ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকায় ২০০টি ইভি বাস কেনার পরিকল্পনা, নারীদের জন্য ১০০টি: সড়কমন্ত্রী


ঢাকায় ২০০টি ইভি বাস কেনার পরিকল্পনা, নারীদের জন্য ১০০টি: সড়কমন্ত্রী

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্যে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নারীদের জন্য ১০০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন রুটে চলবে। এই তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষত, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। সড়কমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার জন্য অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে।

পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন দ্রুত চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফসিল ফুয়েলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০০টি ইভি বাসের মধ্যে ১০০টি থাকবে নারীদের জন্য, যা বিভিন্ন রুটে প্রদান করা হবে। এর ফলে নারী যাত্রীদের জন্য বাসসেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সড়কমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলবে, যেখানে একটি বাস একতলা এবং বাকি নয়টি হচ্ছে দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন শুধুমাত্র বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও তারা নিরাপদে থাকেন। বাসে ওঠা-নামার সময়ে হয়রানি, অস্বস্তি অথবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীরা গণপরিবহন ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করে। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সেই জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি অথবা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায় সে সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরো বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফা আল আমিনকে দিয়েছে বড় শাস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


ফিফা আল আমিনকে দিয়েছে বড় শাস্তি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আল আমিন ফিফা থেকে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। এ ছাড়া মিরাজুলকেও নতুন করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার।

জুনে মালদ্বীপে বাংলাদেশ চার জাতির টুর্নামেন্ট খেলেছিল। ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এবং স্বাগতিক মালদ্বীপের খেলায় একটি পর্যায়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। মালদ্বীপের কয়েকজন ফুটবলার মারমুখী আচরণ করে এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক আঘাতও করেন।

রেফারিং ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ফিফা বাংলাদেশের ম্যানেজার এবং ফুটবলার মিরাজুলকে এক দফা শাস্তি দিয়েছিল অর্থনৈতিক জরিমানা করে। আর আল আমিনের বিষয়টি নজরদারিতে রেখে ফিফা ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।

মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করে। গত ৭ জুন রাতে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের জন্য বাঁচা–মরার ম্যাচ ছিল। সেই ম্যাচটি যেন রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল।

রেফারির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে উত্তেজনা শুরু হয়, যা এরপর গড়ায় হাতাহাতি ও মারামারিতে। পরিস্থিতি এতটুকু উত্তপ্ত হয়ে যায় যে বাংলাদেশের আল-আমিন এবং মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করেন। গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যোগ করা সময়ে। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সাথে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে লাল কার্ড পান ফরোয়ার্ড আল-আমিন। কার্ড দেখার পর নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি রেফারিকে ধাক্কা দেন।

হট্টগোলে খেলা বন্ধ হলেও আবার শুরু হলে মাঠের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশের অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির এবং বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদ করেন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে একে অপরের উপর চড়াও হন।

শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি এবং মারামারি। মাঠের এই পরিস্থিতি দেখে গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স/ইপসোসের চার দিনব্যাপী সর্বশেষ যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমে বর্তমানে তার নির্বাচনী মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া ওই জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে প্রায় ৬৪ শতাংশ নাগরিক তার সম্পর্কে স্পষ্ট অসন্তোষ জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তার সমর্থনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে বর্তমানে তার এই সর্বনিম্ন রেটিং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্নের সমান।

জরিপে অংশগ্রহণকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার এই যুদ্ধ বা সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার কারণে বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলো ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপের মুখে রেখেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, একটি বিপজ্জনক দেশকে পারমাণবিক শক্তি অর্জন থেকে বিরত রাখতে পেট্রোলের দাম কিছুটা বেশি দেওয়া যুক্তিসংগত। তবে জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন যে এই সংঘাত বা যুদ্ধের মূল্য চুকানো যৌক্তিকতা রয়েছে।

চলতি মাসে অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক দিয়েও ভোটারদের কাছে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে গেছে। জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার অর্থনৈতিক পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রয়েছে ৩৫ শতাংশের। এমনকি ট্রাম্পের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র ‘কঠোর অভিবাসন নীতিতেও’ রিপাবলিকানদের জনসমর্থন পূর্বের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।

অনলাইনে দেশজুড়ে পরিচালিত এই রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ১,১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মতামত দিয়েছেন। জরিপটির ফলাফলে ৩ শতাংশ পয়েন্টের সম্ভাব্য ভুল (মার্জিন অব এরর) থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীরবে বৃদ্ধি পায় ফুসফুসের ক্যান্সার, কারা করাবেন পরীক্ষা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


নীরবে বৃদ্ধি পায় ফুসফুসের ক্যান্সার, কারা করাবেন পরীক্ষা?

ফুসফুসের ক্যান্সার হলো একটি মারাত্মক রোগ। সবচেয়ে বড় সমস্যা এটি যে, রোগটি শুরু হলেও অনেক সময় দীর্ঘদিন তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। সাধারণ কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কিংবা হঠাৎ ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলে, ততদিনে রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য রোগটি আগেভাগে শনাক্ত করতে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে, এই পরীক্ষা সবার জন্য নয়।

এখন প্রশ্ন হলো, কারা ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তের পরীক্ষা করাবেন? চিকিৎসকদের মতে, যাদের বয়স ৫০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমানে ধূমপান করেন অথবা আগে দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেছেন, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে।

বিশেষভাবে যাদের অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে এবং যারা এখনো ধূমপান করছেন অথবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন, তাদের বছরে একবার কম মাত্রার সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্যাক-ইয়ার কিভাবে হিসাব করবেন? ধূমপানের পরিমাণ ও সময় হিসাব করার জন্য প্যাক-ইয়ার একটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন, যদি কেউ ২০ বছর ধরে প্রতিদিন একটি প্যাকেট সিগারেট পান করেন, তাহলে তার হিসাব হবে ২০ প্যাক-ইয়ার। আবার, যদি কেউ ১০ বছর ধরে প্রতিদিন দুই প্যাকেট সিগারেট পান করেন, তবে সেটি ২০ প্যাক-ইয়ার হিসাবেই ধরা হবে।

সাধারণ এক্স-রে নয় কেন? কারণ সাধারণ বুকের এক্স-রেকে ফুসফুসের ছোট বা প্রাথমিক পর্যায়ের টিউমার সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু, কম মাত্রার সিটি স্ক্যান তুলনামূলক কম তেজস্ক্রিয়তা প্রয়োগ করে ফুসফুসের আরও স্পষ্ট ছবি প্রদান করতে সক্ষম।

ফলে, কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই ছোট টিউমার শনাক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।

কিন্তু, ধূমপান না করলেও কি ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে? হ্যাঁ, ফুসফুসের ক্যান্সার শুধু ধূমপায়ীদের মধ্যে হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং বংশগত কারণেও এই রোগ হতে পারে।

তবে, যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের সবার নিয়মিত কম মাত্রার সিটি স্ক্যান করানোর প্রয়োজন নেই। যদি পারিবারিক ইতিহাস, বিশেষ ঝুঁকি, অথবা কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফুসফুসের ক্যান্সার অনেক সময় নীরবে শরীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য সময়মতো পরীক্ষা রোগটি আগেভাগে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না: আইনমন্ত্রী

বর্তমানে শর্টকাটে অনেকেই আইনজীবী হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না বলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য বেসরকারি এক ব্যাংকের উপশাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৭ হাজার আইনজীবী থাকলেও চূড়ান্ত শুনানি করার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনজীবী তৈরি করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে যা করা সম্ভব আমরা সেটা করতে চাই। তবে এ জন্য বার কাউন্সিলের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সরকারের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পেশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারের কাছে দাবি জানাতে হয়। কিন্তু গত ছয় মাসে আমার কাছে এ রকম কোনো দাবি জানানো হয়নি।

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যায়ক্রমে ৮০ হাজার আইনজীবীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটা একমাত্র প্রফেশন যাদের কোনো ট্রেনিং হয় না। সরকারি চাকরিজীবী ও বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আইনজীবীদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণের তেমন কোনো কাঠামো নেই। আইনজীবীরা আইন পেশার সনদ নিয়ে সিনিয়রের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে একদিন নিজেও সিনিয়র হয়ে যান। এর মাঝে তার আর কোনো ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নেই।

আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজেদের সমৃদ্ধ, প্রস্তুত ও প্রশিক্ষিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিলের যে প্রশিক্ষণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, বিগত বছরগুলোতে তা করা সম্ভব হয়নি। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজাবো। বাংলাদেশের আইন পেশাকে ঢেলে সাজাতে চাই।

মো. আসাদুজ্জামান জানান, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নামে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর এই বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।

আইনজীবীদের পেশাগত পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ এখন নানান ধরনের বিরোধের সমাধান নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন।

বিচার বিভাগ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ও বিচার বিভাগের বাজেট নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোর্ট ফি ও ওকালতনামার মাধ্যমে বিচার বিভাগ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় হলেও পুরো বিচার বিভাগের জন্য বার্ষিক বাজেট দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

তার মতে, সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দও খুবই অপ্রতুল। আইনজীবী পেশার মর্যাদা বাড়াতে বার কাউন্সিলকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ও সদস্য বদরুদ্দোজা বাদল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%