মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোটকাটারার ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে সোমবার বিকেলে আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় ১২ ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন নেভানোর সময় ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন চারজন ফায়ার ফাইটার, যাদেরকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি।
অসুস্থ ফায়ার ফাইটারদের মধ্যে রয়েছেন পলাশী ফায়ার স্টেশনের মো. জিল্লুর রহমান, এই স্টেশনের লিডার মো. নজরুল ইসলাম, সিদ্দিক বাজারের স্টেশন অফিসার মো. মারুফ এবং খিলগাও স্টেশনের লিডার মো. মাহাফুজুর হক মজুমদার।
ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র মো. তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণরূপে নেভাতে এখনও ১০টি ইউনিট কাজ করছে। বর্তমানে আগুন নির্বাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, আগুন নেভানোর কাজে প্রায় ১৫০ জন ফায়ারফাইটার অংশগ্রহণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরু রাস্তা এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে বড় অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি এবং পানিবাহী যান প্রবেশ করানো কঠিন ছিল। এছাড়া, ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতেও সমস্যা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কতটি দোকান বা গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কিত একটি অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্সটি সোমবার (১২ অক্টেবর) বিকেলে কেসিসির শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে খুলনাপ্রান্ত থেকে ঢাকায় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রেস কনফারেন্সে অনলাইনে সব অতিথিসহ অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত হন।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এই সময় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক বিস্তারিত তুলে ধরেন।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা প্রান্তের প্রেসকনফারেন্সে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, তথ্য সংগ্রহকারীরা ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দিলে তা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে।
তিনি আরও জানান, খুলনা সিটি করপোরেশনের আওতায় ১ হতে ৩১নং ওয়ার্ডের মধ্যে ২নং, ৩নং ও ১২নং (আংশিক), ১৬নং, ১৭নং (আংশিক), ২৯নং ও ৩০নং (আংশিক) ওয়ার্ডে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত ওয়ার্ডসমূহের জন্য মোট ৬০টি ট্যাব পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ট্যাব পাওয়ার সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাকিদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২, ৩ ও ১২নং ওয়ার্ড খুলনা-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৬, ১৭, ২৯ ও ৩০নং ওয়ার্ড খুলনা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও জানান, খুলনা-৩ আসনের আওতাধীন (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৩) ১ হতে ১৫নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ১১৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১২ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। খুলনা-২ আসনের আওতাধীন (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১) ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৫ ও ২৬নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯ জন সুপারভাইজার এবং (শহর সমাজসেবা কার্যালয় ২) ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ১০৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত হয়েছে।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশিদ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সোমবার (১২ অক্টেবর) থেকে দেশব্যাপী একযোগে সব এলাকায় খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে।
কর্মীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবে।
এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি ৫ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে ইনপুট প্রদান করা হবে।
পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ হতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামেলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা’ ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সব পরিবারকে আর্থ-সামাজিক পেক্ষাপটে ৫টি কোয়ান্টইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হয়েছে।
সব নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে শুধুমাত্র ১ম, ২য় এবং ৩য় কোয়ান্টইলভুক্ত (নিম্ন স্কোর প্রাপ্ত পরিবার) নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা খরচে নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নেই। এর ফলে, যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষকেও নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়ভাবে বানানো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে।
ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও নদের ওপর সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করেছে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১৩ মিটার। নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে।
কিন্তু সেতুর সঙ্গে সড়কের সংযোগ না থাকায় এটি এখনো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও জনগণ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। বরং সেতুর অবকাঠামো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সেতুটি চালু না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। জরুরি প্রয়োজনে তাদের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক ধরে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়। এই বিকল্প পথ সময়সাপেক্ষ এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ।
এই সড়কটি পাহাড় ও বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায়ও এখানে বনদস্যুদের উৎপাত চলে। যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে মানুষকে জিম্মি করার ঘটনা এখানে নতুন নয়। অনেক সময় যাত্রীদের গভীর বনে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। দস্যুদের গুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এই ঝুঁকির কারণে সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। অর্থাৎ রাতের কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে এলাকার মানুষের হাতে তেমন কোনো বিকল্প থাকে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ সেতুতে ওঠানামা করছেন কাঠের সিঁড়ি দিয়ে। স্থানীয় কৃষক সাদেকুর রহমান জানান, মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য গত জুলাই মাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সিঁড়ি বানানো হয়েছে। এলাকার উৎপাদিত ফসল এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীদেরও ঝুঁকি নিয়ে এই সিঁড়ি দিয়ে সেতুতে তুলতে হয়।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সিঁড়িটি ভেঙে গেলে পারাপার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তিন ইউনিয়নের মানুষের সুবিধার জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সেতু বানালেও তা কোনো কাজে আসছে না।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিক্ষার্থীরা। ঈদগড়ের স্কুলশিক্ষার্থী মোহাম্মদ উল্লাহ জানায়, প্রতিদিন দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এই সিঁড়ি দিয়ে সেতু পার হয়ে ঈদগাঁও ও রামু সদরের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যায়। বৃষ্টি হলে ভেজা কাঠের সিঁড়ি পার হওয়া বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। তার প্রশ্ন, এত দিনেও কেন সেতুটি চালু হলো না। একটি আনুষ্ঠানিক সংযোগ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিন শিশু-কিশোরদের এভাবে ঝুঁকি নিয়ে পড়তে যেতে হচ্ছে, এটি প্রশাসনের জন্যও ভাবনার বিষয়।
স্থানীয়রা মনে করেন, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। ঈদগড় ও গর্জনিয়ার বাসিন্দা আবুল কালাম ও আবদুর রহিমের মতে, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং ঠিকাদারের অবহেলার কারণেই সেতুটি পাঁচ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্যবহার না হওয়ায় সেতুর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে জনগণের করের টাকায় তৈরি একটি সম্পদ অযত্নে ক্ষয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের ডাকাতি কমে আসবে। তখন হাজারো মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, যাতায়াত খরচও অনেক কমবে। অর্থাৎ সেতুটি শুধু যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবেই নয়, এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংযোগ সড়ক না হওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি বাধার কথা বলছেন। ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জানান, সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে। এতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ওপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান। এতে প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।
ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, সেতুটি দ্রুত চালুর জন্য তৎপরতা চলছে। তাঁর ভাষ্য, সেতু চালু করা এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় আগের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাকি কাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর আশ্বাস, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর কাছে এই আশ্বাস নতুন নয়। পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করা মানুষের মনে প্রশ্ন, নতুন দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কত সময় লাগবে। এর মধ্যে জমি-জটিলতার সমাধান না হলে নতুন ঠিকাদারও একই বাধার মুখে পড়তে পারেন। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দরপত্র আহ্বান যথেষ্ট নয়।
জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আগে নিষ্পত্তি করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে ১৩ কোটি টাকার এই সেতু আরও কিছুদিন কাঠের সিঁড়ির ওপর ভর করেই কোনোরকমে টিকে থাকবে, আর ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হবে হাজারো মানুষকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আদালত গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের শ্রম আদালত রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ শ্রম আদালত গঠন করা হয়েছে, শ্রমিক আইন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রবাসীরা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পর যখন পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা ফেরত চাইতে যান, কিংবা তাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়, তখন বছরের পর বছর তারা (প্রবাসীরা) আমাদের আইনজীবীদের পকেটে টাকা দেন, মামলা করতে থাকেন, তাদের জীবন শেষ হয়ে যায় মামলা টেকঅ্যাপ (বিচারক কর্তৃক শুনানির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলার কার্যক্রম) করতে গিয়ে।"
তিনি আরো বলেন, "প্রবাসীদের জন্য আমরা বিশেষ আদালত গঠন করব বিশেষ করে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে। যে আদালত শুধুমাত্র প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সম্পদ সহায়তা দিতে পারবে, যেকোনো ধরনের প্রবাসী মামলা এই আদালত দেখবে, বিশেষায়িত আদালত।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এই পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি এবং আশা করি এটা আমরা অচিরেই শুরু করতে পারব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমানবন্দরের উপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটার আগে সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়নি। অথচ এর আগে, কিছু দিন আগে, দেশের সতর্কতা ব্যবস্থা থেকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চার দফা হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, কেন সৌদি আরবের সতর্কতা ব্যবস্থা নীরব ছিল?
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কে সৌদি সরকার এখনো কোনো প্রকাশ্য তথ্য জানায়নি। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের কয়েকজন এবং বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যে এটি ঘটতে পারে।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। জরুরি পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা প্রদান, উদ্ধারকাজ এবং অগ্নিনির্বাপণের দায়িত্বও এ সংস্থার। গত মে মাসে দেশটি মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান শুরু করে।
কিন্তু ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকলেও, গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী হামলার আগে এ ব্যবস্থা থেকে কোনো সতর্কবার্তা আসেনি। সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের জন্য ছিল।
এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) আবারও সতর্কবার্তা জারি করা হয়। রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। তবে হামলার পরই সতর্কবার্তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার কারণ জানতে চেয়েছিলেন দেশটির মিত্র একটি পশ্চিমা সরকারের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানেন—এমন দুজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের বলা হয়েছিল, সতর্কবার্তার কারণে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটছিল। রাতে সতর্কবার্তা পেয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেক নাগরিক অভিযোগও করেছেন।
তবে সৌদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত সৌদি গবেষক সুলতান আলামের মতে, সৌদি সরকার একই সঙ্গে সামরিক অভিযান চালাতে এবং দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করার চেষ্টা থেকেই সতর্কবার্তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, হামলার বিষয়ে জনসাধারণকে কীভাবে জানানো হবে, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এক ধরনের দ্বিধায় রয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে তারা জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করতে চায় না। কিন্তু আগাম সতর্কবার্তা না থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলার মুখে পড়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশগুলোর পদ্ধতি এক নয়।
কাতার প্রায় প্রতিটি হামলার আগে মুঠোফোনে সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইন ও কুয়েত বারবার সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরবে, তবে, এ মাসে সোমবারের আগপর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সামরিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে রিয়াদ প্রায় এক ডজনবার হামলার শিকার হয়েছে।
সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা কঠিন। বিশাল আয়তনের সৌদি আরবে বিমানবন্দর, জ্বালানি তেলের পাইপলাইন এবং তেল স্থাপনার মতো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।
তার ভাষ্য, একই সময়ে সব স্থাপনা রক্ষার মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সৌদি আরবের হাতে নেই। ফলে দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষার চাহিদা অনেক বেশি।
এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের মতো জনবহুল স্থানে হামলার আগে মানুষকে সতর্ক করা কতটা জরুরি, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা বন্ধ থাকলেও সৌদি আরবে কর্মরত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলো নিজেদের কর্মীদের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। এসব বার্তা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা তথ্য এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হতো।
রয়টার্সের দেখা সতর্কবার্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে প্রথম দিকের দুটি হামলার সময় দূতাবাসের কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছিল। তবে শনিবারের (১০ অক্টোবর) সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার আগে দূতাবাসগুলোও কোনো অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা পায়নি। কেন সেদিন কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
হামলার পরও সোমবার রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি আরব। তবে হামলার কারণে বড় কয়েকটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্মেলনের কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।
সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা বলেন। রিয়াদে আসা অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা জানেন দেশটি নিরাপদ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সম্মেলন আয়োজনের অর্থ এই নয় যে ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে গেছে।
সৌদি আরবের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একদিকে সামরিক হামলার মোকাবিলা করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা বজায় রাখা। কিন্তু প্রাণঘাতী হামলার আগে সতর্কবার্তা না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় দেশটির আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ