প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহের ভালুকায় আইন রয়েছে, আদালতও রয়েছে, আর আছে হাইওয়ে পুলিশও। কিন্তু সেখানে আইনটির প্রয়োগ নেই। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা অংশে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবেই অটোরিকশার চাকার বাতাসের মধ্যে উড়তে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতে, এটি একটি মরণফাঁদ এবং 'গলার কাঁটা', আর সেই প্রভাবশালী চক্রের কাছে এটি লাখ লাখ টাকার ‘মাসোহারা বাণিজ্য’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই চক্রের সাথে অভিযোগ উঠেছে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এরও জড়িত থাকার। তবে অভিযুক্ত ওসির কাছে ভিন্ন অজুহাত রয়েছে।
অনুসন্ধান থেকে জানা যাচ্ছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা যেন শুধুমাত্র কাগজে লেখা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকায়, হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে হাজার হাজার অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে প্রতি দিনই রক্ত ঝরছে পিচঢালা রাস্তায়, প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে; এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তীব্র যানজট। স্থানীয়দের কাছে এগুলো 'গলার কাঁটা' হিসেবে পরিচিত, কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্রের কাছে এটা লাখ লাখ টাকার 'মাসোহারা' উৎসব। স্থানীয় চালকদের অভিযোগ, একটি চক্র গাড়ি প্রতি ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, ওই চক্রের সাথে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি খোর্শেদ আলম জড়িত রয়েছেন। তবে চক্রের ভয়ে ভুক্তভোগী চালকরা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
আবুল কালাম নামের একজন পথচারী জানিয়েছেন, ভালুকার মহাসড়কে ধীরগতির অবৈধ যানের উপস্থিতি এবং উল্টো পথে চলাচল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। শুধু দুর্ঘটনা নয়, এসব ধীরগতির যান ওই এলাকার বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। অবৈধ যানবাহনের দীর্ঘ সারি দূরপাল্লার যোগাযোগকে স্থবির করে দিচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের যাতায়াতের সময় এই পরিস্থিতির ভোগান্তি চরমে পৌঁছাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন চালক আরটিভিকে জানিয়েছেন, মহাসড়কে চলতে গেলে তাদের বিশাল পরিমাণে চাঁদা দিতে হয়। চালকদের দাবি, প্রতিমাসে প্রতিটি গাড়ি থেকে দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা 'মাসোহারা' দিতে হয়। মাসোহারা দিলেই মেলে অলিখিত হাইওয়ে পার্মিট বা নিবন্ধন। পুলিশ ধরলেও এই প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে মাসোহারা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের নাম বললেই সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেয়।
চালকরা জানান, ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি সকল কিছু জানেন। যদি ওসি বলেন যে মহাসড়কে অটোরিকশা চলবে না, তবে ভালুকায় কারো পক্ষেই অটোরিকশা চালানো সম্ভব নয়। এখন হাইওয়ে পুলিশ চলতে বা চালানোর জন্য সুযোগ দেয়, সবাই যেভাবে চালায়, আমরাও সেভাবে চালাচ্ছি।
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কে কেন এসব অবৈধ যান চলছে— এমন প্রশ্নে স্থানীয়রা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের উদাসীনতা এবং মাসোহারা বাণিজ্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে না এলে ভালুকা অংশে রক্তক্ষরণ থামানো সম্ভব নয়। মহাসড়ক নিরাপদ করতে অবিলম্বে এই অবৈধ 'মাসোহারা বাণিজ্য' বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে 'মাসোহারা বাণিজ্য' অভিযোগ অস্বীকার করে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে যেকোনো ধরনের থ্রি-হুইলার বা ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ভালুকা যেহেতু একটি বড় শিল্পাঞ্চল, এখানে লাখ লাখ শ্রমিকের যাতায়াত রয়েছে। মহাসড়কের পাশে কারখানার শ্রমিকরা এই অটোরিকশাগুলোতে চলাচল করছেন। তবে যথেষ্ট বিকল্প গণপরিবহন না থাকার কারণে এসব থ্রি-হুইলার মহাসড়ক দখল করে নিয়েছে। তবে এসব যানের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন