প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সৌদি আরবের আবহা শহরে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মো. সোহাগ নামে এক বাংলাদেশির ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু ঘটে। তার মরদেহ সেখানে একটি হাসপাতালের হিমঘরে এক সপ্তাহ ধরে পড়ে রয়েছে। সোহাগের পরিবার এখন সরকারের সহযোগিতা চাইছে তার মরদেহ দেশে আনার জন্য।
মো. সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায়। তার বাবা রফিক উদ্দিনও সৌদিপ্রবাসী ছিলেন এবং ২০০৩ সালে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। রফিক উদ্দিনের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি, ফলে তাকে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়। এখন সোহাগের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তার পরিবার।
এ বিষয়ে তার বোন রোকসানা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বাবা ২৩ বছর আগে সৌদি আরবে মারা গিয়েছিলেন। তার লাশ দেশে আনতে পারিনি। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। এখন আবার আমার ভাইয়েরও সৌদি আরবে মৃত্যু হয়েছে। তার লাশটাও কি দেশে আনতে পারব না?’
রোকসানা তার পাঁচ বছরের ভাতিজির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পাঁচ বছরের মেয়েটি বাবাকে কখনো সামনাসামনি দেখেনি, লাশটাও কি দেখবে না?’
রফিক উদ্দিনের একমাত্র ছেলে মো. সোহাগ ২০১৮ সালে সৌদি আরবে যান। সর্বশেষ ২০২১ সালে দেশে আসেন এবং ওই বছরেই আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। সোহাগের দুটি মেয়ে রয়েছে; বড় মেয়ের নাম ফাতেমা জাহান ইকরা, যার বয়স ১০ বছর। ছোট মেয়েটি, উম্মে জামিলা ঈশা, পাঁচ বছর বয়সী। সোহাগ যখন সর্বশেষ সৌদি আরবে ফেরেন, তখন ঈশা তার মায়ের গর্ভে ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর ফলে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। ঘরে তার স্ত্রী আমেনা বেগম, দুই সন্তান এবং মা রৌশন আরা বেগম রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহাগের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করেই দিন কাটাচ্ছেন। তার স্ত্রী প্রায়ই আহাজারি করতে করতে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন।
রোকসানা আক্তার জানান, কয়েক মাস আগে সোহাগের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং পাসপোর্টও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এসব নবায়ন করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।
রোকসানা বলেন, ‘আমরা চাই, আমার ভাইয়ের লাশটা যেন সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করে। আমরা যেন তাকে শেষবারের মতো একটু দেখতে পারি, এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে পারি। তার দুই মেয়ে যেন বাবার লাশটা অন্তত দেখতে পারে। এতটুকুই শুধু চাই সরকারের কাছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন