প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি নতুন হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল, ডেটাসেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর উপর আঘাতের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে তেহরানের পাল্টা হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি আবার হামলা চালান, তাহলে কোনো ‘রেড লাইন’ মানা হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন যৌথ হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরাইলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সংঘাত শুরু হলে দেশটি আগের চেয়ে বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হবে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তেল স্থাপনা নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত ডেটাসেন্টার, এআই অবকাঠামো এবং সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অবকাঠামোয় হামলা হলে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি ইন্টারনেট যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ডেটা সমুদ্রতলের কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ায় এসব কেবলে বিঘ্নের প্রভাব একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন