বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ পি.এম
পূর্ব বিরোধের কারণে সুনামগঞ্জে মধ্যবয়সী এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করা হয়েছে এবং জোর করে তার মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম সোনা মিয়া, যিনি সোনাই পাগলা নামেও পরিচিত, তার বয়স ৫০ বছর।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টার পর জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে, খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে। ঘটনার কয়েক মিনিটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোনা মিয়া দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. মাখন মিয়া, যিনি রানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাখন মিয়া সোনা মিয়ার মাথার মেহেদী রঙ করা লম্বা চুল কাচি দিয়ে কেটে দিচ্ছেন। সোনা মিয়া মাখন মিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে ধরে চুল কেটে দেন মাখন মিয়া। এ সময় মাখন মিয়া তাকে লাথি মারতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সোনা মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "মাখন ভাই দয়া করেন, ও মাখন ভাই, ও মাখন ভাই আমরা চুলডা আর কাইট্টনারেবো মাখন ভাই। মাখন ভাই, ও মাখন ভাই আমারে ছাইড়া দেইন।" কিন্তু সোনা মিয়ার কথাগুলো শুনে মাখন মিয়া উল্টো গালি-গালাজ করতে থাকেন।
সোনা মিয়া আরও বলেন, "এক বছর আগের ঘটনাতো শেষ অইছে ওই সময়।" ঘটনার সময় সোনা মিয়া তার পরনের ছেঁড়া গেঞ্জি দেখিয়ে স্থানীয়দের বলেন, "আপনারা দেখইন, আমিতো কইরাম দেইক্কা দিমু, একদিন ইতা শক্তি আমিও খাটাইমু যা। এক বছর আগে তার সঙ্গে একটা ঘটনা করছিলাম।"
চুল কাটা শেষ হলে সোনা মিয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, "আমার বাড়ি দিরাই, এর হিসাব পাইবে তুই।" এরপর বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সোনা মিয়া ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, "রানীগঞ্জের মাখন গুন্ডা আমার চুল কাইট্টা দিছে। আমি আপনারের দেখানির লাগি জানাইরাম।" তিনি আরও বলেন, "এক বছর আগে দিরাইয়ে মাখনের লগে একটা বিষয় অইছিল, মুরব্বীরা শেষ কইরা দিছঅইছন। আমি রানীগঞ্জে বাজারে টমটম থেকে নামার পর চা খাওয়ার সময় মাখন আমার চুল কাইট্টা দিছে।"
অভিযুক্ত মাখন মিয়া ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, "সোনা মিয়ার সঙ্গে আগে পরিচয় ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসের এক রাতে আমাকে দিরাইয়ের দাওয়াত করে নিয়ে সে আর ৫-৭ জন আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও নির্যাতন করেছিল। ঘটনাটি আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছে। বহুদিন পর আজ তাকে পেয়েছিলাম। তবে তার সঙ্গে যে আচরণ করেছি সেটা ঠিক হয়নি। রাগের মাথায় এসব করেছি। রাগ কমার পর বুঝতে পেরেছি তাকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে আমি অপরাধ করেছি। আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এখন সে যদি আইনি ব্যবস্থা নেয় নিবে।"
জগন্নাথপুর থানার ভারাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "এমন কোন ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। থানায় বা পুলিশকে কেউ জানায়নি বা কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল বেলায় উপজেলার পালারচর এলাকার পদ্মার চরে জঙ্গলের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পেয়ে মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পাওয়ার পর, ফাঁড়ির এসআই এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে সেদিন মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন, বুধবার সকালে নৌ পুলিশের সদস্যরা পুনরায় জাজিরার পালারচর সংলগ্ন পদ্মার চরে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। একপর্যায়ে চরের জঙ্গলে আটকে থাকা অবস্থায় মরদেহটি ভাসতে দেখে তা উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়।
মরদেহটি পচে গলে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং নিহতের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কংকন কুমার বিশ্বাস জানান, খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার থেকেই নদীতে তল্লাশি চলছিল। বুধবার চরের জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় মেলার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের শিল্পকারখানা, পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন তেল আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর—এই চার মাসের বাড়তি চাহিদা মেটাতে এবং পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সিসিইএ’র ২৯তম সভায় এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সরকারি পর্যায়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে এই ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল দেশে আমদানি করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত এই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ২০২৬ সালের নির্ধারিত মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বছরের শেষ চার মাসে পরিবহন, বিমান চলাচল ও শিল্প খাতে জ্বালানির ব্যবহার প্রতিবছরই বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার জন্য সরকার আগেভাগে এই আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এ সময় ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহিমকে আটক করা হয়েছে। তিনি দুটি ভ্যানে করে বাড়ি থেকে বইগুলো অন্যত্র পাচার করার চেষ্টা করছিলেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামের ইব্রাহিমের বাড়ি থেকে বইগুলো উদ্ধার করা হয়। মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, ইব্রাহীম হোসেন মাঝে মাঝে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার তিনি কয়েক ভ্যান পাঠ্যবই ওই গুদাম থেকে কিনে আনেন। পরে বাড়িতে রেখে বুধবার অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করেন। সন্দেহবশত গ্রামের কয়েকজন যুবক খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, সবই নবম-দশম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবই। এরপর তারা স্থানীয় সংবাদকর্মী, থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। তারা পাঠ্যবই জব্দ করেন এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠান।
ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন জানান, তিনি মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে এসব বই কেজি দরে কিনে এনেছেন। কাজেই তার কোনো দোষ নেই।
বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক অফিসার মো. মহিউদ্দীন জানান, তার অগোচরে নাইটগার্ড এ কুকর্ম করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিনামূল্যের এসব পাঠ্যবই কীভাবে, কোথা থেকে এলো, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে ২৫ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিলে একে একে ২৫ জন শিক্ষার্থী পড়ে যায়। এতে বিদ্যালয়ের পুরো প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গরম অথবা সাইকোলজিক্যাল (গণ-মনস্তাত্ত্বিক) কোনো কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ