০৪:০৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকরা বাংলাদেশে না গিয়েও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য আবেদন করতে সক্ষম। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট জেনারেলে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে। আবেদন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, তথ্য যাচাই এবং স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ধাপে ধাপে।
ধাপ ১: আবেদনের যোগ্যতা যাচাই
দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের পূর্বে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা এর আগে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তারা নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
এ জন্য বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র এবং ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হতে পারে। পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।
তবে, বয়সের যোগ্যতা নিয়ে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য থাকায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
ধাপ ২: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ
প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনপত্র ফরম-২(ক) পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের পরিচয় এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্য অনুসরণ করা আবশ্যক।
আবেদনের সময় সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর প্রদান করা হতে পারে। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে যোগাযোগ করা হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর ফরমটির মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে রাখা অপরিহার্য। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে-
অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি।
১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি। বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি।
সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি। বাবা-মায়ের এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কপি। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদ, উত্তরাধিকার সনদ, নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারীর সত্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার আবেদনকারীদের অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হতে পারে।
কাগজপত্রের তালিকা আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
ধাপ ৪: দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিতি
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
অনলাইনে আবেদন করলেই এনআইডি নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন আবেদনকারীকে নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস বা তাঁর এলাকার জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে উপস্থিত হতে হবে।
সেখানে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিসের তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শেষে একটি স্লিপ দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী সময়ে আবেদন অনুসরণ ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য স্লিপটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। দূতাবাসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়, সেবার নিয়ম এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
ধাপ ৫: বাংলাদেশের নির্বাচন অফিসে তথ্য যাচাই
আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। এ পর্যায়ে আবেদনকারীর পরিচয়, পারিবারিক তথ্য ও বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করা হতে পারে।
প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। যেমন-
এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ। জেএসসি বা পিএসসি সনদ। দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ। বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) নথি। বিবাহ বা তালাকের সনদ এবং স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি। জাতীয়তা সনদ। বাংলাদেশের ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ।
সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব নথি প্রয়োজন হবে না। যাচাইকারী অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
ধাপ ৬: এনআইডি ডাউনলোড ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ
তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের পর এনআইডি প্রস্তুত হলে আবেদনকারী এনআইডি সেবা পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, স্মার্ট এনআইডি কার্ড বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রস্তুত হওয়ার পর দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটে পাঠানো হতে পারে। কার্ড সেখানে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে সংগ্রহ করা যাবে।
তবে আবেদন থেকে স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশের তথ্য যাচাই, অনুমোদন, কার্ড মুদ্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়ার ওপর সময় নির্ভর করবে।
আবেদনের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
এই প্রক্রিয়া মূলত নতুন এনআইডি নিবন্ধনের জন্য। আগে থেকেই বাংলাদেশের এনআইডি থাকলে একই প্রক্রিয়ায় নতুন নিবন্ধন করা যাবে না। সংশোধন বা অন্যান্য সেবার জন্য আলাদা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের পরিচয় এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানার তথ্য প্রামাণ্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে।
এ ছাড়া বয়সের যোগ্যতা, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সরকারি তথ্যসূত্র
বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি: https://washington.mofa.gov.bd/pages/static-pages/6952668935ce18e1c05a9de3
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন