ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঠাণেতে হোটেলে দেহব্যবসার অভিযোগে উদ্ধার টেলিভিশন অভিনেত্রী


ঠাণেতে হোটেলে দেহব্যবসার অভিযোগে উদ্ধার টেলিভিশন অভিনেত্রী

ভারতের মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে মানব পাচার ও দেহব্যবসার অভিযোগে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫ বছর বয়সী এক টেলিভিশন অভিনেত্রীকে। পুলিশের দাবি, বিনোদনজগতের সঙ্গে যুক্ত নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের কার্যক্রম এটি।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর ঠাণের মীরা-ভয়ন্দর রোডের একটি হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানে তবস্সুম ওরফে সোনিয়া উমর কুরেশি (৩৯) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের একজন সদস্য ক্রেতার ছদ্মবেশে ওই হোটেলে প্রবেশ করেন। পরে অর্থ লেনদেনের সময় অভিযান চালিয়ে তবস্সুমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: বিয়ের জন্য এক বছর বিজয়ের পেছনে লেগেছিলেন রাশমিকা

উদ্ধার হওয়া অভিনেত্রী হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন। উদ্ধারের পর তাকে মুম্বাইয়ের রেসকিউ ফাউন্ডেশনে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তবে তার নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। কীভাবে তিনি ওই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পুলিশের অভিযোগ, তবস্সুম ও তার এক পুরুষ সহযোগী বিনোদনজগতের নারীদের লক্ষ্য করতেন। টেলিভিশন ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ ও ফটোশুটে কাজ করা নারীদের জোর করে দেহব্যবসায় নামানোর সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুরুষ সহযোগী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার বাসিন্দা তবস্সুম মুম্বাইয়ের যোগেশ্বরী এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪৩ ধারা এবং অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে গান গাইতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার ইমন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিলেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


গাজীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিলেন স্বামী

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের কারণে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা রানী দাসকে (২৫) হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী উদ্ভব দাসের বিরুদ্ধে। সীমাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর উদ্ভব দাস জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর দেন। পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের বড়চালা এলাকায় এই নির্মম ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা রানী দাস একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী উদ্ভব দাস ওই গ্রামের নকুল দাসের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল হক জানান, স্ত্রীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর উদ্ভব নিজেই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সীমা রানীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল এবং ঘরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছাপ দেখা গেছে। ঘরের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সেখানে ধস্তাধস্তি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পারিবারিক কলহের কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। তার গলায় ও মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে চার টুকরো করে ব্যাগে ভরে রাখার অভিযোগে স্বামী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


স্ত্রীকে চার টুকরো করে ব্যাগে ভরে রাখার অভিযোগে স্বামী আটক

রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশ শিরিন বেগম নামে এক নারীর চার টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে একটি ব্যাগে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্দেহের কারণে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শিরিন বেগমের স্বামী দুলাল হাওলাদার তাকে হত্যা করে এবং পরে লাশটি চার টুকরা করে। এরপর তিনি লাশের টুকরোগুলো একটি ব্যাগে রাখেন।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুলাল হাওলাদারকে আটক করেছে। জানা গেছে, দুলাল পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।

যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এস এম মঈন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শিরিন দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি স্বামীর সঙ্গে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। শিরিনের মোবাইলে অন্য কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার কারণে তার স্বামী সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দুই দিন ধরে ঝগড়া চলছিল। রোববার গভীর রাতে বাড়ির মালিক ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে পুলিশ গিয়ে শিরিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সূত্র জানায়, দুলাল রোববার শিরিনকে হত্যা করেন। পরে তিনি লাশটি চার টুকরা করে একটি ব্যাগে ভরে রাখেন। পুলিশ ব্যাগে শিরিনের মাথা, গলা ও দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পায়।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির ঘটনার ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

তিনি সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা দিবসের অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনার দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "দেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।"

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা তাদের দায়িত্ব। তবে, মেয়েরা ঘরে থাকবে এই ধরনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অন্যায় শিকার হলে চুপ না থেকে প্রশাসনকে জানাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সকল কন্যা শিশুদের মার্শাল আর্ট শেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, নারীদের সাফল্যের সাথে শুধু পরিবার নয়, দেশও জড়িত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর

ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে স্বয়ংক্রিয় বাড়ি, পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন এবং চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তি ও টেকসই নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে।

২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর ও শহরের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রোবটের সাহায্যে নির্মিত হবে বহুতল ভবন, বাড়িগুলো হবে স্বয়ংক্রিয় এবং আবাসন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে, চালকবিহীন গাড়ি এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে শহরের নকশায় পরিবর্তন আসবে। বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ভবিষ্যৎ চিত্র তুলে ধরেছেন একদল শীর্ষস্থানীয় স্থপতি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরে বসবাস করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা মেটাতে প্রচলিত বাড়িঘর নির্মাণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থপতিদের মতে, ভবিষ্যতে একক পরিবারের জন্য আলাদা জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রচলিত ধারণা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির স্বল্পতা, নির্মাণব্যয় এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে এ ধরনের আবাসন ব্যবস্থা টেকসই রাখা কঠিন হবে।

স্থপতি জেমস সাইসাকর্নের মতে, বাড়তি জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা পূরণে বহুতল ভবন এবং মিশ্র ব্যবহারের স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে একই জায়গায় আবাসন, কর্মক্ষেত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যতে ‘মিসিং মিডল’ নামে পরিচিত মাঝারি ঘনত্বের আবাসন ব্যবস্থা আবার জনপ্রিয় হতে পারে। এই ব্যবস্থায় টাউনহাউস এবং ছোট ছোট বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বাড়ির মতো বসবাসের পরিবেশ বজায় রেখেই অধিক সংখ্যক মানুষকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উঠানের পরিবর্তে যৌথ সবুজ পার্ক এবং সামাজিক মিলনস্থল তৈরির সুযোগ বাড়বে।

ভবিষ্যতের আবাসন নির্মাণে রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে রোবটের সহায়তায় একটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকা অথবা শহরের বড় অংশের কাঠামো নির্মাণ সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থপতিরা।

এ ধরনের প্রযুক্তি নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকের সংকট মোকাবিলা এবং নির্মাণের নির্ভুলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বহুতল ভবন নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সময় এবং সম্পদের অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে রোবটনির্ভর নির্মাণব্যবস্থা কতটা ব্যাপকভাবে চালু হবে, তা প্রযুক্তির উন্নয়ন, ব্যয় এবং নির্মাণসংক্রান্ত নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে আরও বেশি সহনশীল করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থপতি ড্যানিয়েল বাউম্যানের মতে, তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে বাড়ির নকশা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পানি এবং বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

স্থপতি স্কট স্পেক্টের ধারণা, ভবিষ্যতের বাড়িগুলো নিজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় অংশ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে। ফলে এসব বাড়ির বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গ্রিডের সংযোগ মূলত জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগবে।

প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাস চলাচলের উপযোগী নকশা বাড়ির ভেতরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখবে। এতে কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহার এবং বিদ্যুতের খরচও কমানো সম্ভব হবে।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণে ভবিষ্যতে কাঠের ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন স্থপতিরা। বিশেষ করে ক্রস-ল্যামিনেটেড টিম্বার বা সিএলটি নামের প্রকৌশলগতভাবে তৈরি কাঠের প্যানেল বহুতল ভবন নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেমস সাইসাকর্নের মতে, এ ধরনের কাঠের প্যানেল মজবুত, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং টেকসই হওয়ায় ভবিষ্যতের নির্মাণকাজে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর বিকল্প হিসেবে কাঠের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে নির্মাণপ্রক্রিয়াকে আরও পরিবেশবান্ধব করার সুযোগ তৈরি হবে।

ভবিষ্যতের শহরগুলোতে চালকবিহীন গাড়ি যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গের মতে, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বাড়ি এবং আবাসিক ভবনে বড় গ্যারেজ কিংবা পার্কিংয়ের জন্য অতিরিক্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন কমে যাবে।

এসব জায়গা পার্ক, হাঁটার পথ এবং সামাজিক যোগাযোগের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গণপরিবহনকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে আবাসন, কর্মক্ষেত্র এবং প্রয়োজনীয় সেবাগুলোকে একে অপরের কাছাকাছি আনা যাবে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি হাঁটার উপযোগী শহর গড়ে তোলা সহজ হবে।

ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা শুধু বাসস্থানের সংকট সমাধানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; গুরুত্ব পাবে সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও। স্থপতি ম্যাক্স বার্গার এবং ড্যানিয়েল বাউম্যানের মতে, বিচ্ছিন্ন আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাড়া গড়ে উঠতে পারে।

এসব আবাসনে ছাদের বাগান, শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং কাজের জায়গার মতো সুবিধা থাকবে। একই ভবন বা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা যৌথভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। স্থপতি মাইলস স্মিথ এ ধরনের জীবনযাপনকে আধুনিক ‘কান্ট্রি ক্লাব’ ঘরানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সব মিলিয়ে, ২০৫০ সালের আবাসনব্যবস্থায় প্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামাজিক সুবিধার সমন্বয় ঘটতে পারে। রোবটনির্ভর নির্মাণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ বাড়ি এবং মানুষকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনা ভবিষ্যতের শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, তা প্রযুক্তির অগ্রগতি, নির্মাণব্যয় এবং কার্যকর নগর পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র: নিউজউইক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%