ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৭ দিনে বিজয়-রাশমিকার ‘রণবালি’ আয় করল ৬৩ কোটি ৬৫ লাখ রুপি


৭ দিনে বিজয়-রাশমিকার ‘রণবালি’ আয় করল ৬৩ কোটি ৬৫ লাখ রুপি

বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মন্দানা অভিনীত ঐতিহাসিক ড্রামা সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্যাকনিল্ক-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহে ভারতে সিনেমাটির নেট কালেকশন ৪৫ কোটি ২০ লাখ রুপি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মোট আয় ৬৩ কোটি ৬৫ লাখ রুপি পৌঁছেছে।

ভারতের বাজারে সিনেমাটির মোট ব্যবসা ৫২ কোটি ৫৫ লাখ রুপি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১১ কোটি ১০ লাখ রুপি, ফলে প্রথম সাত দিনে বিশ্বব্যাপী মোট আয় ৬৩ কোটি ৬৫ লাখ রুপি দাঁড়িয়েছে।

রাহুল সংকৃতায়ন পরিচালিত এই ঐতিহাসিক ড্রামা সিনেমাটি গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মুক্তির সপ্তম দিনে ভারতে ৩ কোটি ১৫ লাখ রুপি নেট আয় করেছে। ওই দিন দেশজুড়ে মোট ২,১২৩টি শোয়ে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয় এবং সার্বিক দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩১ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ফারুকী জানালেন, সংসারে ভাঙনের সুর; বিচ্ছেদের গুঞ্জন উঠেছে

বুধবারের ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয়ের তুলনায় বৃহস্পতিবার আয় কমেছে প্রায় ৪২.৭ শতাংশ। বুধবারের ২,২৩২টি শো থেকে কমিয়ে বৃহস্পতিবার শোর সংখ্যা কিছুটা নামিয়ে আনা হয়েছে।

সপ্তম দিনে ছবিটির আনুমানিক ২,৭১,৫৬৩টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, ফলে প্রথম সপ্তাহে মোট টিকিট বিক্রির সংখ্যা ৩৫,৮৪,০৬৭টিতে পৌঁছেছে।

গত ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির দিনেই সিনেমাটি ২,৫১৫টি শো এবং ৫৭ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি নিয়ে ৯ কোটি ২৫ লাখ রুপির শক্তিশালী ওপেনিং করেছিল। এরপর প্রথম শনিবার ৭ কোটি ৩০ লাখ এবং রোববার ৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে গতি ধরে রাখে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির পর আয়ে কিছুটা পতন দেখা দেয়।

সোমবার ৫ কোটি ৪০ লাখ রুপি আয়ের পর মঙ্গলবার কিছুটা বেড়ে ৭ কোটি ১০ লাখ রুপিতে পৌঁছায়, কিন্তু বুধবার ৫ কোটি ৫০ লাখ এবং বৃহস্পতিবার ৩ কোটি ১৫ লাখ আয় করে সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহ শেষ করে।

আরও পড়ুন: বিচারের অপেক্ষায় মেঘলা মুক্তা, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ৩৫ লাখ রুপি আয় করতে সক্ষম হয়েছে ‘রণবালি’।

১৮৭৬-১৮৭৮ সালের মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আমলের রায়লসীমা অঞ্চল নিয়ে সিনেমার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। রাহুল সংকৃতায়নের পরিচালনায় এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানা।

গল্পে দেখা যায় এক অশ্বারোহীকে, যিনি ব্রিটিশদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় নিজ দেশের মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রেক্ষাগৃহে পথচলা অব্যাহত রেখেছে ‘রণবালি’।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের ৮০তম জন্মদিন কাল

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক কউসার আজিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


সাতক্ষীরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক কউসার আজিজ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে চলমান একটি দৃষ্টিনন্দন মেগা প্রকল্পের কাজ ও গুণগত মান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক কউসার আজিজ। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সুন্দরবনে জলদস্যুদের কার্যকলাপ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি এবং শিক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মাছুদুল আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মাছুদুল আলম, মাস্টার আবু তালেব সাগর, আমজিয়াদ হোসেন এবং ইকবাল হোসেন মন্টু সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

তারা গাবুরার চলমান মেগা প্রকল্পের রাস্তার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সুপেয় পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ, ভূমিহীনদের বসতির ব্যবস্থা এবং দৃষ্টিনন্দন এলাকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। অসমাপ্ত খাল খনন এবং মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের গুণগত মান নিয়েও আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসক কউসার আজিজ এ সময় সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি গাবুরার সুপেয় পানির সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত স্কুল না থাকায় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

এছাড়া চলমান মেগা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিমান্ড শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো দীপু মনিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


রিমান্ড শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো দীপু মনিকে

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ড. দীপু মনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে সিআইডি সদস্যরা তাকে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ড. দীপু মনির প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার পর সিআইডির সদস্যরা তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর রিদওয়ানুল হক যুগান্তরকে জানান, দীপু মনির রিমান্ড ছিল। সেই রিমান্ডের পর আদালতের নির্দেশ ছিল তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আবার কারাগারে নিয়ে যেতে। এজন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা কারাগারের উদ্দেশে যাচ্ছি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়ে চমক দেখাল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়ে চমক দেখাল বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে চমক দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি— এসব পদক্ষেপই বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স-২৬ (জিএইচআই) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ১৯ দশমিক ২।

এই স্কোরের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ মাঝারি মাত্রার ক্ষুধার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১ এবং পাকিস্তানের স্কোর ২৫ দশমিক ৫। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো, তবে শ্রীলংকা ও নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত অবস্থানে রয়েছে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এই সূচকগুলো হলো— জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার, শিশুমৃত্যুর হার, বয়সের তুলনায় শিশুদের উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শিশুদের ওজন কম হওয়া। জার্মানির বনভিত্তিক ক্ষুধা মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক সহায়তা সংস্থা হেলভেটাস এবং জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে স্কোর শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ১০-এর কম হলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই হিসাবে বাংলাদেশের ১৯ দশমিক ২ স্কোর মাঝারি মাত্রার ক্ষুধার পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, যা গুরুতর ক্ষুধার পরিস্থিতির নির্দেশ করে। পাকিস্তানের স্কোর ২৫ দশমিক ৫, যা খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, শিশুদের অপুষ্টি, নারীদের কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

চলতি বছরের গ্রীষ্মে নজিরবিহীন দাবদাহের কারণে ইউরোপজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন। তাদের মতে, এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের ইতিহাসে দাবদাহজনিত প্রাণহানির দিক থেকে অন্যতম ভয়াবহ সময় হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণা সাময়িকী নেচার হেলথে প্রকাশিত দুটি গবেষণা নিবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের গ্রীষ্মে দাবদাহে মোট ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস, যিনি প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক, বলেন, দাবদাহজনিত মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

ক্লেয়ার বার্নস আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ঠেকানোর পথ থেকে বিশ্ব অনেকটাই সরে গেছে। তিনি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

বিশ্বের দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ ইউরোপে চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের মধ্যে দাবদাহ এখন অন্যতম প্রাণঘাতী বিপদ হয়ে উঠেছে। মে মাসের শেষ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত পুরো মহাদেশ নজিরবিহীন তাপমাত্রায় পুড়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গরম রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়।

যেভাবে মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণ

চলতি গ্রীষ্মে দাবদাহে প্রাণহানির হিসাব নির্ধারণ করতে ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে তাপমাত্রা কেমন থাকত, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির তুলনা করা হয়।

জুনের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত দাবদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণে উচ্চ তাপমাত্রা ও দৈনিক মৃত্যুর সম্পর্ক নিয়ে আগের পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় ব্যবহৃত একটি মডেল প্রয়োগ করা হয়। গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে পাওয়া আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের কাছাকাছি থাকে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ৫০ হাজার ৩৯১ জনের এই প্রাণহানি গত ২৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ ও ২০০৩ সালে ইউরোপে যে ভয়াবহ দাবদাহ হয়েছিল, এবারের প্রাণহানির সংখ্যা তার চেয়ে বেশি।

দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপে দাবদাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়লেও যুক্তরাজ্যসহ উত্তর ইউরোপের তুলনামূলক শীতল দেশগুলোতেও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

বয়সভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে। তবে ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সি অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুর সঙ্গেও দাবদাহের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

দাবদাহে বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দাবদাহজনিত মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে দাবদাহে মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট উষ্ণতা দায়ী ছিল। বর্তমানে এ হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণাটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকেল নুনেস বলেন, দাবদাহ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, গবেষণার ফল তার প্রমাণ তুলে ধরেছে। এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হওয়ায় দাবদাহকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, কম বয়সি মানুষের মৃত্যুও উদ্বেগের বিষয়। ৬৫ বছরের কম বয়সি হাজার হাজার মানুষ এ গ্রীষ্মে দাবদাহের কারণে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্লেয়ার বার্নস সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকে একের পর এক তীব্র ও বিপজ্জনক গ্রীষ্মের মুখোমুখি হতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দাবদাহ আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: সিএনএন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%