শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৫ পি.এম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন যে, ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো ব্যক্তি যেন পিছনে পড়ে না যায় অথবা অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করে কিংবা সুবিধাবঞ্চিত হয়—এটি বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শিখেছি।" এই শিক্ষা তার রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রদান করেছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলেও আমরা মানুষের পাশে থাকি এবং ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের পাশে থাকি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শোভাযাত্রাপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন, যা শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতি করে এবং দেশে বিভক্তি বা সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পাশাপাশি আমরা সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাস এবং চেতনার বিষয়, যা রাজনীতির মাঠে অনৈতিক সুবিধালাভের মাধ্যম হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, "আজকের এই দিনটি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন।" দ্বাপর যুগে অন্ধকারাচ্ছন্ন পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময়ে তার জন্ম আমাদের এই বার্তা দেয়, রাতের অন্ধকার যত গভীর হোক না কেন, ন্যায়ের পথ ধরে আসে মুক্তির আলো—এটাই পরম সত্য।
তিনি বলেন, সমাজ থেকে সত্য ও বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও সমাজ টিকে থাকবে আশার আলো নিয়ে। সেই আশার আলো হচ্ছে, আবারও সমাজে সত্য উন্মোচিত হবে এবং পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন ও ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্মবিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শন বিবেচ্য নয়, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকলের একটি পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। তাই আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে তার যতখানি অধিকার রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাড. দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষ প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যখন গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের জন্য নাগালের বাইরে চলে গেছে, তখন সিরাজগঞ্জে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগে স্বস্তি মিলছে। মো. আব্দুস সাত্তার নামে এক খামারি মাত্র ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন।
সিরাজগঞ্জ পৌর শিশু পার্কের সামনে প্রতি শুক্রবার তিনি নিজের খামারের দেশি ষাঁড় জবাই করে সাধারণ মানুষের কাছে এই স্বল্পমূল্যে মাংস বিক্রি করেন। বাজারদরের তুলনায় কম দামে মাংস কিনতে পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ খুশি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যেখানে অনেক পরিবারের জন্য গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রির এই উদ্যোগ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তাই প্রতি শুক্রবার সকাল থেকেই মাংস কিনতে ভিড় করেন স্থানীয় ক্রেতারা।
জনসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হাজী মো. আব্দুস সাত্তার ইতোমধ্যে 'আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। তিনি জানান, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহর দেওয়া সম্পদ মানুষের জন্য কাজে লাগাতে চান তিনি।
আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, "আমার গরুর ফার্ম আছে, এটা আল্লাহর দেওয়া সম্পদ। অনেক গরু বড় হয়ে গেছে। তাই স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতি শুক্রবার আমার ফার্মের চার-পাঁচটি গরু জবাই করে সাধারণ মানুষের কাছে মাংস বিক্রি করব।"
স্বল্পমূল্যে মাংস কিনতে পেরে স্থানীয় ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, মানুষের স্বার্থে নেওয়া এই উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
হাজী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, "যারা মাংস নিতে আসছেন, তারা প্রত্যেকেই খুশি। প্রত্যেকটা ভালো কাজেই ইবাদত। চেষ্টা করি ভালো কাজ করার। সবকিছুর মালিক তো আল্লাহপাক। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করি। আমার সিরাজগঞ্জ জেলা ও পৌরবাসীর জন্য দোয়া থাকবে। সবাই মিলে-মিশে ভালো থাকব।"
মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি হঠাৎ করে প্রবল বর্ষণের কবলে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়া চলার পাশাপাশি বজ্রপাতও হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) আগামী কয়েকদিনে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি জুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, জন্মাষ্টমীর উৎসবে অংশ নিতে বের হওয়া দর্শনার্থীরা হঠাৎ করে এই বাঁধভাঙা বৃষ্টির মুখোমুখি হন। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তিন ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পালাম এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নাজাফগড়ে ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রকাশিত স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসে আইএমডি জানায়, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের মধ্যে একাধিক স্থানে বজ্রবিদ্যুৎ ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দু-এক স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইএমডি আরও জানায়, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ভারতের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বিজলি চমকানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী তিন ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দপ্তরটি জানিয়েছে, অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি বর্ষণের পাশাপাশি দু-এক জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার গতিবেগ সাময়িকভাবে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের একটি ইতালি প্রবাসীর আবাসে হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া সালাউদ্দিন গাজী, মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের মাফেজ গাজীর ছেলে, ইতালি প্রবাসীর খালাতো ভাই হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজ্জাক মোল্লার বাড়ির পেছনের কক্ষে ভোররাতে হঠাৎ করেই হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন আহত হন এবং টিনশেড ঘরের বেড়া উড়ে যায়। এতে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সালাউদ্দিন গাজীকে আটক করে এবং বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশের ধারণা, হাতবোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িতদের ধরার জন্য মাঠে নেমেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরার জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আটক সালাউদ্দিন গাজীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহতরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জমির মালিকানা পাওয়ার পর কেনা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে মালিকানা নথিভুক্ত করার জন্য নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। নামজারি ছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান এবং খাজনা প্রদান সম্ভব নয়।
সম্প্রতি নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে ভাগ-বাটোয়ারা না হলে আলাদা খতিয়ান তৈরি হবে না, বরং একই খতিয়ানে সকলের নাম যৌথভাবে থাকবে। এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের জন্য যৌথ নামজারির জন্য আলাদা বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন নেই। তবে যদি আলাদা খতিয়ান করতে চান অথবা পৃথকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চান, তাহলে নিবন্ধিত আপোষ-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়মে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট। কিন্তু জমি ভাগ করে আলাদা আলাদা খতিয়ান চাইলে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা লাগবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের মাধ্যমে বিশেষ করে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে ‘আগে যৌথ, পরে আলাদা’ নীতি চালু হয়েছে। এতে সরকারি রেকর্ডে প্রকৃত মালিকের নাম নিশ্চিত করা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া, যৌথ নামজারির বাধ্যবাধকতা ওয়ারিশদের মধ্যে স্বচ্ছতা আনবে এবং নামজারি ছাড়া জমি বিক্রি বন্ধ হলে অবৈধ দখলও কমবে বলে মনে করছেন তারা।
অন্য কারও কাছ থেকে কিনে অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেবল জমির রেজিস্ট্রেশন করলেই কাজ শেষ হয় না, নামজারির মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে জমির নতুন মালিকের নামও নথিভুক্ত করতে হয়। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা সম্ভব। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি করা হয়।
যদি জমির নামজারি না করা হয়, তাহলে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন— মালিকানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং রেকর্ডে নাম না থাকলে অবৈধ দখলদার কিংবা অন্য ওয়ারিশ জমির দাবি করতে পারে।
নতুন আইনে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি রেজিস্ট্রি, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা দিতে গেলেও খতিয়ান নিজ নামে থাকতে হবে।
নামজারির নিয়মে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে থাকা পরিবর্তিত নিয়ম এখন থেকে কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ওয়ারিশদের ‘সবার নাম একসঙ্গে’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আগে বাবা মারা গেলে পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কেউ একজন নিজের নামে আলাদা নামজারি করে নিতে পারতেন। তবে, এখন থেকে সেটি আর হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে। যেটি ‘কো-শেয়ারার’ হিসেবে দেখানো হবে।
এ ক্ষেত্রে আবেদনের সময় সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়ে, তবে আবেদন নামঞ্জুরও হতে পারে।
এছাড়া, শুধু বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদনও এখন আর নামঞ্জুর করা যাবে না। নতুন নিয়মে ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পৃথক খতিয়ানের জন্য যা লাগবে
অংশীদাররা যখন পৈতৃক কিংবা যৌথ মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে যার যার অংশ বুঝে নেন এবং সেটি সরকারিভাবে নিবন্ধন করান, তখন সেই লিখিত চুক্তিপত্রকে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা বলা হয়। এক্ষেত্রে ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন, তাহলে আলাদা আলাদা খতিয়ান করা যাবে। তবে এতেও একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তা হলো- ‘নিবন্ধিত বণ্টননামা’ বা ‘আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে।
অর্থাৎ, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির দুটি পথ। এর মধ্যে একটি হলো যৌথ নামজারি বা সবাই মিলে এক খতিয়ানে নাম উঠবে। যেখানে প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যাও উল্লেখ থাকবে। অথবা পৃথক নামজারি- নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজ নামে আলাদা খতিয়ান পাবেন।
নামজারি ছাড়া হবে না রেজিস্ট্রেশন
আগে অনেক সময় নামজারি ছাড়াই জমি ক্রয়-বিক্রয় হতো। তবে নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক।
এক্ষেত্রে, আগে নামজারি করা থাকলে নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, কারও জমি ২০১৫ সালে নামজারি করা থাকলে, তার নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। সহজ কথায়, যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করতে হবে না।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজড হয়েছে কি-না, সেটি অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ডিজিটাল সিস্টেমে রেকর্ডগুলো নথিভুক্ত না থাকলে ভবিষ্যতে খাজনা বা জমি বিক্রিতে সমস্যা হতে পারে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জমির নামজারির আবেদন জমা হওয়ার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে দলিলের কপি বা রেজিস্ট্রি দলিল, আগের খতিয়ানের কপি ও দাগ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ এবং নির্ধারিত ফি-এর রসিদ প্রয়োজন হবে। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মের বড় ৩টি সুফল দেখছেন। প্রথমত, এর ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণা কমবে। একজন সব জমি নিজের নামে করে নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সরকারি রেকর্ড আপডেট হবে। জমির প্রকৃত মালিক কে, সেটি সহজেই জানা যাবে এবং তৃতীয়ত, জমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা কমবে। কারণ, যৌথ নাম থাকায় অংশীদারদের সবাই খতিয়ানে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
তবে নতুন এই নিয়মের কারণে মাঠপর্যায়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, অনেক পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকেন অথবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই, ফলে সবার কাগজ একসঙ্গে জমা দেয়া কঠিন হওয়ায় ওয়ারিশ খুঁজে বের করাও জটিল হতে পারে। আবার আলাদা খতিয়ান করতে হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া, কম সময়ে এই প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করতে ভূমি অফিসের চ্যালেঞ্জও বাড়বে। এ জন্য ৪৫ দিনে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে হলে তহশিল অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের জনবল বাড়াতে হবে।
ভূমি আইনজীবীদের ভাষ্য, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিতের জন্য নতুন এই নিয়ম ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে এটি নারী ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।
জমির নামজারির ক্ষেত্রে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জমি ক্রয়ের পর দলিল রেজিস্ট্রির ৯০ দিনের মধ্যেই নামজারির আবেদন করা উচিত। আর ওয়ারিশি জমি হলে পরিবারের সঙ্গে বসে, সবাই মিলে যৌথ নামজারি করা যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে বণ্টননামা করে আলাদা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ