শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৫ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কিশোর গ্যাংয়ের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও বাউল শিল্পী রুহেল সরকার (৩৫)। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। রুহেল সরকারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরদিন বুধবার ঢামেকে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
রুহেল সরকার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া ইমামবাড়ি রোড এলাকার মো. হেকিম মিয়ার ছেলে। তিনি ‘দৈনিক সংবাদ কণ্ঠ’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এবং নবীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য। সাংবাদিকতার পাশাপাশি, তিনি বাউল গান পরিবেশন করেন এবং সংসার চালাতে পেইন্টিং আর্টিস্টের কাজ করেন।
রুহেলের ভাই রুবেল খান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌরসভার উত্তরপাড়ার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মাতলামি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। রুহেল সরকার যখন এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন, তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে, উত্তরপাড়ার ইমরান নামের এক তরুণের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ সদস্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রুহেলের ওপর হামলা চালায়। তারা রড ও ভারী বস্তু দিয়ে রুহেলের মাথার হাড় ভেঙে দেয় এবং ডান চোখ মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় অস্ত্রোপচার হলেও গতকাল পর্যন্ত রুহেলের জ্ঞান ফেরেনি এবং তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত আছেন। লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সাংবাদিক রুহেল সরকারের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নবীনগরে কর্মরত সাংবাদিকরা। গতকাল নবীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন সাংবাদিক নেতারা।
উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হেফজুল বাহারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সামাজিক সুরক্ষায় সোচ্চার সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও আমজনতার নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি।
বক্তারা অবিলম্বে মূল অভিযুক্ত ইমরানসহ কিশোর গ্যাংয়ের সব সদস্য ও তাদের পেছনে থাকা মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পৌর এলাকাজুড়ে সমন্বিত অভিযান চালানোর জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহাবুব আলম লিটন, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রেস ক্লাবসমূহের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাড়িবহরের দিকে কাঁচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে জেরুজালেমের মাহানে ইহুদা বাজারে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর নেই। গাড়িবহরটি থামেনি এবং গন্তব্যের দিকে চলে যায়। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা বোতল নিক্ষেপকারীকে শনাক্ত করার জন্য আশপাশে তল্লাশি শুরু করেন। খবরটি টাইমস অব ইসরাইল এবং অন্যান্য ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর জন্মদিন উপলক্ষে মাহানে ইহুদা বাজারে পৌঁছালে তাঁর ও স্ত্রী সারার প্রতি সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেখানে লিকুদ পার্টির সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান। তবে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই গাড়িবহরের লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার, তেল আবিবের হাতিকভা বাজার পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হন। সেখানে একজন ব্যক্তি তাঁকে হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করেন। ওই ব্যক্তি ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে লিকুদ পার্টির কয়েকজন সমর্থক তাঁর ফোন কেড়ে নেন এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় স্বজন হারানো এবং জিম্মি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জিম্মি অবস্থায় নিহত গায় ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ, নিহত জিম্মি কারমেল গাতের কাজিন গিল দিকমান এবং সাবেক জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাব জাঙ্গাউকার। তাঁরা ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতানিয়াহু ও তৎকালীন দায়িত্বশীলদের পদত্যাগের দাবি জানান।
প্রতিবাদের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনাব জাঙ্গাউকার অভিযোগ করেন, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, থুথু নিক্ষেপ করা হয় এবং সবজি ছোড়া হয়। পরে পুলিশ তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মিশেল ইলুজের ওপর এক ব্যক্তির শারীরিক হামলার ঘটনাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে বাজারটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও এসব ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিশেল ইলুজ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, তিনি তাঁর ছেলে গায়কে জিম্মি অবস্থায় হারানোর বিচার ও জবাবদিহির দাবি জানাতেই সেখানে গিয়েছিলেন। একজন শোকাহত বাবার ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন। আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় নাগরিকদের তাঁর ছেলের কথা স্মরণ রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে, জিম্মি পরিবারের সদস্যদের প্রতিবাদ এবং নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে সংঘাত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে আবারও সামনে এনেছে। ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা, জিম্মিদের মুক্তি এবং হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা করে আসছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একাংশ।
জেরুজালেমে গাড়িবহরের লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা এবং তেল আবিবের বাজারে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘাত—দুই ঘটনাই নেতানিয়াহুর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সফরকে আলোচনায় এনেছে। তবে বোতল নিক্ষেপের পেছনে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সার্কুলেশনটি অবশেষে লঘুচাপে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে এবং গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব কৃষক শীতকালীন নতুন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদেরকে বৃষ্টি কাটার পর কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে, তবে বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার ঝুঁকি বর্তমানে কম। অন্যদিকে, বিডব্লিউওটি জানাচ্ছে, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে, এটি এখনো প্রাথমিক পূর্বাভাস হওয়ায় এর সঠিক গতিপথ, শক্তি এবং আঘাতের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিডব্লিউওটি জানাচ্ছে, যদিও সিস্টেমটির সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার ঝুঁকি কম, তবুও এর পরোক্ষ প্রভাবে সারা দেশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে। একইসঙ্গে, বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার কারণে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোর জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।
বিডব্লিউওটি আরও জানাচ্ছে, সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের কৃষি খাতে ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেলে পচন ধরা, অঙ্কুরোদগম হওয়া এবং গাছ মাটিতে হেলে পড়ার মতো ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে, যেসব কৃষক শীতকালীন নতুন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদেরকে বৃষ্টি কাটার পর কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেসব জমিতে ইতোমধ্যেই রবি ফসল বা সবজি রয়েছে, সেখানে পানি জমা রোধে নালা পরিষ্কার করে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। কাঁচা ফসল, বীজ ও সার বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং ফসল পরিবহনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি নতুন হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল, ডেটাসেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর উপর আঘাতের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে তেহরানের পাল্টা হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি আবার হামলা চালান, তাহলে কোনো ‘রেড লাইন’ মানা হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন যৌথ হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরাইলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সংঘাত শুরু হলে দেশটি আগের চেয়ে বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হবে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তেল স্থাপনা নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত ডেটাসেন্টার, এআই অবকাঠামো এবং সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অবকাঠামোয় হামলা হলে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি ইন্টারনেট যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ডেটা সমুদ্রতলের কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ায় এসব কেবলে বিঘ্নের প্রভাব একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ব্যাটে বল লেগেছে কি না, এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক কমানোর লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তি ‘সনিক’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। চলমান ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রযুক্তিটির অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে। শব্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যাট ও বলের সংযোগ শনাক্ত করতে তৃতীয় আম্পায়ারকে সহায়তা করবে সনিক।
নিউজিল্যান্ডে তৈরি সনিকের কার্যকারিতা যাচাই ও পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে সহযোগিতা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
যখন ব্যাটে বল লাগলে যে শব্দ তৈরি হয়, তা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংযোগের তথ্য প্রদান করবে সনিক। বিশেষ করে যখন বল ব্যাটে লেগে উইকেটকিপার বা ফিল্ডারের হাতে যাওয়ার সময় স্পর্শটি চোখে ধরা না পড়ে, তখন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় এই প্রযুক্তিটি কার্যকর হবে।
ডিআরএসের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় সনিকের তথ্য তৃতীয় আম্পায়ার বিবেচনা করতে পারবেন। তবে এটি আম্পায়ারের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ভার্চ্যুয়াল আইয়ের ডিআরএস ব্যবস্থায় সনিক যুক্ত হচ্ছে। আপাতত শুধুমাত্র ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে আইসিসি দ্বারা। অন্য সিরিজে ব্যবহারের জন্য নতুন করে অনুমোদন নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ