শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২২ পি.এম
মাদারীপুরের একটি ইতালি প্রবাসীর আবাসে হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া সালাউদ্দিন গাজী, মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের মাফেজ গাজীর ছেলে, ইতালি প্রবাসীর খালাতো ভাই হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজ্জাক মোল্লার বাড়ির পেছনের কক্ষে ভোররাতে হঠাৎ করেই হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন আহত হন এবং টিনশেড ঘরের বেড়া উড়ে যায়। এতে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সালাউদ্দিন গাজীকে আটক করে এবং বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশের ধারণা, হাতবোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িতদের ধরার জন্য মাঠে নেমেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরার জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আটক সালাউদ্দিন গাজীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহতরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জমির মালিকানা পাওয়ার পর কেনা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে মালিকানা নথিভুক্ত করার জন্য নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। নামজারি ছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান এবং খাজনা প্রদান সম্ভব নয়।
সম্প্রতি নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে ভাগ-বাটোয়ারা না হলে আলাদা খতিয়ান তৈরি হবে না, বরং একই খতিয়ানে সকলের নাম যৌথভাবে থাকবে। এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের জন্য যৌথ নামজারির জন্য আলাদা বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন নেই। তবে যদি আলাদা খতিয়ান করতে চান অথবা পৃথকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চান, তাহলে নিবন্ধিত আপোষ-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়মে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট। কিন্তু জমি ভাগ করে আলাদা আলাদা খতিয়ান চাইলে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা লাগবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের মাধ্যমে বিশেষ করে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে ‘আগে যৌথ, পরে আলাদা’ নীতি চালু হয়েছে। এতে সরকারি রেকর্ডে প্রকৃত মালিকের নাম নিশ্চিত করা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া, যৌথ নামজারির বাধ্যবাধকতা ওয়ারিশদের মধ্যে স্বচ্ছতা আনবে এবং নামজারি ছাড়া জমি বিক্রি বন্ধ হলে অবৈধ দখলও কমবে বলে মনে করছেন তারা।
অন্য কারও কাছ থেকে কিনে অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেবল জমির রেজিস্ট্রেশন করলেই কাজ শেষ হয় না, নামজারির মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে জমির নতুন মালিকের নামও নথিভুক্ত করতে হয়। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা সম্ভব। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি করা হয়।
যদি জমির নামজারি না করা হয়, তাহলে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন— মালিকানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং রেকর্ডে নাম না থাকলে অবৈধ দখলদার কিংবা অন্য ওয়ারিশ জমির দাবি করতে পারে।
নতুন আইনে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি রেজিস্ট্রি, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা দিতে গেলেও খতিয়ান নিজ নামে থাকতে হবে।
নামজারির নিয়মে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে থাকা পরিবর্তিত নিয়ম এখন থেকে কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ওয়ারিশদের ‘সবার নাম একসঙ্গে’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আগে বাবা মারা গেলে পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কেউ একজন নিজের নামে আলাদা নামজারি করে নিতে পারতেন। তবে, এখন থেকে সেটি আর হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে। যেটি ‘কো-শেয়ারার’ হিসেবে দেখানো হবে।
এ ক্ষেত্রে আবেদনের সময় সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়ে, তবে আবেদন নামঞ্জুরও হতে পারে।
এছাড়া, শুধু বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদনও এখন আর নামঞ্জুর করা যাবে না। নতুন নিয়মে ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পৃথক খতিয়ানের জন্য যা লাগবে
অংশীদাররা যখন পৈতৃক কিংবা যৌথ মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে যার যার অংশ বুঝে নেন এবং সেটি সরকারিভাবে নিবন্ধন করান, তখন সেই লিখিত চুক্তিপত্রকে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা বলা হয়। এক্ষেত্রে ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন, তাহলে আলাদা আলাদা খতিয়ান করা যাবে। তবে এতেও একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তা হলো- ‘নিবন্ধিত বণ্টননামা’ বা ‘আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে।
অর্থাৎ, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির দুটি পথ। এর মধ্যে একটি হলো যৌথ নামজারি বা সবাই মিলে এক খতিয়ানে নাম উঠবে। যেখানে প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যাও উল্লেখ থাকবে। অথবা পৃথক নামজারি- নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজ নামে আলাদা খতিয়ান পাবেন।
নামজারি ছাড়া হবে না রেজিস্ট্রেশন
আগে অনেক সময় নামজারি ছাড়াই জমি ক্রয়-বিক্রয় হতো। তবে নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক।
এক্ষেত্রে, আগে নামজারি করা থাকলে নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, কারও জমি ২০১৫ সালে নামজারি করা থাকলে, তার নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। সহজ কথায়, যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করতে হবে না।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজড হয়েছে কি-না, সেটি অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ডিজিটাল সিস্টেমে রেকর্ডগুলো নথিভুক্ত না থাকলে ভবিষ্যতে খাজনা বা জমি বিক্রিতে সমস্যা হতে পারে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জমির নামজারির আবেদন জমা হওয়ার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে দলিলের কপি বা রেজিস্ট্রি দলিল, আগের খতিয়ানের কপি ও দাগ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ এবং নির্ধারিত ফি-এর রসিদ প্রয়োজন হবে। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মের বড় ৩টি সুফল দেখছেন। প্রথমত, এর ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণা কমবে। একজন সব জমি নিজের নামে করে নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সরকারি রেকর্ড আপডেট হবে। জমির প্রকৃত মালিক কে, সেটি সহজেই জানা যাবে এবং তৃতীয়ত, জমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা কমবে। কারণ, যৌথ নাম থাকায় অংশীদারদের সবাই খতিয়ানে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
তবে নতুন এই নিয়মের কারণে মাঠপর্যায়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, অনেক পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকেন অথবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই, ফলে সবার কাগজ একসঙ্গে জমা দেয়া কঠিন হওয়ায় ওয়ারিশ খুঁজে বের করাও জটিল হতে পারে। আবার আলাদা খতিয়ান করতে হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া, কম সময়ে এই প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করতে ভূমি অফিসের চ্যালেঞ্জও বাড়বে। এ জন্য ৪৫ দিনে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে হলে তহশিল অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের জনবল বাড়াতে হবে।
ভূমি আইনজীবীদের ভাষ্য, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিতের জন্য নতুন এই নিয়ম ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে এটি নারী ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।
জমির নামজারির ক্ষেত্রে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জমি ক্রয়ের পর দলিল রেজিস্ট্রির ৯০ দিনের মধ্যেই নামজারির আবেদন করা উচিত। আর ওয়ারিশি জমি হলে পরিবারের সঙ্গে বসে, সবাই মিলে যৌথ নামজারি করা যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে বণ্টননামা করে আলাদা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়ির ধাক্কায় আহত ফিরোজা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে, সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ব্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ফিরোজা বেগমকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নিচু জমিতে নেমে যায়। দুর্ঘটনায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী নিজেও পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার গাড়িবহর শিবগঞ্জের কিচক ব্রিজের সামনে পৌঁছালে ফিরোজা বেগম রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের নিচু জমিতে নেমে যায়।
প্রতিমন্ত্রীর গানম্যান মুক্তারুল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে প্রতিমন্ত্রী, তার স্ত্রী, চালক ও তিনি নিজে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী পায়ে আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই অন্য একটি গাড়িতে করে তাকে চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সোয়া ১১টায় তার মৃত্যু ঘটে। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত বৃদ্ধার ভাতিজা মো. জাকির জানিয়েছেন, তার চাচি সকালে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বয়স্ক মানুষ হওয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি হয়তো মন্ত্রীর গাড়িবহর খেয়াল করেননি। তখনই গাড়ির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে।
নিহতের আরেক ভাতিজা মোহাম্মদ ইমরান আলী নয়ন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এবং সদর থানার ওসি তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের বাউরভাগ হাওর পূর্ব পাড় এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এবং গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় মুরুব্বি আক্কাস আলীর সভাপতিত্বে এবং টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন বৃহত্তর জৈন্তার সাধারণ সম্পাদক সালমান শাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক।
তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সবাই পুলিশকে জানাবেন।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী খাঁন, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন বৃহত্তর জৈন্তার সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ, স্থানীয় মুরুব্বি খাঁন বাহাদুর এবং বাদশা মিয়া।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, "মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর।" তারা উল্লেখ করেন যে, মাদক নির্মূলে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
এ সময় বক্তারা পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে নিয়মিত সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বাউরভাগ হাওর পূর্ব পাড় এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সভায় উপস্থিত এলাকাবাসী বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই।" তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদী থেকে একটি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে একটি অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়ে যায়, যার ফলে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী হেনা আক্তার (৩৫), সাদিয়া আক্তার (১৫), তানিসা আক্তার (৮), ছেলে আরিফুল ইসলাম ফয়েজ (২০), আবু সুফিয়ান (১৩), ফয়েজের স্ত্রী রহিমা বেগম (১৯), ছেলে মো. রাইয়ান মিয়া (২), হেলাল মিয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন (২২), বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী তানজিনা বেগম (২০), তাদের মেয়ে সাবিনা বেগম (৪), ছেলে ফুয়াদ আহমেদ (২) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক রনক হাসান হৃদয় (৩৮)।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়ার মেয়ে নাদিয়া আক্তার (১৭) শুক্রবার রাতে নরসিংদীর গাউছিয়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। শনিবার সকালে নরসিংদী থেকে অ্যাম্বুলেন্সে সেই মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তার বাবা ও চাচা। এই সময় অ্যাম্বুলেন্সে নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের ১২ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় এক পথচারী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করেন। এরপর আহতদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে করে বাড়ি পাঠানো হয়।
নিহত নাদিয়া আক্তারের চাচা কাজল মিয়া বলেন, "আমার দুই ভাই পরিবার নিয়ে নরসিংদীতে থাকেন। এর মধ্যে বড় ভাইয়ের মেয়ে নাদিয়া গতকাল রাতে বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। আজ সকালে তার মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবাই আহত হয়। তবে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। যেভাবে অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়েছিল, বড় দুর্ঘটনার আশংকা ছিল।"
শান্তিগঞ্জ উপজেলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. ফজল মিয়া জানান, "জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের একটি মেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নরসিংদীতে মারা যায়। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স করে তার মরদেহ নিয়ে আজ সকালে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সদরপুর এলাকায় সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।"
তিনি আরও বলেন, "একজন পথচারীর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহের সঙ্গে ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালকও আহত হয়েছেন। তাদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ