ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের বাজারে আজ ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়


দেশের বাজারে আজ ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায়ই পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশের বাজারে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর একই মানের সোনার দাম সমপরিমাণ কমানো হয়েছিল সংগঠনটির দ্বারা।

নতুন দর অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

সোনার পাশাপাশি, দেশের বাজারে রুপার গহনার দামও বাজুস নির্ধারণ করেছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।

অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত এই দর কার্যকর থাকবে। তবে গহনার নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত দামের সঙ্গে মজুরি যুক্ত হতে পারে।

সংগঠনটির নিয়ম অনুযায়ী, সোনা ও রুপার অলংকারের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই বিক্রয়মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ নেই।

এছাড়া, পুরোনো সোনা-রুপার অলংকার কেনাবেচা কিংবা গহনা বদলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব তুলা দিবসে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বিশ্ব তুলা দিবসে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা

আজ ৭ অক্টোবর, বিশ্ব তুলা দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিবসটি কৃষি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নে তুলার অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি টেকসই তুলা উৎপাদনের গুরুত্ব স্মরণ করায়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো—‘সবার কল্যাণে তুলা: বাণিজ্য, রূপান্তর ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধি গড়া’।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানাচ্ছে, তুলা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আঁশ। পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পে এর ব্যবহার রয়েছে। তুলা চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যের সঙ্গে বিশ্বের লাখো কৃষক, শ্রমিক এবং তাদের পরিবার যুক্ত রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে তুলা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও আয়ের উৎস। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালে ৭ অক্টোবরকে বিশ্ব তুলা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে তুলা উৎপাদনকারী চার আফ্রিকান দেশ বেনিন, বুরকিনা ফাসো, চাদ ও মালির উদ্যোগে দিবসটি পালনের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি তুলা উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন, ভারত, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক তুলা চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্য পর্যন্ত তুলা খাতে আনুমানিক ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। পলিয়েস্টারের পর তুলা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আঁশ, যা মোট আঁশের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ।

তবে কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার বাড়ায় গত কয়েক দশকে তুলার চাহিদার অংশ কমে গেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থায় বাধা, কৃত্রিম আঁশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, পরিবর্তিত নীতিমালা এবং ভোক্তার পছন্দের পরিবর্তন তুলা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য তুলার গুরুত্ব আরও বেশি। দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো তুলা। মাঠে উৎপাদিত তুলা প্রক্রিয়াজাত হয়ে সুতা, কাপড় এবং শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাকে রূপ নেয়। সেই পোশাক রপ্তানি হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

কিন্তু বিপুল পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তুলা উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দেশে বছরে তুলার চাহিদা প্রায় ৮৫ লাখ বেল। বিপরীতে ২০২৪ অর্থবছরে দেশীয় উৎপাদন হয়েছে মাত্র প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার বেল। অর্থাৎ দেশের মোট চাহিদার সামান্য অংশই স্থানীয় উৎপাদন থেকে পূরণ হয়।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২৪ মিলিয়ন কৃষক তুলা চাষের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ তুলার প্রয়োজন হলেও উৎপাদন খুবই কম হওয়ায় প্রায় পুরো চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।

এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম, জাহাজভাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিলে দেশের সুতা, বস্ত্র এবং তৈরি পোশাক খাতেও এর প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান তুলা সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও তুলা আমদানি করা হচ্ছে।

দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সীমিত আবাদযোগ্য জমির কারণে শুধুমাত্র জমির পরিমাণ বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন। তাই উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি, সেচ, যান্ত্রিকীকরণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম জমিতে বেশি উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে নিশ্চিত বাজার এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষকের মধ্যে আগাম ক্রয়চুক্তি হলে বাজারঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি তুলা উৎপাদন এলাকায় আধুনিক জিনিং, মান যাচাই, গ্রেডিং এবং সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি করা তুলা থেকে দেশে সর্বোচ্চ মূল্য তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, বাণিজ্য এবং বস্ত্র খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষক, সুতা উৎপাদনকারী কারখানা, বস্ত্রশিল্প এবং পোশাক রপ্তানিকারকদের সমন্বিত উদ্যোগে এ খাত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

বিশ্ব তুলা দিবস তাই শুধু তুলা চাষের গুরুত্ব তুলে ধরার দিন নয়, বরং কৃষকের জীবিকা, শিল্পের কাঁচামাল, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং টেকসই অর্থনীতির সঙ্গে তুলার সম্পর্ক নতুন করে ভাবার সুযোগও প্রদান করে। বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাকনির্ভর দেশের জন্য দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তুলা থেকে আরও বেশি মূল্য সংযোজনের পথ তৈরি করা বড় সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প উপস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


আজ একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প উপস্থাপন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বুধবার (৭ অক্টোবর)। মোট ব্যয় হিসেবে এসব প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়ন হিসেবে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের এটি পঞ্চম সভা এবং বর্তমান সরকারের দশম একনেক সভা। সভায় নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটিতে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প সভায় উঠছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। একইসঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার প্রকল্পও রয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ব্যয় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বিভিন্ন সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হয়েছিল। তৃতীয় সংশোধনে তা ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পও একনেকের বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়ন থেকে আসবে।

এতে রয়েছে পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পও রয়েছে। এর পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন রাখা হয়নি।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রথম সংশোধনে ব্যয় ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির বিদায়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


মেসির বিদায়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন নেইমার

আর্জেন্টাইন ফুটবলে মেসির অধ্যায় শেষ হলো। তার বিদায়ের পর চুপ থাকতে পারেননি বন্ধু নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের এই তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসির প্রতি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

নেইমার তার ক্যাপশনে লিখেছেন, "যারা ফুটবল ভালোবাসেন, তারা এ বছরগুলোতে আপনাকে উপভোগ করেছেন… আজ দেশের ও আপনার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আপনার শেষ ম্যাচ। আশা করি, আপনি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করবেন এবং আজকের সব সম্মাননা আপনাকে আনন্দিত করবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য আপনি যা করেছেন তার জন্য পুরো বিশ্ব আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। ফুটবলকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসতে শেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।"

নেইমার তার বার্তায় যোগ করেন, "আপনার বিপক্ষে খেলাটা ছিল একটা সম্মানের বিষয়, আর আপনার পাশে খেলে ইতিহাস গড়াটা তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি। ধন্যবাদ লিও মেসি।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ

মা ইলিশ রক্ষার উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২ টার পর থেকে পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়কালে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষার জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীসংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ করার পাশাপাশি অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় মা ইলিশ নির্দিষ্ট এলাকায় ডিম ছাড়তে আসে। নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে পরবর্তী সময়ে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাচুর্য বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ কারণে চাঁদপুরের ইলিশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর। নদী ও ইলিশের এই ঐতিহ্যের জন্য চাঁদপুর ‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নদী থেকে নৌকা ও জাল তীরে তুলে নিয়েছেন চাঁদপুরের ৫০ হাজারের বেশি জেলে। নদীতে যাওয়ার পরিবর্তে তীরে উঠছে মাছ ধরার নৌকা। জালগুলো গুটিয়ে রাখা হচ্ছে। কেউ নৌকার মেরামত করছেন, আবার কেউ জাল শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন।

এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুর জেলার নিবন্ধিত ৪১ হাজার ৩৯০টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

তবে জেলেদের অভিযোগ, ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ নেই। তাই খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা চান তারা।

তসর নামে চাঁদপুরের এক জেলে বলেন, "নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার যে খাদ্য সহায়তা দেয়, তা কিছুটা উপকার করে। তবে শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন।"

নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে যেতে না পারলেও সংসারের খরচ থেমে থাকে না। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, নৌকা ও জাল মেরামত— সব মিলিয়ে বাড়ে দুশ্চিন্তা। এর সঙ্গে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও রয়েছে বলে জানান বেশ কয়েকজন জেলে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, "মা ইলিশের প্রজননের জন্য এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ৪১ হাজার ৩৯০ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কেউ নদীতে নামলে ছাড় দেয়া হবে না এবং কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নৌ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। নদীতে নজরদারি বাড়ানো হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন বলেন, "নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে নৌপুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসন প্রস্তুত। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদীতে থাকবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও নৌবাহিনী নদীতে অভিযান পরিচালনা করবে। নদীতে নজরদারি বাড়ানো হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়টুকু সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জেলেদের জীবন-জীবিকাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%