প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বন্ধুমহলে বিয়ের ধুম চলছে, এবং কেউ কেউ সংসার গুছিয়ে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যুগল ছবি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যারা এখনও অবিবাহিত, তাদের প্রায়শই বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়। নিছক কৌতূহল বা মজার ছলে বলা এসব কথা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এমনকি, কাছের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কেও দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
"তোমার বিয়ের বয়স কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে" এই মন্তব্যটি অবিবাহিতদের জন্য সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবনযাপন, পছন্দ ও অগ্রাধিকার আলাদা। কেউ ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে চান, কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, আবার কেউ মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে পান না। বয়সের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্তকে জুড়ে দিয়ে এমন মন্তব্য করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর অযাচিত মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আর কত বাছবিচার করবে?
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে অতিরিক্ত বাছবিচার হিসেবে দেখেন। অথচ সারা জীবন একসঙ্গে কাটানোর জন্য উপযুক্ত মানুষ বেছে নেওয়া একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এমন মন্তব্য অবিবাহিত ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসে আঘাত করতে পারে এবং তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
"বিয়ে না করলে একা একা বিষণ্ণ হয়ে পড়বে" এই ধারণা সঠিক নয়। আবার বিয়ে করলেই যে জীবনে একাকীত্ব থাকবে না, তারও নিশ্চয়তা নেই। অনেকেই অবিবাহিত জীবনেও পরিবার, বন্ধু ও পছন্দের কাজ নিয়ে পরিপূর্ণ জীবন কাটান। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করে বন্ধুর বর্তমান জীবন ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো জরুরি।
বিয়ে করো, জীবন অনেকটাই হালকা লাগবে
বিয়ের পর জীবনে নতুন আনন্দ ও অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে পারে। তবে এর সঙ্গে বাড়ে দায়িত্ব, পারস্পরিক সমঝোতা ও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও। মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া কিংবা অনিচ্ছায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে জীবনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিয়েকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে তুলে ধরা বা কাউকে এ বিষয়ে চাপ দেওয়া উচিত নয়।
"তোমার তো কোনো দায়িত্ব নেই, দিন ভালোই কাটছে" এই ধারণা অবিবাহিতদের জীবনকে দায়িত্বহীন বা দুশ্চিন্তামুক্ত ভাবার সুযোগ দেয় না। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাদেরও নানা চাপ সামলাতে হয়। প্রত্যেকের জীবনের লড়াই আলাদা। তাই কারও বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে তার দায়িত্ব বা সমস্যাকে ছোট করে দেখা অনুচিত।
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সম্মান জরুরি
একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে না করলে অনেকের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অনুমান তৈরি হয়। কখনও বন্ধুদের আড্ডায়, কখনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে এসব প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অবিবাহিতদের। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা বা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিয়ে প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কখন বিয়ে করবেন, আদৌ করবেন কি না, এটি নির্ধারণের অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই। বন্ধুত্বের জায়গা থেকে কাউকে চাপ না দিয়ে তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভালো বন্ধুত্বের পরিচয় খোঁচা দেওয়া কথায় নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও মানসিক সমর্থনে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন