রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৫ পি.এম
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় ভেজাল ও বিষাক্ত মদ পান করার ফলে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ওই মদ পান করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবরটি ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশ করেছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘুঘর, নওরাজ ও বারাজসহ আশপাশের এলাকায় শনিবার রাতে একাধিক ব্যক্তি মদ পান করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে, ফলে স্বজনেরা তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সন্দেহ করছে যে, বিষাক্ত বা ভেজাল মদের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং রাসায়নিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ব্যবহৃত মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এটি কোথায় তৈরি বা সরবরাহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে যে, কোনো অবৈধ বিষাক্ত মদ সরবরাহকারী চক্র এর পেছনে সক্রিয় কি না এবং এই মৃত্যুর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট মেলবন্ধন রয়েছে কি না। স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা করছে যে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়ার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার কোনোভাবেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সহ্য করবে না।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেবড়াও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছ থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং আবগারি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সরেজমিনে তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে।
তিনি এই আহ্বানটি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় জানান।
এ সভায় রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, "নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।" এজন্য প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় সোহা আলি খানের জন্য দিনের শুরুতে কফি ছিল অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে তার অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। বলিউডের এই অভিনেত্রী এখন প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বিশেষ পানীয়, ‘লেমন গাট হিল ড্রিঙ্ক’, পান করেন, যা তিনি নিজেই প্রস্তুত করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সোহা জানিয়েছেন, তিনি আগে প্রতিদিন সকালে কফি পান করতেন, কিন্তু এখন নিয়মিত এই পানীয়টি গ্রহণ করছেন। তার মতে, এই পানীয় পান করার পর শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন তিনি অনুভব করছেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটি পান করার প্রায় ২০ মিনিট পর তিনি অন্য খাবার গ্রহণ করেন।
গ্যাস, অম্বল, পেট জ্বালা কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। সোহার মতে, তার এই পানীয় এসব সমস্যাগুলো কমাতে সহায়তা করতে পারে। পানীয়টিতে লেবু, আদা, হলুদ ও চিয়া সিড ব্যবহৃত হয়। ৪৭ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী বলেছেন, ঈষদুষ্ণ পানি হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, লেবু অ্যাসিডিটির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আদা ও হলুদ প্রদাহ কমাতে কার্যকর। অন্যদিকে, চিয়া সিড শরীরে প্রয়োজনীয় ফাইবারের যোগান দেয়।
পানীয়টি তৈরি করতে এক গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস, এক চিমটি পিঙ্ক সল্ট, এক চিমটি হলুদ গুঁড়া, সামান্য গোলমরিচের গুঁড়া, সারারাত ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড এবং কুঁচি করা আদা মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এটি খালি পেটে পান করা যায়।
তবে সোহা সতর্ক করেছেন যে, এই পানীয় সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। যাদের অম্বলের সমস্যা রয়েছে, যাঁরা দীর্ঘদিন পেটের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন বা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই নতুন কোনো খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে কফি পান করলে অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, আদা, হলুদ, চিয়া সিড ও লেবুর সমন্বয়ে তৈরি পানীয় হজমে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি পান করার আগে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. সোহার লেমন গাট-হিল ড্রিঙ্কে কী কী থাকে?
লেবুর রস, আদা, হলুদ, চিয়া সিড, গোলমরিচ ও পিঙ্ক সল্ট থাকে।
২. কী ভাবে এই পানীয় বানাবেন?
ঈষদুষ্ণ জলে সব উপকরণ মিশিয়ে পান করতে পারেন।
৩. কখন এই পানীয় খান সোহা?
সোহা সকালে খালি পেটে পান করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট পরে খাবার খান।
৪. এই পানীয় কি সকলের জন্য উপযোগী?
না। অম্বল, পেটের সমস্যা বা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি থাকলে এটি উপযোগী নাও হতে পারে।
৫. এই পানীয়ের মূল উপকারিতা কী?
সোহার মতে, ঈষদুষ্ণ জল হজমতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, আদা-হলুদে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে এবং চিয়া সিড ফাইবারের জোগান দেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অভিনেতা ও ফ্যাশন আইকন ছিলেন সালমান শাহ। তবে হঠাৎ করেই তিনি পরপারে চলে যান। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৫ বছর বয়সে এই নায়কের মৃত্যুর সময় বেশ কিছু সিনেমার শুটিং চলছিল।
কিছু সিনেমার কাজ ছিল অসম্পূর্ণ, কিছু সিনেমার ক্লাইম্যাক্স ছিল অসমাপ্ত, আবার কোথাও গান ও ডাবিংও শেষ হয়নি। কিন্তু সালমান শাহর সিনেমাগুলোর কাজ থেমে যায়নি।
অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পর নির্মাতাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছিল; অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কী হবে? কেউ গল্প বদলেছেন, কেউ ডামি ব্যবহার করেছেন। কেউ নতুন নায়ককে পর্দায় এনেছেন। আবার কিছু সিনেমায় সালমান শাহর শুট করা অংশ বাদ দিয়ে অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
৩০ বছর পর ফিরে দেখা যাক, সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো শেষ করেছিলেন কারা এবং কীভাবে।
শাবনূরকে সামনে রেখে শেষ ‘প্রেম পিয়াসী’
সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘প্রেম পিয়াসী’। ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে সালমান শাহ গান, ক্লাইম্যাক্সসহ বেশ কিছু দৃশ্যের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। ফলে সিনেমাটি শেষ করতে নির্মাতাদের নিতে হয় ভিন্ন কৌশল।
নায়িকা শাবনূরকে সামনে রেখে গানের দৃশ্যের শুটিং করা হয়। সালমানের উপস্থিতি দেখাতে কয়েকটি দৃশ্যে ব্যবহার করা হয় ডামি ও দূর থেকে নেওয়া শট। শেষ পর্যন্ত গল্পের শেষ অংশেও পরিবর্তন আনতে হয় নির্মাতাকে। সালমানের মৃত্যুর পর ‘প্রেম পিয়াসী’সহ কয়েকটি সিনেমা অন্য অভিনেতা ও ডামিশিল্পীদের সহায়তায় শেষ করার তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘স্বপ্নের নায়ক’ শেষ করেন আমিন খান
সালমান শাহকে ছাড়া একটি সিনেমার গল্প কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়; তার সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ ‘স্বপ্নের নায়ক’। সিনেমাটির অর্ধেকের কম কাজ করেছিলেন সালমান শাহ। এরপর গল্প পরিবর্তন করে মাঝপথেই তাঁর চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়।
এরপর সিনেমার গল্প এগিয়ে নিতে যুক্ত হন আমিন খান। অর্থাৎ, সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্রের জায়গায় সরাসরি কাউকে বসানো হয়নি; বরং গল্পের মধ্যেই তার চরিত্রের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন চরিত্রকে সামনে আনা হয়। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মুক্তি পায় সিনেমাটি।
ডামির সাহায্যে শেষ ‘শুধু তুমি’
‘শুধু তুমি’র অবস্থা ছিল আরও জটিল। সালমান শাহ সিনেমাটির মাত্র ৩০ শতাংশের কম কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে বাকি গল্প এগিয়ে নেওয়া ছিল কঠিন। শেষ পর্যন্ত ডামি ব্যবহার এবং গল্পে পরিবর্তন এনে সিনেমাটির কাজ শেষ করা হয়। তবে ডামির ব্যবহার দর্শকদের চোখ এড়ায়নি।
১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তাই সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নির্মাতাদের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল।
‘আনন্দ অশ্রু’: শেষ করেন নির্মাতা শিবলি সাদিক
‘আনন্দ অশ্রু’র বেশির ভাগ শুটিং সালমান শাহর জীবদ্দশাতেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু বাকি ছিল শেষ দৃশ্য, কয়েকটি গানের শুটিং এবং ডাবিং। পরিচালক শিবলি সাদিকের সিনেমাটি পরে সম্পন্ন করা হয় সালমান শাহকে ছাড়াই।
১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ‘আনন্দ অশ্রু’ সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত সিনেমা। তার অসমাপ্ত কাজের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সম্পন্ন অবস্থায় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সালমানের জায়গায় এলেন ফেরদৌস
সবচেয়ে অভিনব সমাধানটি আসে ‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমায়। পরিচালক ও প্রযোজক ছটকু আহমেদের সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি ছিল সালমান শাহর মৃত্যুর সময়। শুধুমাত্র ডামি ব্যবহার করে সিনেমাটি শেষ করা সম্ভব ছিল না। তখন গল্পেই আনা হয় বড় পরিবর্তন।
কাহিনিতে দেখানো হয়, প্লাস্টিক সার্জারির কারণে চরিত্রটির চেহারা বদলে গেছে। সেই পরিবর্তিত চরিত্রে পর্দায় আসেন ফেরদৌস আহমেদ।
এভাবেই সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমা শেষ করতে যুক্ত হন নতুন একজন নায়ক। ‘বুকের ভিতর আগুন’ ছিল ফেরদৌসের বড় পর্দায় অভিষেকের সিনেমা এবং সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিও এটি। সিনেমাটির কাজ শেষ করতে গল্প পরিবর্তন করে ফেরদৌসকে যুক্ত করার কথা পরিচালক ছটকু আহমেদ নিজেও বলেছেন।
সালমানের দৃশ্য বাদ দিয়ে আসেন রিয়াজ
সব অসমাপ্ত সিনেমা ডামি বা গল্প পরিবর্তন করে শেষ করা হয়নি। ‘মন মানে না’র ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত। সালমান শাহ সিনেমাটির কিছু অংশের কাজ করেছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যুর পর সেই অংশ বাদ দিয়ে রিয়াজকে নিয়ে সিনেমাটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
অর্থাৎ, এখানে সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্র শেষ করার চেষ্টা করা হয়নি। বরং সিনেমাটিই নতুন নায়ককে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে সালমান শাহর মৃত্যুর সময় সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওমর সানী ও অমিত হাসানের হাতে নতুন করে নির্মাণ
একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আরও কয়েকটি সিনেমার ক্ষেত্রে। সালমান শাহর কিছু অংশের শুটিং করা দৃশ্য বাদ দিয়ে ওমর সানীকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয় ‘কে অপরাধী’। অন্যদিকে অমিত হাসানকে নিয়ে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় ‘তুমি শুধু তুমি’।
অর্থাৎ, এই সিনেমাগুলোতে সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজকে জোড়া লাগানো হয়নি। তার শুট করা অংশ বাদ দিয়ে নতুন অভিনেতাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন শুটিং। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অসমাপ্ত কয়েকটি সিনেমা অন্য নায়কদের দিয়ে নতুন করে নির্মাণের তথ্য বিভিন্ন চলচ্চিত্রবিষয়ক সূত্রে পাওয়া যায়।
যে সিনেমাটি শেষই হয়নি
সব সিনেমার ভাগ্য অবশ্য এক ছিল না। ‘প্রেমের বাজি’ শেষ পর্যন্ত আর সম্পন্ন হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি সিনেমাটি। ফলে তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি রয়ে যায় অসমাপ্ত ইতিহাস হিসেবেই।
সবমিলিয়ে সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর গল্পে তাই একাধিক মানুষের নাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু ৩০ বছর পরও এসব সিনেমা দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে; সালমান শাহর জায়গা কেউ পূরণ করতে পারেননি। নির্মাতারা সিনেমা শেষ করেছিলেন, গল্প বদলেছিলেন, নতুন নায়ক এনেছিলেন, আবার কোথাও কোথাও ডামি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু দর্শক পর্দায় বারবার খুঁজেছেন সেই মানুষটিকেই, যিনি সিনেমাগুলো শুরু করেছিলেন—কিন্তু শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইন্দোনেশিয়ার আনাক কারাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তৈরি হওয়া ছাই ও ধোঁয়ার জন্য দেশের প্রধান সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যার ফলস্বরূপ বিমানবন্দরে সকল ধরনের বিমান চলাচল সম্পূর্ণরূপে স্থগিত হয়েছে। এই কারণে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ সূত্র অনুযায়ী, সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত পাহাড় আকৃতির আনাক কারাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ার মেঘ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের বিমানবন্দরটির আকাশসীমায় পৌঁছে যায়। নিরাপত্তার কারণে আজ রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে পুরো বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রবল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়, যা উৎসস্থল থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকেও স্পষ্ট ছিল। ওই শক্তিশালী বিস্ফোরণের পরপরই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে লাল লাভা গড়িয়ে পড়তে শুরু করে। রোববার সকালে সেখানে আরও দুটি নতুন বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।
বিমানবন্দর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অন্তত ২০৯টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে। হঠাৎ সূচি বিপর্যয়ের কারণে বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোতে। এছাড়াও কুয়ালালামপুর, দোহা এবং সিডনিগামী একাধিক ফ্লাইট মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
জাভা ও সুমাত্রার মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত এই আনাক কারাকাতোয়া অত্যন্ত সক্রিয় একটি আগ্নেয়গিরি। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সামুদ্রিক প্রণালিতে পানির দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে শুধু আকাশপথ নয়, জলপথে জাহাজ চলাচলেও তীব্র ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে উদ্ধারকারী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ