০৯:০১ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আল আমিন ফিফা থেকে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। এ ছাড়া মিরাজুলকেও নতুন করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার।
জুনে মালদ্বীপে বাংলাদেশ চার জাতির টুর্নামেন্ট খেলেছিল। ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এবং স্বাগতিক মালদ্বীপের খেলায় একটি পর্যায়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। মালদ্বীপের কয়েকজন ফুটবলার মারমুখী আচরণ করে এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক আঘাতও করেন।
রেফারিং ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ফিফা বাংলাদেশের ম্যানেজার এবং ফুটবলার মিরাজুলকে এক দফা শাস্তি দিয়েছিল অর্থনৈতিক জরিমানা করে। আর আল আমিনের বিষয়টি নজরদারিতে রেখে ফিফা ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।
আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল
মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করে। গত ৭ জুন রাতে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের জন্য বাঁচা–মরার ম্যাচ ছিল। সেই ম্যাচটি যেন রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল।
রেফারির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে উত্তেজনা শুরু হয়, যা এরপর গড়ায় হাতাহাতি ও মারামারিতে। পরিস্থিতি এতটুকু উত্তপ্ত হয়ে যায় যে বাংলাদেশের আল-আমিন এবং মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করেন। গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যোগ করা সময়ে। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সাথে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে লাল কার্ড পান ফরোয়ার্ড আল-আমিন। কার্ড দেখার পর নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি রেফারিকে ধাক্কা দেন।
আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক
হট্টগোলে খেলা বন্ধ হলেও আবার শুরু হলে মাঠের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশের অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির এবং বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদ করেন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে একে অপরের উপর চড়াও হন।
শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি এবং মারামারি। মাঠের এই পরিস্থিতি দেখে গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন