মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৩ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে উন্নত করার জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।"
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
মন্ত্রী আরও বলেন, "গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।"
মন্ত্রী বলেন, "দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।"
সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্যসচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এয়ারবাস কেনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনে এয়ারবাসের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়, তাই ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য একটি বড় স্বার্থের বিষয়।
মঙ্গলবার ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। ফ্রান্স কিংবা ইউরোপ কোনো চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের পক্ষে নয়। বরং, বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউরোপ সত্যিকার অর্থে একটি আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এয়ারবাসের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, "এয়ারবাস বিক্রিকে ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে তুলে ধরে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেন এটা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?" তিনি আরও বলেন, ১০টি উড়োজাহাজ বড় চুক্তি নয়, কিন্তু এটি আমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যাওয়ার জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে আগ্রহী।
এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, "এটা এমন নয় যে, শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর সব শেষ; এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে যুক্ত হওয়ার বিষয়।"
রাষ্ট্রদূত ইউরোপকে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় ১৭ শতাংশের বিপরীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ৪৮ শতাংশ ইউরোপে যায়। যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে এই অনুপাত আরও বাড়ে। সুতরাং, ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার। তিনি বলেন, "আমরা যখন বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করি, তখন কেবল একটি বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দিই যে, আমাদের অভিন্ন স্বার্থ হচ্ছে অংশীদারিত্বের গড়ে তোলা।"
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছিল। বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবসা মার্কিন জায়ান্ট বোয়িং না ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছে যাবে, তা নিয়ে তখন থেকেই টানাহেঁচড়া চলছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার শেষ দিকে এসে এয়ারবাসের পক্ষে ঝুঁকেছিল এবং তৎকালীন বিমানমন্ত্রী মাহাবুব আলী এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে ৫ আগস্টের পালাবদলের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও সিয়াটলের পথে হেঁটেছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি করে।
তবে সেই চুক্তির পরেও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত হাল ছাড়েননি। তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলোচনা কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা তুলে ধরে বলেন, "মিশ্র বহরের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভালো ‘কারিগরি কারণে’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, ‘রাজনৈতিক কারণে নয়’।" তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বহু বিমান সংস্থা এয়ারবাসকে গ্রহণ করেছে, বিমানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, "কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্বভেদে আলোচনার পর এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, বিমান বাংলাদেশের বহরে এয়ারবাস থাকা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক ছিল।
তিনি বলেন, "বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থা দুই ধরনের উড়োজাহাজ তাদের বহরে রাখে। তাদের এয়ারবাসও থাকে, আবার বোয়িংও থাকে।" ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, কাউকে কোনো একটি একক কোম্পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটির সুবিধা তুলনা করে বেছে নেওয়া যায়।
তিনি উদাহরণ দেন, "এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। এবং সেটি বোয়িং নয়, সেটি এয়ারবাস।" তিনি বলেন, "বিশ্বে শুধু এই একটি উড়োজাহাজ তা করতে সক্ষম। তাই অনেক যৌক্তিক ও কারিগরি কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।"
জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, "দেখলেই বোঝা যাবে, বিশ্বের কত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে। তাই বিমানের এই সিদ্ধান্তে কোনো সন্দেহ বা ভুল ছিল না।" তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনও এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছে। এ নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স এবং ইউরোপ কখনও বলে না, ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নাও। তিনি বলেন, "আমি শুরুতে যেভাবে বলেছি, আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি।" তিনি যোগ করেন, "আপনি যদি না চান, আপনার যদি মনে হয় এফটিএ নিয়ে আগানো ভালো কিছু হবে না, এটা আপনার সিদ্ধান্ত।" রাষ্ট্রদূত বলেন, "হয়ত, ইউরোপীয় দেশগুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, তারা এফটিএ চায় না, এটা তাদের সিদ্ধান্ত।" সুতরাং, ঢাকা ইউরোপ কী বার্তা পাঠাচ্ছে, সেটি গুরুত্ব বহন করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ দেশের মুদ্রায় ২৫ হাজার ৩৭৪ কোটি ৯০ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ হোসেন জানান, সোমবার প্রবাসী আয় হিসেবে ৮৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার পরিমাণ এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এক দশমিক ৬০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৭৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামের ইতিহাসে মহান মনীষীদের অম্লান স্মৃতির আলো আজও পথভোলা মানুষকে সত্য ও সঠিক পথের দিশা দেখায়। এক অনন্য পুরুষ, কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম ও বড়পীর হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)। বিশ্বজুড়ে সুফি অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে হিজরি রবিউস সানি মাসের এগারো তারিখটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মহান এই অলি ও আলেমের বর্ণাঢ্য জীবন, সুন্নাহর অনুসরণ এবং দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করাই এই দিবসের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’-এর ইতিহাস
শব্দগত দিক থেকে এটি ফারসি ভাষার দুটি শব্দের চমৎকার এক সমন্বয়। ‘ফাতিহা’-এর অর্থ দোয়া, মোনাজাত, জিয়ারত বা কোনো বুজুর্গের রুহের মাগফিরাত ও মর্যাদা কামনায় কুরআন তিলাওয়াত করে ইসালে সওয়াব করা। আর ‘ইয়াজদহম’- এটি একটি ফারসি সংখ্যাবাচক শব্দ, যার অর্থ ‘এগারো’। সুতরাং ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম বলতে এগারো-এর ফাতিহা শরিফকে বোঝায়। এই ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম শরিফ আবদুল কাদের জিলানী এর স্মরণে পালিত হয়।
হিজরি রবিউস সানি (বা রবিউল আখির) মাসের ১১তম দিনে আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাই প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে তাঁর অম্লান স্মরণে আয়োজিত ইসালে সওয়াব ও মোনাজাতের মাহফিলকে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ বলা হয়। সে হিসেবে এ বছর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হবে।
আধ্যাত্মিক সাধক আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে (১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দে) ইরানের জিলান প্রদেশের কাস্পিয়ান সমুদ্রের তীরবর্তী মনোরম এক শহরে জন্ম নেন। পিতৃসূত্রে তিনি হজরত হাসান (রা.) এবং মাতৃসূত্রে হজরত হোসাইন (রা.)-এর বংশধর ছিলেন। বাল্যকালেই উচ্চতর জ্ঞানার্জনের অদম্য তৃষ্ণা নিয়ে তিনি তৎকালীন জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু বাগদাদে গমন করেন। সেখানে শায়খ আবু জাকারিয়া তাবরিজি (রহ.)-সহ সময়ের সেরা আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
তিনি কেবল তত্ত্বীয় সুফিসাধকই ছিলেন না; একাধারে ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন ও কাব্যে ছিলেন অগাধ পণ্ডিত। একই সাথে তিনি ছিলেন হাম্বলি ও শাফেয়ি মাজহাবের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ।
আল্লাহ তাআলা তার অনুগত ও বুজুর্গ বান্দাদের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
‘জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর অলি বা বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবেন না।’ (সুরা ইউনুস: আয়াত ৬২)
সুফি দর্শনে আবদুল কাদির জিলানির অবদান বাগদাদে আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর বয়ান ও রূহানি নসিহত শোনার জন্য হাজার হাজার ব্যাকুল মানুষের সমাগম হতো। তার সুগভীর জ্ঞান, হৃদয়স্পর্শী প্রজ্ঞা ও মোহাচ্ছন্ন কণ্ঠের দরসে মুগ্ধ হয়ে হাজার হাজার অমুসলিম স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং অজস্র পথভ্রষ্ট মানুষ খুঁজে পান হিদায়েতের সরল পথ। এমনকি সুলতান নুরুদ্দিন জেনকি ও ক্রুসেডজয়ী গাজি সালাহউদ্দিন আইয়ুবির বিশেষ কয়েকজন উপদেষ্টা ও সেনাপতি সরাসরি তার দরসের ছাত্র ছিলেন।
কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমগ্র বিশ্বে তাসাউফের সুমহান দ্বীনি সংস্কারক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সুফি ধারায় পরম আধ্যাত্মিক উচ্চ মর্যাদার কারণে তাকে ‘গাউসুল আজম’ বা ‘বড়পীর’ নামে ডাকা হয়। তার কালজয়ী গ্রন্থাবলি— ‘গুনিয়াতুত তালিবিন’, ‘ফাতহুল গাইব’, ‘আল-ফাতহুর রাব্বানি’ ও ‘কাসিদায়ে গাউসিয়া’ আজও ইসলামি আলেম সমাজ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানপিপাসুদের পরম সম্পদ।
ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম: উদযাপন ও শরয়ি বিধান হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি (১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি) মহান এই সুফিসাধক ইরাকের বাগদাদে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তার মাজার শরিফ অবস্থিত।
এ দিনটিতে মুসলিম সমাজ মূলত তার পবিত্র জীবন, নিষ্কলঙ্ক চরিত্র ও ইসলামি খেদমত নিয়ে আলোচনা করে। দরুদ পাঠ, দান-সদকা ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে তার রুহের মাগফিরাত ও মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ইসালে সওয়াব করা হয়। মৃত ব্যক্তির জন্য ভালো কাজ ও সওয়াব পৌঁছানো প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ: إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার তিনটি আমল ব্যতীত বাকি সব আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়—১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, এবং ৩. এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম ৪২০৫)
তবে ওলামায়ে কেরামের মতে, এ দিনকে কেন্দ্র করে লাইটিং, আলোকসজ্জা, খামখেয়ালি বা অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতায় মেতে ওঠা ইসলামে অনুমোদন নেই। কোনো বিশেষ স্থান সাজানো বা বাহ্যিক আড়ম্বর নয়; বরং তার সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষাকে জীবনের পাথেয় বানানোই এ দিনের প্রকৃত দাবি।
বড়পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ছিলেন সততা, আমানতদারিতা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের এক অনন্য বাতিঘর। ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ পালনের আসল বার্তাটি কেবল বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে মিলাদ বা দোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তার মতো চারিত্রিক মাধুর্য গড়ে তোলা, সত্য কথা বলা এবং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠ থেকে জীবন পরিচালনা করার মাঝেই নিহিত রয়েছে এই দিবসের প্রকৃত শিক্ষা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগে ৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৮৭২ জন রোগী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৫,৪৯৯ জন।
রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং দুজন নারী রয়েছেন।
এর আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৭৫৩ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৫৯৩ জন এবং ৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৫৭১ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ