নিষ্পাপ বাচ্চা সন্তানকে কেন মেরে ফেলা হলো?"
নাহিদা বেগম আরও বলেন, তার ছেলেকে অপরাধীদের সঙ্গে জড়িয়ে এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে অপ্রতিমও তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার দাবি, অপ্রতিম এসব বিষয়ে কিছুই বুঝত না।
তিনি বলেন, "আমি শুধু আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই না, এসব অপরাধী জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে, সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল এবং ২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার ঘটনার সঙ্গে এ হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, এসব বিষয় এখন তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্পর্কটি অনেক দিন আগে শেষ হয়ে গেছে। জীবনও তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে। আপনি জানেন, সেই মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না। কেন সম্পর্কটি টেকেনি বা কেন দূরে সরে এসেছিলেন, সেই বিষয়গুলোও হয়তো আপনার মনে স্পষ্ট রয়েছে।
তবুও, মাঝরাতে, হঠাৎ করে কোনো গান শুনে কিংবা একা থাকার সময় প্রাক্তনের কথা মনে পড়ে যায়। কখনো কখনো মনে হয়, পুরনো দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে।
কিন্তু এমনটি কেন ঘটে? প্রাক্তনকে মনে পড়ার পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে।
মানুষটিকে নয়, সেই সময়টাকেই হয়তো মনে পড়ছে।
অনেক সময় প্রাক্তন মানুষটিকে নয়, বরং তার সঙ্গে কাটানো সময়টাকেই বেশি মনে পড়ে। সেই সময়ে আপনি যেভাবে অনুভব করতেন, সেটাই হয়তো এখন মনে পড়ছে।
হয়তো তখন আপনি বেশি হাসতেন, নিজের প্রতি ভালো লাগা অনুভব করতেন কিংবা জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোও আনন্দের মনে হতো। সেই ভালো লাগার স্মৃতির সঙ্গে মানুষটিও জড়িয়ে থাকায় তাকে মনে পড়ে যেতে পারে।
সম্পর্কের শেষটা ঠিকভাবে হয়নি
সব সম্পর্ক সুন্দরভাবে শেষ হয় না। অনেক সম্পর্কের ইতি ঘটে অনেক কথা না বলেই। বিচ্ছেদের পর সেই না-বলা কথাগুলো বারবার মনে পড়তে পারে।
মনে হতে পারে, সেদিন কথাগুলো বলা উচিত ছিল। অন্যভাবে কথা বললে হয়তো ফল ভিন্ন হতো। সেদিন সিদ্ধান্তটি বদলালে কী হতে পারত—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর না পাওয়াও পুরনো সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।
সময়ের সঙ্গে খারাপ স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায়।
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সময় যত গড়ায়, ততই কষ্টের মুহূর্তগুলো কিছুটা ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। তখন ঝগড়া, অভিমান কিংবা কষ্টের বদলে মনে পড়ে রাত জেগে কথা বলা, একসঙ্গে হাসা বা ছোট ছোট আনন্দের স্মৃতি।
ফলে মনে হতে পারে, সম্পর্কটি হয়তো এতটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ভালো সময়গুলোর কথা মনে পড়ছে বলেই যে সম্পর্কটি আপনার জন্য ভালো ছিল, এমন নয়। অনেক সময় স্মৃতির সুন্দর অংশটুকুই বেশি মনে থাকে।
মানুষটিকে নয়, তার সম্ভাব্য রূপকে মনে পড়ছে।
কখনো বাস্তবে মানুষটি যেমন ছিলেন, তাকে নয়; বরং তিনি যদি একটু বদলাতেন, আরও বুঝতেন কিংবা সম্পর্কটিকে একটু বেশি গুরুত্ব দিতেন—তাহলে সবকিছু কত সুন্দর হতে পারত, সেই ভাবনাটিই মনে থাকে।
অর্থাৎ বাস্তব মানুষটির চেয়ে তার একটি কল্পিত রূপের সঙ্গে আপনার আবেগ জড়িয়ে থাকতে পারে।
প্রাক্তনকে মনে পড়া মানেই ফিরে যেতে চাওয়া নয়।
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তনের কথা মনে পড়া অস্বাভাবিক নয়। কাউকে মনে পড়া এবং তার সঙ্গে আবার সম্পর্কে ফিরতে চাওয়া এক বিষয় নয়।
পুরনো স্মৃতি, অভ্যাস, অসমাপ্ত কথা কিংবা সেই সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতির কারণে প্রাক্তনের কথা মনে পড়তে পারে। তাই হঠাৎ কাউকে মনে পড়লেই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ