প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকসহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ দ্বারা। এ ছাড়া, একই ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তাদের নাম ও পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন তথ্য জানা গেছে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হোটেল ‘শিখা ইন’ আবু জাফরের নামেই ইজারা নেওয়া হয়েছিল। তিনি জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। তবে, এই ঘটনায় হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
আনন্দবাজারের অনুসারে, আবু জাফরের পাশাপাশি এ ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। সূত্রের খবরে জানা গেছে, আটক হওয়া দুইজনের মধ্যে একজন কাছের হোটেল ‘যাপন’-এর কর্মী। এই হোটেলের মালিক ও বীরেশ্বর মিত্র।
অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে শো-কজ করেছে দমকল অফিস। তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস পরিচালিত হচ্ছিল। ওই ভবনের হোটেলগুলোতে রয়েছে একাধিক ঘুপচি ঘর। তৃতীয় তলায় ১১০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে চলছিল ‘শিখা ইন’। সেখানে দুই কামরার ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় ছিল পাঁচটি খুপরি ঘর।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৯ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বুধবার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওই দলই পরে শিখা ইনের ইজারাদার আবু জাফরকে আটক করে।
অভিযোগ উঠেছে, শিখা ইনসহ ঐ ভবনে চলা হোটেলগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি না মেনে গড়ে উঠেছিল। আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের ‘অবহেলাকে’ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিষয় থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন