বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৪ পি.এম
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হ্যাচারিতে নতুন প্রযুক্তির ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।
প্রকল্পটি থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের একটি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন এবং সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
পরিদর্শনের সময় সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাজেদুল করিম মন্তব্য করেন, “বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এতে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় পুরো জায়গা খালি করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রকল্পে একটি ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি দেশের অন্যান্য চিংড়ি হ্যাচারির জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।
হ্যাচারির মালিক আব্দুল আজিজ জানান, “নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে পারবেন তিনি। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংক রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির প্যানেল ব্যবহারের ফলে কাজটি সহজ হবে এবং হ্যাচারির কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও কারখানা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে সেই বিদ্যুৎ কিনবে।”
তিনি আরও বলেন, “ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী প্যানেলের বদলে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনের সময় প্যানেল সরিয়ে পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানো যায়। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”
পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপন পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রবি ও বোরো মৌসুমের প্রেক্ষাপটে সার সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এক বস্তা সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক স্থানে সার নিতে গিয়ে ডিলারদের লোকজনের হাতে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে কৃষকরা বোরো ও রবি ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারের মেসার্স সাফী এন্টারপ্রাইজের সামনে বুধবার সকালে সার নিতে আসেন শতাধিক কৃষক, নারী-পুরুষ উভয়েই। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দোকানের শাটার খোলেনি। এ সময় কৃষকদের সঙ্গে ডিলারের লোকজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া জানান, তিনি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করেন। তার স্বামী ও সন্তান কেউ না থাকায় কৃষিকাজই তার প্রধান আয়ের উৎস। সারের প্রয়োজনেই তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সার না পাওয়ার কারণে তিনি খালি হাতে বাড়ি ফেরার আশঙ্কা করছেন।
খরমকুড়ি গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডিলারের ছেলের কাছ থেকে নানা অবান্তর কথা ও গালাগালি শুনতে হয়েছে। তারা সার নিতে গ্রাম থেকে ৫০০ টাকা ভাড়ায় ভ্যান এনেছিলেন। পরে চার বস্তা সারের টাকা জমা দিয়ে তাদের মাত্র দুই বস্তা দেওয়া হয়। তবে জমা টাকা কিংবা ফেরত দেওয়ার কোনো রসিদ তাদের দেয়া হয়নি।
বুধবার আবার বাকি সার নিতে গেলে ডিলারের ছেলে ও তার লোকজন খারাপ ব্যবহার করেন বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার মিজানুর রহমান।
সিংড়ার কৃষকরা জানান, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় অনেকেই তা পাচ্ছেন না। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি সার নিতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাকে সার দেওয়া হয়নি। অথচ সার দেওয়া হয়েছে বলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, জমিতে সরিষা, ভুট্টা ও আলু চাষের উপযোগী সময় চলে এসেছে। কিন্তু দুদিন ধরে ডিলারের দোকানে ঘুরেও সার পাননি। তার অভিযোগ, সার না পাওয়ার পাশাপাশি ডিলারের লোকজনের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরেও সার নিতে গিয়ে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নে ডিলার আবদুর রাজ্জাকের দোকানের সামনে বুধবার সকাল থেকে কৃষকরা জড়ো হতে থাকেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সার সংকটের কথা বলে আসছিলেন ডিলার। বুধবার সার দেওয়ার খবর পেয়ে সকাল থেকেই শত শত কৃষক দোকানের সামনে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক কৃষকের উপস্থিতি দেখে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন।
এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কয়েকজন কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সেখানে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজও উপস্থিত হন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ওই ডিলার ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ পেয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে ভিড় করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গোডাউনের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। পরে গ্রাম পুলিশ দিয়ে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।
কৃষকদের দাবি, সময়মতো সার না পেলে রবি ও বোরো মৌসুমের আবাদ ব্যাহত হবে। তাই তারা দ্রুত সার সংকটের সমাধান এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তিন যুবককে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোহাগ সেন, সম্পদ বিশ্বাস ও তাজিম শরীফ নামের তিন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করেন। ওই শিক্ষার্থী যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, তখন তিন যুবকও ক্যাম্পাসে ঢুকে আবারও তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি লক্ষ্য করে যুবকদের আটক করে তাদেরকে পিটুনি দেন। তারা যুবকদের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন।
তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া সোহাগ নিজেকে দৈনিক আমাদের বাংলা ও ডেইলি প্রেসিডেন্ট টাইমসের জেলা প্রতিনিধি এবং চ্যানেল-এস -এর ক্যামেরাপার্সন হিসেবে পরিচয় দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ইনডিগো এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তবে, বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। বিমানে থাকা ১০৪ যাত্রী এবং ছয় ক্রু সদস্য সবাই অক্ষত রয়েছেন।
এ ঘটনা ঘটে বুধবার (৭ অক্টোবর) পাটনা থেকে লখনৌ যাওয়ার পথে। ইনডিগোর ৬ই ৬২৫ ফ্লাইটটি যখন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিল, তখন অবতরণের সময় শিলাবৃষ্টির ফলে বিমানের সামনের রাডোম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণে বিমানের সামনের অংশটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
তবে, পরিস্থিতি সামলে বিমানটি নির্ধারিত সময়ের আট মিনিট আগে লখনৌয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। পরে সব যাত্রীকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়।
ইনডিগোর এক মুখপাত্র জানান, অবতরণের সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার পর বিমানটি আবার ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
ঘটনার পর ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর-ডিজিসিএ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং নিয়ামক সংস্থার ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি আকাশে উড়তে পারবে না।
গত মাসে ইনডিগোর আরেকটি ফ্লাইটও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল। গুয়াহাটি থেকে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে যাওয়া এ৩২১নিও উড়োজাহাজটি কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ‘টেইল স্ট্রাইক’-এর শিকার হয়েছিল।
এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়, অবতরণের সময় প্রবল বাতাসের কারণে বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে রানওয়ে স্পর্শ করেছিল। ঘটনার পর বিমানটি গ্রাউন্ডেড করা হয় এবং পরবর্তী পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শাড়ি পরে, পায়ে কোনো জুতা না থাকলেও থামেননি ২৭ বছর বয়সী কবিতা কুমারী। মাত্র ছয় মিনিটে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছেন এই লড়াকু মা।
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সসো গ্রামের অধিবাসী কবিতা। তিন বছর আগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর তার স্বামী দীপক মাহাতো মারা যান। এরপর দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন কবিতা।
কিন্তু শুধু সংসার চালাতেই তিনি থেমে থাকেননি। সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ বদলানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বা হোম গার্ডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে দৌড়ের অনুশীলন করতেন তিনি।
দৌড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় জুতা বা ট্র্যাকিং পোশাক কেনার সামর্থ্য ছিল না কবিতার। তাই সাধারণ পোশাকেই গ্রামের মেঠোপথে চলত তার অনুশীলন। কখনো কখনো শাড়ি পরেই তাকে দৌড়াতে হয়েছে।
সম্প্রতি একটি স্থানীয় ট্রেনিং একাডেমি অফিসিয়াল সিলেকশন ড্রাইভের আগে ট্রায়াল রানের আয়োজন করে। সেখানে কবিতা অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন। গায়ে শাড়ি, পায়ে জুতা ছাড়াই গরম পিচের ওপর দৌড় শুরু করেন তিনি। সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মাত্র ছয় মিনিটে ১ হাজার ৬০০ মিটারের ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন।
কবিতার দৃঢ়তা দেখে ট্রেইনার ও উপস্থিত দর্শকরা অবাক হয়ে যান। তার দৌড়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি প্রশংসায় ভাসতে থাকেন। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকারি চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে তার লড়াই অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে ঝাড়খণ্ড হোম গার্ডের শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রামগড় জেলায় মোট ২৮৪টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য রয়েছে আরও ৫ শতাংশ বিশেষ সংরক্ষণ।
এখন কবিতার লক্ষ্য সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে একটি সরকারি চাকরি পাওয়া। দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্নে তিনি প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে ছুটে চলেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ