প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্যে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নারীদের জন্য ১০০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন রুটে চলবে। এই তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষত, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। সড়কমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার জন্য অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে।
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন দ্রুত চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফসিল ফুয়েলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০০টি ইভি বাসের মধ্যে ১০০টি থাকবে নারীদের জন্য, যা বিভিন্ন রুটে প্রদান করা হবে। এর ফলে নারী যাত্রীদের জন্য বাসসেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সড়কমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলবে, যেখানে একটি বাস একতলা এবং বাকি নয়টি হচ্ছে দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন শুধুমাত্র বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও তারা নিরাপদে থাকেন। বাসে ওঠা-নামার সময়ে হয়রানি, অস্বস্তি অথবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীরা গণপরিবহন ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করে। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সেই জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি অথবা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায় সে সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরো বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।
সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন