০৭:১৬ পি.এম
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দমাতে ইউরোপের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
তেহরানের নেতারা জানিয়েছেন, তারা ইউরোপে হামলার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। যদি ট্রাম্প উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন, তাহলে এ পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ সম্পর্কিত পৃথক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ইউরো নিউজ এবং ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নেতারা বলেছেন, টার্গেট হিসেবে প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়াকে বেছে নেওয়া হতে পারে। কারণ, দেশটি গত মাসে তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানগুলোর রিফুয়েল করার অনুমতি দিয়েছে।
এছাড়াও সাইপ্রাসকে টার্গেট হিসেবে দেখা হতে পারে। কারণ, গত মার্চে দেশটিতে ব্রিটিশদের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।
এসবের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবলকেও টার্গেট করার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ৬০ দিনের ওই যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদের সমঝোতা স্মারক হিসেবে পরিচিত হয়। এতে বলা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তবে, ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
গত সপ্তাহে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক শীর্ষপদগুলোতে কট্টরপন্থিদের নিয়োগ দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
ইরানের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে চৌকস ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডও বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রার কোনো হামলা চালায়, তাহলে তা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান দূরের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামোকেও টার্গেট করবে।
গোটা পরিস্থিতির সূচনা যুদ্ধের আগে থেকেই ঘটেছে। ইরান তখন ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল। এর পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত মাসে জর্ডানে ইরানের একটি নিখুঁত হামলায় তিন আমেরিকান সেনা নিহত হন। এই ঘটনা অব্যাহত দূরের হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
এদিকে, চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে ইরানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সামগ্রী এবং বিস্ফোরক সামগ্রীর একটি চালান পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি, কাস্পিয়ান সাগর পার হয়ে এই বিশাল অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে রাশিয়ার যে জাহাজগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলি সব রুশ কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। কোম্পানিটি ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে 'বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব' নামে ২০ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান।
অথচ, এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান এবং বিধ্বংসী ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন