বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ছয়টি ক্যাটাগরির জন্য মোট ১০৬ জনের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এ উদ্দেশ্যে পৃথক দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
যেসব পদে নিয়োগ
প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) হিসেবে চারজন, হিসাব সহকারী (ইরেসপো) চারজন এবং মাঠ সংগঠক (ইরেসপো) ১৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে হিসাবরক্ষক পদে ১৭ জন, মাঠ সংগঠক পদে ৬৭ জন এবং অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে এবং কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা আবশ্যক।
হিসাব সহকারী (ইরেসপো) পদে বাণিজ্য বিভাগে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। মাঠসংগঠক (ইরেসপো) পদে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
হিসাবরক্ষক পদে বাণিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের পাস থাকতে হবে। মাঠ সংগঠক ও অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে এইচএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কম্পিউটারে এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল ও উইন্ডোজ পরিচালনায় দক্ষতার পাশাপাশি বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০ এবং ইংরেজিতে ৩০ শব্দ টাইপের গতি থাকতে হবে।
বেতন ও গ্রেড
সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) পদটি গ্রেড-১০ এবং হিসাব সহকারী ও মাঠ সংগঠক (ইরেসপো) পদ দুটি গ্রেড-১৪-এর সাকুল্য বেতনে নিয়োগ দেওয়া হবে।
হিসাবরক্ষক পদে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা এবং মাঠ সংগঠক ও অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেতন প্রদান করা হবে।
যেসব জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন
খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কক্সবাজার ও কুমিল্লা জেলার স্থায়ী নাগরিকরা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী এসব পদে আবেদন করতে পারবেন।
বয়সসীমা
১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে বিআরডিবির প্রকল্প বা কর্মসূচির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন যেভাবে
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম ডাউনলোড করে এ৪ সাইজের কাগজে প্রিন্ট করতে হবে। ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত তিন কপি ছবি সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর বর্তমান ঠিকানা লেখা ও ১০ টাকা ডাকটিকিটযুক্ত একটি ফেরত খাম দিতে হবে। খামের ওপর পদের নাম, বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ও প্রার্থীর নিজ জেলার নাম উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনপত্র সরকারি ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুগ্মপরিচালক, বিভাগীয় দপ্তর, বিআরডিবি, চট্টগ্রাম বিভাগ, নাসিরাবাদ প্রপার্টিজ লিঃ, রোড নং-০১, বাড়ি-১৩৪, ফ্ল্যাট-এ৪, খুলশী, চট্টগ্রাম বরাবর পাঠাতে হবে। সরাসরি বা হাতে হাতে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
পদভেদে আবেদনের শেষ সময় ৮ ও ১৯ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা দেখে আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি সম্পর্কে ভিন্ন নির্দেশনা থাকায় সংশ্লিষ্ট পদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফি ও জমাদানের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য বিআরডিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি তিনটি দেখতে এখানে ক্লিক ( খুলনা , বরিশাল , চট্টগ্রাম ) করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয়েছে।
এই সভাটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় এবং বর্তমান সরকারের অষ্টম সভা।
ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করছেন।
আজকের সভায় ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, তার ঐতিহাসিক ডায়েরির একটি ছবি বইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিকথা হিসেবে পরিচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।’
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’।
এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূলকথায় যা আছে-
মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো... ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’
চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে... ১৩ মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন... এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস... দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লিখেছেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল... ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’
জিয়াউর রহমান লিখেছেন- ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে... ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’
পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লিখেছেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিল... ২৬ মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘দিনটি ছিল ২৭ মার্চ... সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ২৭ মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস আবারও মালয়েশিয়া যাচ্ছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে।
তিনি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন মালয়েশিয়ার দিকে।
এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানান, মির্জা আব্বাস নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।
এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লিপস্টিক, যা সাজগোজের অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ, ব্যবহার করার সময় ঠোঁটে রং লাগানোর ফলে চেহারায় ভিন্ন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তবে ঠোঁটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত লিপস্টিকের মান এবং উপাদানের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যদি কেউ দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করে, তাহলে ঠোঁটে শুষ্কতা, জ্বালা কিংবা রঙের পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকের ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে, যদিও তারা ধূমপান করেন না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে গাঢ় রঙের লিপস্টিক দীর্ঘদিন ব্যবহার করাও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লিপস্টিকে থাকা উপকরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা রয়েছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লিপস্টিকের গাঢ় রঙ তৈরির জন্য বিভিন্ন ধাতব রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো উপাদান নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহারের ফলে এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে ঠোঁটের স্বাভাবিক রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। কারও ঠোঁটে কালচে ছোপ দেখা দিতে পারে, আবার কারও ঠোঁট বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া লিপস্টিকে ব্যবহৃত বিভিন্ন সুগন্ধি ও রাসায়নিক রং থেকেও ঠোঁটে অস্বস্তি বা রঙের পরিবর্তন ঘটতে পারে। লিপস্টিক কেনার সময় উপকরণের তালিকায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেড ডাই ৪০ ও ইয়ালো লেক ৫ থাকলে সতর্ক থাকা উচিত। এসব উপাদান ত্বকের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।
কম দামের লিপস্টিকেই বেশি ঝুঁকি?
শুধু কম দাম দেখেই লিপস্টিক কেনা উচিত নয়। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে নিম্নমানের প্রসাধনী কিনলে তা ত্বক ও ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সুতরাং, লিপস্টিকের সংখ্যা বেশি রাখার চেয়ে মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
কেনার আগে উপকরণের তালিকা পড়ুন
লিপস্টিক কেনার সময় শুধুমাত্র রং ও দাম দেখলেই হবে না। প্যাকেটের গায়ে দেওয়া উপকরণের তালিকাটিও দেখে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে উপরে উল্লেখ করা উপাদানগুলোর নাম থাকলে সেই পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এমন পণ্য বেছে নেওয়া উচিত, যা ব্যবহারে ঠোঁটে অস্বস্তি বা শুষ্কতা তৈরি করে না।
লিপস্টিক পরে ঘুম নয়
সারাদিন লিপস্টিক পরে রাতে সেটি না তুলে ঘুমিয়ে পড়া ঠোঁটের জন্য ভালো নয়।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে আলতো হাতে তেলভিত্তিক প্রসাধনী পরিষ্কার করার উপকরণ দিয়ে লিপস্টিক তুলে ফেলুন। এরপর ঠোঁটে ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহার করে ঘুমাতে যেতে পারেন।
এতে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা কমবে।
ব্যবহারের আগে ঠোঁট সুরক্ষিত রাখুন
লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে লিপ প্রাইমার অথবা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
এতে লিপস্টিক সরাসরি ঠোঁটের ত্বকে লাগার মাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ঠোঁটের আর্দ্রতাও ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করা খুব বেশি পরিমাণে ভালো নয়। ম্যাট ধরনের লিপস্টিক দীর্ঘ সময় ঠোঁটে স্থায়ী হয়। এ কারণে অনেকেই এটি পছন্দ করেন। তবে এসব লিপস্টিক ঠোঁটকে তুলনামূলক বেশি শুষ্ক করে দিতে পারে।
অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে ঠোঁটে অস্বস্তি ও রঙের পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন দীর্ঘ সময় খুব বেশি ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।
সুন্দর ঠোঁটের জন্য একটু সচেতনতাই যথেষ্ট। লিপস্টিক সাজগোজের অংশ হলেও এটি সরাসরি ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে। তাই শুধুমাত্র পছন্দের রং নয়, পণ্যের মান ও উপকরণের তালিকার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ভালো মানের পণ্য বেছে নেওয়া, ঘুমানোর আগে লিপস্টিক তুলে ফেলা, ঠোঁট আর্দ্র রাখা এবং অতিরিক্ত শুষ্ক করে এমন পণ্য কম ব্যবহার—এসব অভ্যাস ঠোঁটের যত্নে সহায়ক হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ