প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শরীয়তপুরের রান্নাঘরে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা বিপুলসংখ্যক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে দুটি বসতঘর ও দুটি রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশবাগানে পড়ে গেছে। এই ঘটনার ফলে দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি গ্রামের ফারুক সৈয়ালের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ফারুক সৈয়ালের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫) এবং রশিদ সৈয়ালের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৬৫) রয়েছেন। বিস্ফোরণের ফলে গুরুতর আহত রোকেয়া বেগমকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর আহম্মেদ জানান, রোকেয়া বেগমের শরীরে বোমা বিস্ফোরণের কারণে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমাজপতি তমিজ খাঁ এবং মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত চলছিল। এই বিরোধের ফলস্বরূপ গত ১০ আগস্ট উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল মান্নান সরদার (৬৫) নিহত হন এবং ককটেল বিস্ফোরণের কারণে এক যুবকের হাতের কবজি উড়ে যায়। ওই ঘটনায় জাজিরা থানায় ৮৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সেই ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শনিবার ফারুক সৈয়ালের বাড়িতে আবারও এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ফারুক সৈয়াল বিএনপি নেতা রেজাউলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত, তবে রেজাউল শিকদার দাবি করেছেন যে, ফারুক সরাসরি কোনো দলীয় কর্মী নন।
বিস্ফোরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন ভুলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি দরকার। আগে ছোটখাটো বিবাদে বাঁশ বা টেঁটা ব্যবহার হতো, আর এখন তুচ্ছ ঘটনাতেই ককটেল ফোটানো হচ্ছে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রান্নাঘরে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ককটেল মজুত রাখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ককটেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন