ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘পাঁচ বছরের মেয়ে বাবাকে কখনো দেখেনি, মরদেহও কি দেখবে না?’


‘পাঁচ বছরের মেয়ে বাবাকে কখনো দেখেনি, মরদেহও কি দেখবে না?’

সৌদি আরবের আবহা শহরে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মো. সোহাগ নামে এক বাংলাদেশির ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু ঘটে। তার মরদেহ সেখানে একটি হাসপাতালের হিমঘরে এক সপ্তাহ ধরে পড়ে রয়েছে। সোহাগের পরিবার এখন সরকারের সহযোগিতা চাইছে তার মরদেহ দেশে আনার জন্য।

মো. সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায়। তার বাবা রফিক উদ্দিনও সৌদিপ্রবাসী ছিলেন এবং ২০০৩ সালে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। রফিক উদ্দিনের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি, ফলে তাকে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়। এখন সোহাগের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তার পরিবার।

এ বিষয়ে তার বোন রোকসানা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বাবা ২৩ বছর আগে সৌদি আরবে মারা গিয়েছিলেন। তার লাশ দেশে আনতে পারিনি। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। এখন আবার আমার ভাইয়েরও সৌদি আরবে মৃত্যু হয়েছে। তার লাশটাও কি দেশে আনতে পারব না?’

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইল, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে

রোকসানা তার পাঁচ বছরের ভাতিজির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পাঁচ বছরের মেয়েটি বাবাকে কখনো সামনাসামনি দেখেনি, লাশটাও কি দেখবে না?’

রফিক উদ্দিনের একমাত্র ছেলে মো. সোহাগ ২০১৮ সালে সৌদি আরবে যান। সর্বশেষ ২০২১ সালে দেশে আসেন এবং ওই বছরেই আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। সোহাগের দুটি মেয়ে রয়েছে; বড় মেয়ের নাম ফাতেমা জাহান ইকরা, যার বয়স ১০ বছর। ছোট মেয়েটি, উম্মে জামিলা ঈশা, পাঁচ বছর বয়সী। সোহাগ যখন সর্বশেষ সৌদি আরবে ফেরেন, তখন ঈশা তার মায়ের গর্ভে ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর ফলে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। ঘরে তার স্ত্রী আমেনা বেগম, দুই সন্তান এবং মা রৌশন আরা বেগম রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহাগের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করেই দিন কাটাচ্ছেন। তার স্ত্রী প্রায়ই আহাজারি করতে করতে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পাওয়ার পর করণীয় নির্দেশনা

রোকসানা আক্তার জানান, কয়েক মাস আগে সোহাগের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং পাসপোর্টও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এসব নবায়ন করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।

রোকসানা বলেন, ‘আমরা চাই, আমার ভাইয়ের লাশটা যেন সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করে। আমরা যেন তাকে শেষবারের মতো একটু দেখতে পারি, এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে পারি। তার দুই মেয়ে যেন বাবার লাশটা অন্তত দেখতে পারে। এতটুকুই শুধু চাই সরকারের কাছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার চারটি টার্মিনাল দ্রুত সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


ঢাকার চারটি টার্মিনাল দ্রুত সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধানে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এই চারটি বাস টার্মিনালকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গৃহীত নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, এসব বিষয় নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এই চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কাচপুর, পূর্বাচল—এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এছাড়া, গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যানজট নিরসন নীতির মধ্যে যে ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি কতটুকু এবং বাস্তবায়নের দিকে কতটা অগ্রসর হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো যাতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং উপযুক্ত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, যানজট নিরসনে সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখন আরো গতি আনা প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, পরিবহন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। টার্মিনাল স্থানান্তর, বিকল্প ডিপো ব্যবহার, গাবতলী সম্প্রসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের কাজগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি বৃহত্তর ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা ধীরে ধীরে নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


ইবিতে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিরাপদ হোক রক্তদান, আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তিমার উদ্যোগে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।

সেমিনারটি রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনের নবীন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়, প্রবীণ সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়, বেস্ট ভলান্টিয়ারদের ক্রেস্ট দেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ রক্তদাতাদের সার্টিফিকেট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

রক্তিমার সভাপতি সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আল মামুন ও হিতুআরা খাতুনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. আসাদ-উদ-দৌলা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও নিয়মানুবর্তিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে এবং তাদের মধ্যে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবার কিংবা স্ট্রিট ভেন্ডরগুলোর খাবারের মান সবসময় শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও, অনিয়মিতভাবে খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত রাত জাগার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও পরিমিত খাবার গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭০ বছর হলেও পড়ালেখা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীলতার সময় বাদ দিলে একজন মানুষ মূলত নিজের নিয়ন্ত্রণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় কাটানোর সুযোগ পায়। তাই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবনের এই সময়কে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য রক্তিমাকে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্তমান সরকারকে ১৩০০ প্রকল্পের বিশাল আর্থিক দায় বহন করতে হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


বর্তমান সরকারকে ১৩০০ প্রকল্পের বিশাল আর্থিক দায় বহন করতে হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকারকে বিপুল পরিমাণ অপরিকল্পিত ঋণ এবং প্রায় ১,৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিশাল আর্থিক দায়ভার বহন করতে হচ্ছে। এটি তিনি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই অধিবেশনে সংসদ সদস্য জনাব রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকায় পৌঁছেছে। জনগণের ওপর থেকে এই ঋণের চাপ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনা। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের নতুন ঋণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অহেতুক ব্যয় সাশ্রয়ী করতে অগ্রাধিকারবহির্ভূত প্রকল্পগুলো বন্ধ বা স্থগিত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারকে সুসংহত করার জন্য এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজার কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ ঠেকাতে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এর সুদের হারকে বাজারভিত্তিক করার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে। এছাড়া হঠাৎ অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত অর্থায়ন এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ এবং নগদ প্রবাহের নিখুঁত হিসাব রাখতে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের অর্থনৈতিক দূরভিসন্ধি ও প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ সদস্য রানু তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, বর্তমান ঋণের ৭৮ শতাংশই বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে নেওয়া হয়েছে, যা সাড়ে ১৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি এবং এর বড় অংশই পাচার করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জবাবে বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অপচয়মূলক ঋণের খেসারত ও বিশাল দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। স্বল্প সময়ে নেওয়া এসব ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতি চরম চাপের মুখে পড়েছে এবং সরকারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

বিনিয়োগের মূলনীতি সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেকোনো টেকসই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত দিক- এই চারটি নীতি অনুসরণ করা আবশ্যক। তবে বিগত সরকারের আমলে অধিকাংশ প্রজেক্টেই এর কোনোটিই তোয়াক্কা করা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আমাদের ওপর প্রায় ১৩০০টি প্রকল্পের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি প্রজেক্টের আলাদা ইভ্যালুয়েশন করছি। ইতোমধ্যেই বহু অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে, যেগুলো সমাপ্তির কাছাকাছি, সেগুলো শেষ করা ছাড়া উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ভিশন ও দিকনির্দেশনায় আমরা সব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনব।

বিদেশফেরত কর্মী ও প্রবাসীদের দেশের বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দুই পর্যায়ে মোট ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন ঋণ দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, প্রবাসীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্মানজনক পুনর্বাসনে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে দুই দফায় ১,০০০ কোটি টাকা করে মোট ২,০০০ কোটি টাকার এই বিশেষ তহবিল ১০ বছর মেয়াদে মাত্র ৪ শতাংশ ব্যাংক রেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাহক বা সুবিধাভোগী পর্যায়ে এ ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ।

এই ঋণের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীরা এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, সেবা ও বাণিজ্যসহ নানা উৎপাদনশীল খাতে এই অর্থের বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাক-অর্থায়ন কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৪২ হাজার ৭৬২ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪২ হাজার ৩০৩ জন সুবিধাভোগী প্রত্যক্ষভাবে ঋণ গ্রহণ করেছেন। প্রথম পর্যায়ের সফল বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় ধাপের বিতরণ কাজও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ টাকায় প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বেল্লাল প্যাদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


২০ টাকায় প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বেল্লাল প্যাদা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বেল্লাল প্যাদা (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশাল বন্দর থানার এসআই রুনু সরদার তাকে আটক করেন। এই ঘটনার পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেল্লাল প্যাদাকে একমাত্র আসামি করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া বেল্লাল প্যাদা রানিরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েটি নদীর ঘাটে গোসল করতে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এসে গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি অভিযোগ করে, গোসলের সময় বেল্লাল প্যাদা তাকে ফুঁসলিয়ে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে গোসল করিয়ে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য নেয় এবং কথিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি বন্দর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে এসআই রুনু সরদার অভিযান চালিয়ে বেল্লাল প্যাদাকে আটক করেন। এদিকে, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে বেল্লাল প্যাদার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও বেল্লালের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে হলতা বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে তার মাথার চুল কামিয়ে জুতার মালা পড়িয়ে বাজারে ঘোরানো হয়েছিল। এছাড়া নারীদেরকে কু-দৃষ্টিতে দেখা, ধর্ষণচেষ্টা এবং এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগের কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। তবে এসব পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক মামলা বা আদালতের নথি পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারীদের প্রতি অসদাচরণ ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বারবার আলোচনায় আসা বেল্লাল এবার একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতেই পারে না। এমন একটি শিশুকে যদি কেউ ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে থাকে, তাহলে তার কোনোভাবেই ছাড় পাওয়া উচিত নয়।" তাদের দাবি, বেল্লালের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগের কথা শুনেছি। এবার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতের মাধ্যমে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুক। ভবিষ্যতে যেন কোনো অপরাধী এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাঈল হোসেন বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বেল্লাল প্যাদা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%