প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পূর্ব বিরোধের কারণে সুনামগঞ্জে মধ্যবয়সী এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করা হয়েছে এবং জোর করে তার মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম সোনা মিয়া, যিনি সোনাই পাগলা নামেও পরিচিত, তার বয়স ৫০ বছর।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টার পর জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে, খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে। ঘটনার কয়েক মিনিটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোনা মিয়া দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. মাখন মিয়া, যিনি রানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাখন মিয়া সোনা মিয়ার মাথার মেহেদী রঙ করা লম্বা চুল কাচি দিয়ে কেটে দিচ্ছেন। সোনা মিয়া মাখন মিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে ধরে চুল কেটে দেন মাখন মিয়া। এ সময় মাখন মিয়া তাকে লাথি মারতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সোনা মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "মাখন ভাই দয়া করেন, ও মাখন ভাই, ও মাখন ভাই আমরা চুলডা আর কাইট্টনারেবো মাখন ভাই। মাখন ভাই, ও মাখন ভাই আমারে ছাইড়া দেইন।" কিন্তু সোনা মিয়ার কথাগুলো শুনে মাখন মিয়া উল্টো গালি-গালাজ করতে থাকেন।
সোনা মিয়া আরও বলেন, "এক বছর আগের ঘটনাতো শেষ অইছে ওই সময়।" ঘটনার সময় সোনা মিয়া তার পরনের ছেঁড়া গেঞ্জি দেখিয়ে স্থানীয়দের বলেন, "আপনারা দেখইন, আমিতো কইরাম দেইক্কা দিমু, একদিন ইতা শক্তি আমিও খাটাইমু যা। এক বছর আগে তার সঙ্গে একটা ঘটনা করছিলাম।"
চুল কাটা শেষ হলে সোনা মিয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, "আমার বাড়ি দিরাই, এর হিসাব পাইবে তুই।" এরপর বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সোনা মিয়া ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, "রানীগঞ্জের মাখন গুন্ডা আমার চুল কাইট্টা দিছে। আমি আপনারের দেখানির লাগি জানাইরাম।" তিনি আরও বলেন, "এক বছর আগে দিরাইয়ে মাখনের লগে একটা বিষয় অইছিল, মুরব্বীরা শেষ কইরা দিছঅইছন। আমি রানীগঞ্জে বাজারে টমটম থেকে নামার পর চা খাওয়ার সময় মাখন আমার চুল কাইট্টা দিছে।"
অভিযুক্ত মাখন মিয়া ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, "সোনা মিয়ার সঙ্গে আগে পরিচয় ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসের এক রাতে আমাকে দিরাইয়ের দাওয়াত করে নিয়ে সে আর ৫-৭ জন আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও নির্যাতন করেছিল। ঘটনাটি আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছে। বহুদিন পর আজ তাকে পেয়েছিলাম। তবে তার সঙ্গে যে আচরণ করেছি সেটা ঠিক হয়নি। রাগের মাথায় এসব করেছি। রাগ কমার পর বুঝতে পেরেছি তাকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে আমি অপরাধ করেছি। আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এখন সে যদি আইনি ব্যবস্থা নেয় নিবে।"
জগন্নাথপুর থানার ভারাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "এমন কোন ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। থানায় বা পুলিশকে কেউ জানায়নি বা কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন