বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
র্যাবের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেছেন, শুধু নামের পরিবর্তন নয়, বিশেষ কিছু পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। নতুন যে আইন প্রণয়ন হচ্ছে, তার মধ্য দিয়ে এ বাহিনীর নতুন অধ্যায় সূচনা হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এমনটাও জানান তিনি।
এম ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বাহিনীর কোনো সদস্য যদি অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তিনি আইনের আওতায় আসবেন। এটি একটি অনেক বড় সংস্কার, যার মাধ্যমে আগের অভিযোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ বাহিনী কীভাবে কাজ করবে, সেটি সরকারই নির্ধারণ করবে। নতুন যে আইন প্রণয়নের কাজ হচ্ছে, তার মাধ্যমে এ বাহিনীর জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
র্যাবের সাবেক কর্মকাণ্ড নিয়ে মামলা হয়েছে, এবং সুষ্ঠুভাবে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে যতটুকু সহায়তা করা প্রয়োজন, সেটি সর্বোচ্চভাবে করা হবে বলেও জানান তিনি।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পরে, যখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সংস্থাটির পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে, তখনও শুধু নামের পরিবর্তন নয়, বিশেষ কিছু পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৯ আগস্ট বিমানবন্দর থানা এলাকাতে ক্রাউন প্লাজার সামনের স্থানে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম এবং তথ্য সংগ্রহকারী কাউসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় হাকিমের হেফাজত থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, হ্যান্ডকাফ ও ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানিয়েছেন, গত ১ মাসে র্যাব দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯টি বিদেশি অস্ত্র ছিল।
গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া ফলের আড়তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি করে আসা একটি চক্রের ১২ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে র্যাব বলেও জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকসহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ দ্বারা। এ ছাড়া, একই ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তাদের নাম ও পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন তথ্য জানা গেছে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হোটেল ‘শিখা ইন’ আবু জাফরের নামেই ইজারা নেওয়া হয়েছিল। তিনি জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। তবে, এই ঘটনায় হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
আনন্দবাজারের অনুসারে, আবু জাফরের পাশাপাশি এ ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। সূত্রের খবরে জানা গেছে, আটক হওয়া দুইজনের মধ্যে একজন কাছের হোটেল ‘যাপন’-এর কর্মী। এই হোটেলের মালিক ও বীরেশ্বর মিত্র।
অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে শো-কজ করেছে দমকল অফিস। তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস পরিচালিত হচ্ছিল। ওই ভবনের হোটেলগুলোতে রয়েছে একাধিক ঘুপচি ঘর। তৃতীয় তলায় ১১০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে চলছিল ‘শিখা ইন’। সেখানে দুই কামরার ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় ছিল পাঁচটি খুপরি ঘর।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৯ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বুধবার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওই দলই পরে শিখা ইনের ইজারাদার আবু জাফরকে আটক করে।
অভিযোগ উঠেছে, শিখা ইনসহ ঐ ভবনে চলা হোটেলগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি না মেনে গড়ে উঠেছিল। আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের ‘অবহেলাকে’ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিষয় থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফুলবাড়িয়ায় ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ফোরকান নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর পর সেখানে থাকা রোগীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এসময় কিছু রোগী জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং একাধিক রোগীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনা বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ঘটে।
নিহত ফোরকান নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর পূর্বপাড়ার আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে।
তার পরিবার অভিযোগ করছে, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে থাকাকালীন সময়ে ফোরকানের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ফোরকানের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছেন, যদি কোন ব্যক্তি দায়ী থাকে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার।
এদিকে, ফোরকানের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে কেন্দ্রের রোগীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে রোগীদের মধ্যে কয়েকজন জানালা ভেঙে বের হয়ে যান।
তবে ফোরকানের মৃত্যুর বিষয়ে ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন।
তবে, শপথ গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, কারণ কিছু আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের নিকট জানতে চায়, বর্তমানে ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই, যথোপযুক্ত কারণে সাংবিধানিকভাবে তাদের করণীয় কি তা জানা দরকার। মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে তাদের মতামত জানায়।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে কায়সার কামালের ওপর কোন সাংবিধানিক বাধা নেই। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত মতামতে বলা হয়েছে যে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, যিনি সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন, তার কারণে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের সকল দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন।
মতামতটি আরও নির্দেশনা প্রদান করে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে, ডেপুটি স্পিকার যেহেতু স্পিকারের সকল দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাই তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর বিষয়ে সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কারণে আদালত ১৮ প্লট ক্রোকের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া, অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও অবরুদ্ধ করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত এ আদেশটি দেন। আদালতে দাখিল করা দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন জেলায় মো. সাহাবুদ্দিনের নামে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ জব্দের জন্যই আদালতে আবেদন করেছে সংস্থাটি।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের নামে থাকা ১৮টি প্লট জব্দের আওতায় এসেছে। এর পাশাপাশি, তার নামে থাকা দুই ব্যাংক হিসাবেও মোট ৩৭ হাজার টাকা রয়েছে, যা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, এসব সম্পদ তার বৈধ ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগের বিষয়ে সম্পদগুলো ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইসলামি ব্যাংকের লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায়ও মো. সাহাবুদ্দিনকে আসামি করা হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ