রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১২ পি.এম
শরীয়তপুরের রান্নাঘরে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা বিপুলসংখ্যক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে দুটি বসতঘর ও দুটি রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশবাগানে পড়ে গেছে। এই ঘটনার ফলে দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি গ্রামের ফারুক সৈয়ালের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ফারুক সৈয়ালের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫) এবং রশিদ সৈয়ালের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৬৫) রয়েছেন। বিস্ফোরণের ফলে গুরুতর আহত রোকেয়া বেগমকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর আহম্মেদ জানান, রোকেয়া বেগমের শরীরে বোমা বিস্ফোরণের কারণে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমাজপতি তমিজ খাঁ এবং মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত চলছিল। এই বিরোধের ফলস্বরূপ গত ১০ আগস্ট উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল মান্নান সরদার (৬৫) নিহত হন এবং ককটেল বিস্ফোরণের কারণে এক যুবকের হাতের কবজি উড়ে যায়। ওই ঘটনায় জাজিরা থানায় ৮৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সেই ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শনিবার ফারুক সৈয়ালের বাড়িতে আবারও এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ফারুক সৈয়াল বিএনপি নেতা রেজাউলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত, তবে রেজাউল শিকদার দাবি করেছেন যে, ফারুক সরাসরি কোনো দলীয় কর্মী নন।
বিস্ফোরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন ভুলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি দরকার। আগে ছোটখাটো বিবাদে বাঁশ বা টেঁটা ব্যবহার হতো, আর এখন তুচ্ছ ঘটনাতেই ককটেল ফোটানো হচ্ছে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রান্নাঘরে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ককটেল মজুত রাখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ককটেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মৃত বিশিষ্ট বুজুর্গ ও দরবেশ হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.) কর্তৃক জনস্বার্থে ওয়াকফ করে দেওয়া ৮২ শতাংশ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি করার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের। এই ঘটনায় স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়ে দিয়েছেন, সমস্যা সমাধান না হলে তারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এটি জানা যায় যে, সিলেটের বিশিষ্ট সাধক মাহমুদ শাহ বক্স (রহ.)-এর অন্যতম প্রধান শিষ্য ছিলেন হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.)। তিনি প্রায় অর্ধশত বছর আগে মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুর মৌজায় তার সমাধিস্থলসহ ৮২ শতাংশ জমি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য দলিল করে যান।
দলিল অনুযায়ী, সেই সম্পত্তিকে স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন ও হতদরিদ্রদের কল্যাণে ব্যবহার করার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে ওই দলিলের কপি রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, পরবর্তীতে তার দুই ছেলে মরহুম আজিজুর রহমান ও লুৎফুর রহমান নিজেদের নামে ওই সম্পত্তির রেকর্ড করান। যদিও তাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না, তবে পরবর্তীতে কয়েকজন ওয়ারিশ ওই রেকর্ডকে ভিত্তি করে নিজেদের নামে নামজারি করে নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, মূল দলিলের শর্ত উপেক্ষা করে এভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি করা আইনসঙ্গত নয়। পরে সম্পত্তিটি একাধিকবার হাতবদল হয়ে বর্তমানে ব্যক্তিগত দখলে রয়েছে।
ভক্তদের অভিযোগ, তৎকালীন ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ওই নামজারি করে থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে নামজারি বাতিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই এসিল্যান্ডের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হযরত মাহমুদ শাহ বক্স (রহ.)-এর মাজারের পাশে। তিনি নিজেও ওই বুজুর্গের গুণগ্রাহী ও ভক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার বদলি হওয়ায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
এই বিষয়ে গত ১৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তদন্ত হলেও এখন পর্যন্ত নামজারি বাতিল কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
মনতলা ভূমি অফিসের তফসিলদার মুজিবুর রহমান বলেন, "আমি লিখিতভাবে ওই নামজারি বাতিলের জন্য স্যারকে চিঠি দিয়েছি। পরে আবার তদন্ত দেওয়া হয়েছে, সেখানেও একই প্রতিবেদন দিয়েছি। এখন ব্যবস্থা না নিলে আমার কী করার আছে?"
এদিকে কাগজপত্রে ওয়ারিশরা নিজেদের মালিক দাবি করলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন যে, তারা ওই সম্পত্তির নামজারি নিজেদের নামে বহাল রাখতে চান না। তাদের দাবি, মূল দলিলের শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তিটি ওয়াকফ হিসেবে বহাল রাখা হোক।
স্থানীয় কমলপুর দরবার শরীফের পীর মাওলানা শরিফুর রহমান বলেন, "অলি-আউলিয়ারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে জনসাধারণের কল্যাণের জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি দিয়ে যান। কেউ এর মধ্যে ছলচাতুরি করলে, সে ওয়ারিশ হোক কিংবা সরকারি কর্মচারী—এতে বুজুর্গদের আত্মা কষ্ট পায়। এতে তাদের ওপর অভিশাপও নেমে আসতে পারে। দ্রুত সম্পত্তিটি ওয়াকফের স্বার্থে বহাল করা উচিত।"
চুনারুঘাটের হযরত নাসির উদ্দিন সিপাহসালার দরগা শরীফের অন্যতম খাদেম হযরত মুরাদ শাহ বলেন, "মাজার, অলি-আল্লাহ ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে ইদানীং ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হাফেজ আব্দুল বারীর সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার ও ষড়যন্ত্রমুক্ত করা না হলে আমরা আন্দোলনের ডাক দেব।"
এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মেহেদী হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ শক্তিশালী দল নিয়েই এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করবে। এর আগে ঘরের মাঠে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই ক্যাম্প শুরু হবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ক্যাম্পের সমাপ্তি ঘটবে ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে।
২০১০ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে স্বর্ণ পদক অর্জন করেছিল বাংলাদেশ দল। পরবর্তী ২০১৪ এবং ২০২২ সালে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট এবার সেই ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে সেরা ফলাফল পুনরাবৃত্তি করার লক্ষ্য নিয়েছে।
এশিয়ান গেমসের জন্য সম্ভাব্য সেরা দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। দীর্ঘ সময় পর নাজমুল হোসেন শান্ত এবং হাসান মাহমুদকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই দুইজন সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৫ সালে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে ভারতও নিজেদের সম্ভাব্য সেরা দল পাঠাচ্ছে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান দলে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা থাকলেও, তারা গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বিশ্রামে রেখেছে। শ্রীলঙ্কা এখনও তাদের দল ঘোষণা করেনি।
র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এশিয়ান গেমসে সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে অংশগ্রহণ করবে। ২৮ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘বি’ এর চ্যাম্পিয়ন দল। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে নেপাল, মালয়েশিয়া এবং ওমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে, বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকেও অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর এই কর্মকর্তাদের দণ্ডাদেশ বাতিল করে এবং তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ক্ষমা পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (উপকমিশনার) মো. শাহাদাত জামিল, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বশর, ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া এবং খুলনার কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।
এছাড়া, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকির হোসেন, একই কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, গাজীপুরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান এবং ঢাকা পশ্চিমের অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়মের লঘুদণ্ড বাতিল করে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের তালিকায় নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
দণ্ড মওকুফ পাওয়া কর কর্মকর্তাদের মধ্যে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, কর অঞ্চল-যশোরের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, কর অঞ্চল-গাজীপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, কর অঞ্চল-২২, ঢাকার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) সুলতানা হাবীব, কর অঞ্চল-যশোরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান এবং ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের ঢাকার যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন রয়েছেন।
এছাড়া, খুলনার উপ-কর কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান, কর অঞ্চল-২১, ঢাকার উপ-কর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল এবং কর অঞ্চল-দিনাজপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানার লঘুদণ্ড বাতিল ও বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সংস্কার ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আন্দোলনে অংশগ্রহণ, কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শাস্তি হিসেবে তাদের বেতন স্কেল ২ থেকে ৩ ধাপ অবনমন করা হয়েছিল।
এরপর, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে তাদের আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দণ্ডাদেশ বাতিল এবং কয়েকজনকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দ্বারা লাগানো আগুনে ২৪ কক্ষের ৬টি বসতঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে, যার মধ্যে মালামালও রয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে, আগুন লাগানোর জন্য অভিযুক্ত যুবক সোহেল হোসেনকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে সোহেল কেন তার নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগাল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। যদিও সে নিজ ঘরে আগুন লাগালেও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের অন্যান্য ঘরগুলোও পুড়ে যায়।
অভিযুক্ত সোহেল সোনাপুর এলাকার মৃত মো. রফিকের ছেলে। থানা পুলিশ জানিয়েছে, সে একজন চিহ্নিত মাদকসেবী।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল নামের এক মাদকাসক্ত যুবক ঘটনার সময় তার ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের বসতঘরগুলোও পুড়ে যায়। ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর রায়পুর ও সদরের ৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই ২৪টি কক্ষের ৬টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা সোহেলকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।
রায়পুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের লিডার সৈয়দ আহম্মদ জানান, আগুনে ২৪ কক্ষের ৬টি ঘর ও মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে রায়পুরের দুটি এবং লক্ষ্মীপুরের একটি ইউনিটসহ মোট তিনটি ইউনিট কাজ করেছে। আগুনের ফলে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মাদকাসক্ত যুবক সোহেল ঘরগুলোতে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার সঙ্গে কথা বললে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ