মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৪ পি.এম
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আদালত গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের শ্রম আদালত রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ শ্রম আদালত গঠন করা হয়েছে, শ্রমিক আইন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রবাসীরা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পর যখন পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা ফেরত চাইতে যান, কিংবা তাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়, তখন বছরের পর বছর তারা (প্রবাসীরা) আমাদের আইনজীবীদের পকেটে টাকা দেন, মামলা করতে থাকেন, তাদের জীবন শেষ হয়ে যায় মামলা টেকঅ্যাপ (বিচারক কর্তৃক শুনানির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলার কার্যক্রম) করতে গিয়ে।"
তিনি আরো বলেন, "প্রবাসীদের জন্য আমরা বিশেষ আদালত গঠন করব বিশেষ করে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে। যে আদালত শুধুমাত্র প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সম্পদ সহায়তা দিতে পারবে, যেকোনো ধরনের প্রবাসী মামলা এই আদালত দেখবে, বিশেষায়িত আদালত।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এই পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি এবং আশা করি এটা আমরা অচিরেই শুরু করতে পারব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমানবন্দরের উপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটার আগে সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়নি। অথচ এর আগে, কিছু দিন আগে, দেশের সতর্কতা ব্যবস্থা থেকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চার দফা হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, কেন সৌদি আরবের সতর্কতা ব্যবস্থা নীরব ছিল?
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কে সৌদি সরকার এখনো কোনো প্রকাশ্য তথ্য জানায়নি। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের কয়েকজন এবং বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যে এটি ঘটতে পারে।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। জরুরি পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা প্রদান, উদ্ধারকাজ এবং অগ্নিনির্বাপণের দায়িত্বও এ সংস্থার। গত মে মাসে দেশটি মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান শুরু করে।
কিন্তু ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকলেও, গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী হামলার আগে এ ব্যবস্থা থেকে কোনো সতর্কবার্তা আসেনি। সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের জন্য ছিল।
এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) আবারও সতর্কবার্তা জারি করা হয়। রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। তবে হামলার পরই সতর্কবার্তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার কারণ জানতে চেয়েছিলেন দেশটির মিত্র একটি পশ্চিমা সরকারের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানেন—এমন দুজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের বলা হয়েছিল, সতর্কবার্তার কারণে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটছিল। রাতে সতর্কবার্তা পেয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেক নাগরিক অভিযোগও করেছেন।
তবে সৌদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত সৌদি গবেষক সুলতান আলামের মতে, সৌদি সরকার একই সঙ্গে সামরিক অভিযান চালাতে এবং দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করার চেষ্টা থেকেই সতর্কবার্তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, হামলার বিষয়ে জনসাধারণকে কীভাবে জানানো হবে, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এক ধরনের দ্বিধায় রয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে তারা জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করতে চায় না। কিন্তু আগাম সতর্কবার্তা না থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলার মুখে পড়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশগুলোর পদ্ধতি এক নয়।
কাতার প্রায় প্রতিটি হামলার আগে মুঠোফোনে সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইন ও কুয়েত বারবার সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরবে, তবে, এ মাসে সোমবারের আগপর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সামরিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে রিয়াদ প্রায় এক ডজনবার হামলার শিকার হয়েছে।
সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা কঠিন। বিশাল আয়তনের সৌদি আরবে বিমানবন্দর, জ্বালানি তেলের পাইপলাইন এবং তেল স্থাপনার মতো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।
তার ভাষ্য, একই সময়ে সব স্থাপনা রক্ষার মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সৌদি আরবের হাতে নেই। ফলে দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষার চাহিদা অনেক বেশি।
এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের মতো জনবহুল স্থানে হামলার আগে মানুষকে সতর্ক করা কতটা জরুরি, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা বন্ধ থাকলেও সৌদি আরবে কর্মরত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলো নিজেদের কর্মীদের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। এসব বার্তা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা তথ্য এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হতো।
রয়টার্সের দেখা সতর্কবার্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে প্রথম দিকের দুটি হামলার সময় দূতাবাসের কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছিল। তবে শনিবারের (১০ অক্টোবর) সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার আগে দূতাবাসগুলোও কোনো অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা পায়নি। কেন সেদিন কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
হামলার পরও সোমবার রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি আরব। তবে হামলার কারণে বড় কয়েকটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্মেলনের কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।
সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা বলেন। রিয়াদে আসা অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা জানেন দেশটি নিরাপদ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সম্মেলন আয়োজনের অর্থ এই নয় যে ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে গেছে।
সৌদি আরবের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একদিকে সামরিক হামলার মোকাবিলা করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা বজায় রাখা। কিন্তু প্রাণঘাতী হামলার আগে সতর্কবার্তা না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় দেশটির আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা জোরদার করছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, নাইট ভিশন ডিভাইস, ড্রোন, রাডার এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা প্রচলিত টহল ও জনবলনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
বিজিবি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার, অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর নজরদারি বাড়ানো, সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে অবহিত করার ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্তের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন বিবেচনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "প্রচলিত টহল ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সমন্বয় ঘটিয়ে সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ আরও জানান, সিসিটিভি ও দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ ক্যামেরার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি তাপের পার্থক্য শনাক্ত করে অন্ধকার ও সীমিত দৃশ্যমানতার পরিবেশে নজরদারিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, নাইট ভিশন ডিভাইসের সাহায্যে রাতের বেলায় পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়।
এসব প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার সীমান্তে সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত করা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিস্তীর্ণ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে ড্রোন প্রযুক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশপথে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা, নদী ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। পাশাপাশি, রাডার ও অন্যান্য সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গতিবিধি শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
আধুনিক বেতার ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সমন্বয় নিশ্চিত করাও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তি কখনোই সীমান্তরক্ষীদের বিকল্প নয়; বরং এটি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত সদস্যদের উপস্থিতি, স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত স্থাপন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। একইসঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তা, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং প্রযোজ্য আইন ও মানবাধিকারের নীতিমালা অনুসরণ করাও জরুরি।
ভারতের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭১ কিলোমিটার।
দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় এই সীমান্তের বিভিন্ন অংশে নদী, পাহাড়, বনাঞ্চল, চর ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি থাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা বিজিবির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) স্থাপন, বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আধুনিক নজরদারি সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্ত অপরাধ দমনে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের টহলের সমন্বিত ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি জোরদার এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল পরিকল্পনা করা হলে সীমিত জনবল ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির নিয়মিত অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দের ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবি প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের টহল কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় এ বাহিনীর আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বিজিবি। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সময়ে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
‘রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, চলতি বছরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
আইএমএফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, একের পর এক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলেও বিশ্ব অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সক্ষমতা সব দেশের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত নয়। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া দেশগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে কম সম্পৃক্ত দেশগুলো বেশি চাপের মুখে পড়ছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করছে আইএমএফ। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহব্যবস্থায় পরিবর্তন, মজুত ব্যবহার এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে। এসব কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি তাৎক্ষণিকভাবে আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়া থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে অথবা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে বিঘ্ন ঘটলে, জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানির বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং উৎপাদন ব্যয়, আমদানি ব্যয় এবং সরকারের ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি করবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য ও সেবা উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, অথচ প্রযুক্তি খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নেই, সেসব দেশ সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। জ্বালানি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হলে এসব দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও বিনিময় হারের ওপর চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যেতে পারে। সরকারের রাজস্ব ও আর্থিক সক্ষমতা সীমিত থাকলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও কঠিন হয়ে উঠবে।
নিম্ন আয়ের এবং অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে গেলে এসব দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে চিহ্নিত করেছে আইএমএফ। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অথবা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করলে, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকারি বাজেট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করাও অনেক দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, সাইবার আক্রমণ এবং চরম আবহাওয়ার মতো ঘটনাও বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সরবরাহব্যবস্থায় বাস্তব বিঘ্ন ঘটলে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনে ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে এবং পণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ, শুল্ক বৃদ্ধি এবং উৎপাদনব্যবস্থায় পরিবর্তন বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে। ২০২৭ সালে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বড় অর্থনীতিগুলোতে ঋণের ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো খাতে সরকারের অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নতুন কোনো সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা আর্থিক সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। ঋণের ব্যয় ও অন্যান্য সরকারি ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা কমিটিতে সাংগঠনিক পদে থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলু। বরখাস্তের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। তার এই সংবাদ সম্মেলন সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
সোমবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশের ভিত্তিতে, মো. সফিউল্লাহ জগলু ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, সফিউল্লাহ জগলু এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তের খবর প্রকাশের পর সোমবার সন্ধ্যায় সফিউল্লাহ জগলু চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া ও সংবাদ সম্মেলন করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আচরণবিধি অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা (বিধি ২২) অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি বা নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র ছাড়া গণমাধ্যমে কথা বলতে, মতামত প্রকাশ করতে বা সংবাদ সম্মেলন করতে পারবেন না।
বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক মন্তব্য করেন, ওই কর্মকর্তা সংবাদ করেছে বিষয়টি আমার জানা নাই। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এটি বিভাগীয় চাকরির অংশ। তবে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন না।
উল্লেখযোগ্য যে, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের স্বাক্ষরে আগামী ছয় মাসের জন্য দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে মো. সফিউল্লাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ