ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: সারাদেশে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: সারাদেশে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পূর্বে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সরকার গুরুত্ব আরোপ করছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির পাশাপাশি মাঠ, ড্রেসিং রুমসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল

আমিনুল হক বলেন, জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খেলার নিয়মিত আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ডিপিপি প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্সসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করে এগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে দেশের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর ওয়ার্ড পর্যায়েও ফুটসাল বা ছোট মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক সংযোজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মৌলভীবাজারের রেলওয়ে মাঠ দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব খেলার মাঠ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে, সেগুলো অবমুক্ত করে খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে সরকার শুধুমাত্র অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে পদকের জন্য লড়াই করতে চায়। এ জন্য বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক

এ সময় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান, বিসিবি পরিচালক সরফুদ্দীন আহমদ সরফুসহ ক্রীড়া সংগঠক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদায়ী ম্যাচে গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে মেসির স্মরণীয় বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


বিদায়ী ম্যাচে গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে মেসির স্মরণীয় বিদায়

অবশেষে ছুটির ঘণ্টা বেজে উঠেছে, কিংবদন্তি লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন। বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বেনিনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে। এই ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল, যেখানে তিনি ১ গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিদায়টিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন।

বুধবার (৭ ভোরে) বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই আর্জেন্টিনা বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও তারা গোলের দেখা পায়নি। ফলে বিরতির সময় দুই দলই গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি।

এরপর আর্জেন্টিনা আরও দুইবার বেনিনের জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। ৬১ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়াংস্টার নিকো পজ। পরে ৭১ মিনিটে শেষ গোলটি করেন মেসি নিজেই।

জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছরের দীর্ঘ পথচলার শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। ম্যাচের আগে থেকেই মনুমেন্টালে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছিল। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থক প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে জড়ো হন।

ম্যাচের আগে ও পরে ছিল বিশেষ আয়োজন। গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রোন শো ও আতশবাজির মাধ্যমে মেসিকে বিদায় জানানোর জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তুতি নিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত মাঠের ফলও মেসির পক্ষে গেছে। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করলেন আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে আজ ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


দেশের বাজারে আজ ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায়ই পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশের বাজারে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর একই মানের সোনার দাম সমপরিমাণ কমানো হয়েছিল সংগঠনটির দ্বারা।

নতুন দর অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

সোনার পাশাপাশি, দেশের বাজারে রুপার গহনার দামও বাজুস নির্ধারণ করেছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।

অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত এই দর কার্যকর থাকবে। তবে গহনার নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত দামের সঙ্গে মজুরি যুক্ত হতে পারে।

সংগঠনটির নিয়ম অনুযায়ী, সোনা ও রুপার অলংকারের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই বিক্রয়মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ নেই।

এছাড়া, পুরোনো সোনা-রুপার অলংকার কেনাবেচা কিংবা গহনা বদলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব তুলা দিবসে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বিশ্ব তুলা দিবসে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা

আজ ৭ অক্টোবর, বিশ্ব তুলা দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিবসটি কৃষি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নে তুলার অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি টেকসই তুলা উৎপাদনের গুরুত্ব স্মরণ করায়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো—‘সবার কল্যাণে তুলা: বাণিজ্য, রূপান্তর ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধি গড়া’।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানাচ্ছে, তুলা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আঁশ। পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পে এর ব্যবহার রয়েছে। তুলা চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যের সঙ্গে বিশ্বের লাখো কৃষক, শ্রমিক এবং তাদের পরিবার যুক্ত রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে তুলা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও আয়ের উৎস। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালে ৭ অক্টোবরকে বিশ্ব তুলা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে তুলা উৎপাদনকারী চার আফ্রিকান দেশ বেনিন, বুরকিনা ফাসো, চাদ ও মালির উদ্যোগে দিবসটি পালনের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি তুলা উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন, ভারত, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক তুলা চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্য পর্যন্ত তুলা খাতে আনুমানিক ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। পলিয়েস্টারের পর তুলা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আঁশ, যা মোট আঁশের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ।

তবে কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার বাড়ায় গত কয়েক দশকে তুলার চাহিদার অংশ কমে গেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থায় বাধা, কৃত্রিম আঁশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, পরিবর্তিত নীতিমালা এবং ভোক্তার পছন্দের পরিবর্তন তুলা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য তুলার গুরুত্ব আরও বেশি। দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো তুলা। মাঠে উৎপাদিত তুলা প্রক্রিয়াজাত হয়ে সুতা, কাপড় এবং শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাকে রূপ নেয়। সেই পোশাক রপ্তানি হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

কিন্তু বিপুল পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তুলা উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দেশে বছরে তুলার চাহিদা প্রায় ৮৫ লাখ বেল। বিপরীতে ২০২৪ অর্থবছরে দেশীয় উৎপাদন হয়েছে মাত্র প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার বেল। অর্থাৎ দেশের মোট চাহিদার সামান্য অংশই স্থানীয় উৎপাদন থেকে পূরণ হয়।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২৪ মিলিয়ন কৃষক তুলা চাষের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ তুলার প্রয়োজন হলেও উৎপাদন খুবই কম হওয়ায় প্রায় পুরো চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।

এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম, জাহাজভাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিলে দেশের সুতা, বস্ত্র এবং তৈরি পোশাক খাতেও এর প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান তুলা সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও তুলা আমদানি করা হচ্ছে।

দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সীমিত আবাদযোগ্য জমির কারণে শুধুমাত্র জমির পরিমাণ বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন। তাই উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি, সেচ, যান্ত্রিকীকরণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম জমিতে বেশি উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে নিশ্চিত বাজার এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষকের মধ্যে আগাম ক্রয়চুক্তি হলে বাজারঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি তুলা উৎপাদন এলাকায় আধুনিক জিনিং, মান যাচাই, গ্রেডিং এবং সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি করা তুলা থেকে দেশে সর্বোচ্চ মূল্য তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, বাণিজ্য এবং বস্ত্র খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষক, সুতা উৎপাদনকারী কারখানা, বস্ত্রশিল্প এবং পোশাক রপ্তানিকারকদের সমন্বিত উদ্যোগে এ খাত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

বিশ্ব তুলা দিবস তাই শুধু তুলা চাষের গুরুত্ব তুলে ধরার দিন নয়, বরং কৃষকের জীবিকা, শিল্পের কাঁচামাল, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং টেকসই অর্থনীতির সঙ্গে তুলার সম্পর্ক নতুন করে ভাবার সুযোগও প্রদান করে। বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাকনির্ভর দেশের জন্য দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তুলা থেকে আরও বেশি মূল্য সংযোজনের পথ তৈরি করা বড় সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প উপস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


আজ একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প উপস্থাপন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বুধবার (৭ অক্টোবর)। মোট ব্যয় হিসেবে এসব প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়ন হিসেবে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের এটি পঞ্চম সভা এবং বর্তমান সরকারের দশম একনেক সভা। সভায় নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটিতে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প সভায় উঠছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। একইসঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার প্রকল্পও রয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ব্যয় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বিভিন্ন সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হয়েছিল। তৃতীয় সংশোধনে তা ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পও একনেকের বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়ন থেকে আসবে।

এতে রয়েছে পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পও রয়েছে। এর পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন রাখা হয়নি।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রথম সংশোধনে ব্যয় ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%