০১:১১ পি.এম
সিলেটের বিয়ানীবাজারের শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠান প্রধান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মিন্টু পালিয়ে এসেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সমিতির দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে নতুন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই কর্মকর্তার পরিচয় হলো- বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের মাথিউরা দুধবকশী গ্রামের খালেদা বেগম এবং বিয়ানীবাজার পৌরসভার নয়াগ্রামের খয়রুল ইসলাম। তাদের মধ্যে খালেদা বেগম হলেন সমিতির ক্যাশিয়ার এবং খয়রুল ইসলাম রিসিপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
তাহেরা পারভীন শেফা নামে একজন ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় পৌর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে আব্দুল মান্নান মিন্টুর নাম রয়েছে, এবং খয়রুল ইসলাম ও খালেদা বেগম ২ ও ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
এটা জানা গেছে যে, পৌরশহরের কলেজ রোডে প্রতিষ্ঠিত শ্রেণির সমিতি বেশ কয়েক বছর ধরে বিয়ানীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহক সংগ্রহ করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিক মুনাফা ও আকর্ষণীয় লাভাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রথম অবস্থায় নিয়মিত লাভাংশ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি নানা অজুহাতে অর্থ ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
অভিযোগ উঠেছে যে, গত year's ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমিতির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। এরপর থেকে আমানতকারীরা বারবার অফিসে গেলেও তাদের জমা টাকা কিংবা প্রতিশ্রুত লাভাংশ ফেরত পাচ্ছেন না। অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, টাকা চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হইয়েছে। এমনকি কয়েকজন মারধরের শিকারও হয়েছেন।
মামলার বাদী তাহেরা পারভীন শেফা গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি এক প্রতিবন্ধী বোন ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি। কষ্টার্জিত টাকা মিন্টু স্যারের কথায় শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতিতে ডিপোজিট করেছিলাম। বিগত দুই বছর থেকে সেই টাকা পাওয়ার আশায় বারবার অফিসে ধর্না দিয়েও মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমি কোর্টে মামলা করেছি।"
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তিলপাড়া ইউনিয়নের দাসউরা গ্রামের ভুক্তভোগী হলেন সিদ্দিক আহমদ। তিনি বলেন, "আমি দীর্ঘদিন সৌদে ছিলাম। সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডে ৭-৮ লাখ টাকা সঞ্চয় করি। আমি ভেবেছিলাম, দেশে ফিরে লাভাংশসহ মূল অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও বৈবাহিক কাজ সম্পন্ন করব। দেশে ফিরে তাদের অফিসে অনেকবার গিয়েও টাকা পাইনি। বরং তারা আমাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।"
একই ইউনিয়নের আরও দুই ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন ও জয়নুল ইসলাম বলেছেন, "বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে আব্দুল মান্নান মিন্টু ও তার অফিসের কর্মকর্তাদের পেছনে ঘুরে ২/৩ বার ৫০০/১০০০ টাকা করে পেয়েছি। কিন্তু মূলধনের দেখা নেই। আমরা এই সমিতিতে সঞ্চয় করে নিঃস্ব হয়ে গেছি। বারবার তাদের অফিসে গিয়ে আশ্বাস আর হুমকি-ধমকি ও গালিগালাজ শুনেছি।"
এই বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান মিন্টুর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, "এক ভুক্তভোগীর করা মামলায় দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবো। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন