ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নকআউট পর্বে গোল করে দীর্ঘ সময়ের খরা কাটালেন রোনালদো


নকআউট পর্বে গোল করে দীর্ঘ সময়ের খরা কাটালেন রোনালদো

 পিছিয়ে থেকেও ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে শেষ ১৬-তে নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছে তারা। দলের হয়ে একটি করে গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে গনসালো রামোসও।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপে এটি তার ষষ্ঠ আসর, এবং এসে নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন তিনি।

বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন রোনালদো।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এদিকে, ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। এখন বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার কীর্তি তার।

চলতি আসরে এ পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে একটি আসরে তার এটি হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল। ২০১৮ আসরে রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনি চার গোল করেছিলেন।

পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে চতুর্থ গোলটি করে লিওনেল মেসি এবং গাব্রিয়েল বাতিস্তুতার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন, যার সংখ্যা পাঁচ। আর্জেন্টিনার মেসি-বাতিস্তুতা, পর্তুগালের ইউসেবিও এবং নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক চারটি করে গোল করেছেন।

প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে ২৫ গোলের বেশি করেছেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এছাড়া, বিশ্বকাপের চারটি ভিন্ন ভিন্ন আসরে গোল করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় পেরিসিচ। তবে, রোনালদোর রেকর্ড হলো ছয়টি আসরে গোল করার। পাঁচটি আসরে গোল করার নজির রয়েছে মেসি, মিরোস্লাভ ক্লোসা, উয়ি সিলার ও পেলের।

এখন ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়সী গোলদাতা পেরিসিচ, যিনি ৩৭ বছর ১৫০ দিন বয়সে গোল করে ইভিচা ওলিচকে টপকেছেন। উল্লেখ্য, ৩৪ বছর ২৭৭ দিন বয়সে গোল করেছিলেন ওলিচ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ম্যাচে ২০-এর বেশি ম্যাচ খেলা তিনজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রোনালদো, মদ্রিচ ও পেরিসিচ। রোনালদো ২৬ ম্যাচ, মদ্রিচ ২৩ ম্যাচ এবং পেরিসিচ ২১ ম্যাচ খেলেছেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোজপুরে অস্ত্র ও ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ তিনজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


রোজপুরে অস্ত্র ও ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ তিনজন আটক

পিরোজপুরে একটি বিদেশী পিস্তল এবং ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাতৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. হাসান, যিনি ওরফে মেহেদী হাসান, মো. আল আমিন শেখ এবং আলী হোসেন। আজ শুক্রবার দুপুরে পিরোজপুর সদর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়টি জানিয়েছেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।

তিনি জানিয়েছেন, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অস্ত্র উদ্ধার, মাদক এবং সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালানোর মধ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা বাজার এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. হাসান ওরফে মেহেদী হাসান এবং মো. আল আমিন শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের কাছে থেকে জানা যায় যে, একজনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় একটি বিদেশি পিস্তল এবং গুলি বিক্রি করেছে তারা। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আজ শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় আলী হোসেনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি жүргізে ইতালির তৈরি একটি পিস্তল ও ৪৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আলী হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ এবং এলাকার বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং গুলি জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, অপরাধ দমনে পিরোজপুর জেলা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদের ৩০ শতাংশ কাজ শেষেও স্থানান্তরের গুজব, গৌরনদীতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


মসজিদের ৩০ শতাংশ কাজ শেষেও স্থানান্তরের গুজব, গৌরনদীতে

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গৌরনদী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ রহস্যজনক কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরুর দাবিতে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) বাদ জুমা মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের সামনে মহাসড়কের পাশে সচেতন গৌরনদী উপজেলার মুসুল্লীগণের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সচেতন মুসুল্লীসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গৌরনদী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ বিগত ২০২০ সালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা আশোকাঠী ব্রাক অফিসের পাশের জমিতে শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের ৩০ ভাগ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হঠাৎ করে গত দশদিন থেকে পুরো নির্মাণ কাজ বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদার।

স্থানীয় তরুণ সমাজ সেবক ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক জানান, কাজ বন্ধের ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি জানিয়েছেন, সরকারের কোন এক কর্মকর্তা কাজটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। কারণ মডেল মসজিদটির অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মুসুল্লীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে মুসুল্লীদের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরুর দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গৌরনদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান আকবর বলেন, ৩০ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষের পরে এখন যদি মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান হবে। তাছাড়া মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করার কোন যৌক্তিকতাও নেই। তাই যেকোন মূল্যে নির্মাণাধীনস্থানে কাজ সম্পন্নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। গৌরনদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ ঘরামী বলেন, সারাদেশের মডেল মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে গৌরনদীর মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজে ভাটা পরেছিল। এর পর, নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারের ভাষ্যমতে ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের প্রায় ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় মডেল মসজিদটি যদি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় তাহলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান হবে। আর এ ষড়যন্ত্র যদি কেউ করে থাকে, তাদের গৌরনদীর মুসুল্লীদের নিয়ে প্রতিহত করা হবে। বর্তমানে যেখানে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ হচ্ছে, সেখানেই দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করার জন্য সাবেক কাউন্সিলর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, পৌর বিএনপির সদস্য হুমায়ুন পাইক, ওয়ার্ড যুবদল নেতা ওয়াশিম ফকির, আবু সাইদ, নুর আলম, নজরুল সরদার, আরিফ ফকির, সোবহান সরদার প্রমুখ। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, মডেল মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, গণপাঠাগার এবং সামাজিক-ধর্মীয় কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। তাই নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গৌরনদীর মানুষ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মডেল মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে মসজিদ নির্মাণকারী ঠিকাদার টিপু সুলতান বলেন, বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ থেকে আমাকে মৌখিকভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাই কাজ বন্ধ রেখেছি। তিনি আরও বলেন, মসজিদ নির্মানের প্রায় ৩০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসেবে আমি প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিল নিয়েছি। এ বিষয়ে জানতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে ফোন করা হলেও, তার নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুনরায় চালু বিতর্কিত ফার্মেসি স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ পি.এম


পুনরায় চালু বিতর্কিত ফার্মেসি স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের সাথে মিল না রেখে ওষুধ সরবরাহের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া মা মেডিকেল হল নামের ফার্মেসীটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বন্দরের।

বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ভূক্তভোগীদের অভিযোগের পর বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দরা বির্তকিত ওই ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় সেই ফার্মেসিটি চালু করা হয়েছে। বাটাজোর ইউনিয়নের লক্ষণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানালেন, গত ২৯ জুন টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তার শিশু সন্তানের জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ইনজেকশন সংগ্রহ করতে তিনি বাটাজোর বাজারের মা মেডিকেল হলে যান।

অভিযোগ করে তিনি উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসক যে ওষুধটি ব্যবস্থাপত্রে লিখেছিলেন, ফার্মেসি থেকে তার পরিবর্তে ভিন্ন একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ওষুধটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এটি তিনি ব্যবস্থাপত্রে লেখেননি। পরে আবার ফার্মেসিতে গেলে স্বত্বাধিকারী রিপন ভুলবশত অন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন এটি ওই ফার্মেসির প্রথম কোন ঘটনা নয়। এর আগেও ঢাকা সম্মিলিত সাময়িক হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের পরিবর্তে অন্য ওষুধ দেওয়ার কারণে তার সন্তানের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। বাটাজোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাবুল এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বলেন, আমাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার কমিটির ওই সিদ্ধান্তের পরেও অল্প সময়ের ব্যবধানে ফার্মেসিটি পুনরায় খোলা করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. রিপন বলেন, চিকিৎসক ইসোমিপ্রাজল গ্রুপের ইসোনিক্স ২০ মিলিগ্রাম লিখেছিলেন। ভুলবশত ৪০ মিলিগ্রাম দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। পূর্বের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি কোনো ভুল ওষুধ দিইনি। চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সাবান লিখেছিলেন। সেটি আমার কাছে না থাকায় একই ধরনের অন্য একটি সাবান দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ফার্মেসিটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমার ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ভুল হবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছি।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজার কমিটি ফার্মেসিটি বন্ধ করে দিলেও পরে আবার সেটি চালু হয়ে যায়। এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি চাই না বিষয়টি কোনোভাবে যেন ধামাচাঁপা পরে যায়। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কবরস্থান থেকে ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে চার আ.লীগ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


কবরস্থান থেকে ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে চার আ.লীগ নেতা

 

আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা।

ঠেকাতে গেলে ছুড়েছেন ককটেল ও পেট্রোল বোমা। এতে বিঘ্নিত হয়েছে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা।

এসব অভিযোগ উল্লেখ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক।

ওই মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন চারজন মৃত নেতার নাম।

মামলার বাদি মারজুক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা।

বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।

বিচারক এসএম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, এই নালিশী মামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে আসামির তালিকায় চারজন প্রয়াত নেতার নাম যুক্ত করায় অভিযোগের সত্যতা ও মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন-বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং রফিকুল ইসলাম খোকন।

এছাড়াও মামলায় সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের নাম রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর মারা গেছেন ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি।

মারজুক মামলায় অভিযোগ এনেছেন, রেজাউর গত ১০ জুন নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল করেছেন এবং সড়কে হাতবোমা ছুড়েছেন।

মামলার ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুকের মৃত্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ।

তার বিরুদ্ধেও ১০ জুনের মিছিলের অভিযোগ।

২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা গেছেন ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ এবং একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার।

তাদের বিরুদ্ধেও আনা হয়েছে ওই মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খান বলেছেন, মারজুক নামের যে ব্যক্তি মামলাটি করেছেন তাকে বরিশালের সবাই মামলা ব্যবসায়ী বলে চেনেন।

আগেও তিনি একটি মামলা করেছিলেন।

এই মামলা যে ভুয়া তার বড় প্রমাণ আসামি চারজন মৃত।

তারা কি কবর থেকে উঠে এসে বাদীর ওপর ককটেল নিক্ষেপ করেছেন?

যাদের মারা গেছেন প্রত্যেকের জানাজায় আমি উপস্থিত ছিলাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন, এই চারজন অনেকদিন আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

তারা বরিশাল সিটিতে বেশ পরিচিত ছিলেন।

এই মামলা যিনি করেছেন, তিনি আসামি করার ভয় দেখিয়ে অনেকের থেকে চাঁদা তুলেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে মামলার বাদী বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ক্লাব রোডের বাসিন্দা মারজুক আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন শুনেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরে একাধিকবার তাকে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি।

পরবর্তীতে কলব্যাক করে মামলার সাক্ষীদের ওপর মারজুক দায় চাঁপিয়ে বলেন, রেজা নামে যে ব্যক্তির নাম দেওয়া হয়েছে মামলার আসামি হিসেবে, সেটা সাক্ষীদের ভুলের কারণে এসেছে।

বাকি তিনজনের বিষয় আমি কিছু জানিনা।

সাক্ষীদের ভুল ইনফরমেশনের কারণে এমনটা হয়েছে।

বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, মামলায় মৃতদের আসামি করা হয়ে থাকলে তা আদালত অবমাননা ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার ঘটনা।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের স্ব-প্রণোদিত হয়ে কাজ করা উচিত।

বরিশাল আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেন, তদন্তে মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারে।

সূত্রমতে, মারজুক আব্দুল্লাহ ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক।

এখন তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের ১৪ মে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুসহ ২৪৭ জনের নামে জুলাইয়ের মামলা করেছিলেন মারজুক।

সেসময় তার বিরুদ্ধে আসামি তালিকায় নাম রাখা ও বাদ দেওয়া নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল।

বৈষম্যবিরোধীর নেতারাই সংবাদ সম্মেলন করে তখন মারজুকের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তার পদ স্থগিত করে সংগঠনটির জেলা কমিটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%