মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৭ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আট জেলা, মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পরে প্রাপ্ত কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তির বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তার নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেও আবেদন করা যাবে।
তবে, যদি কেউ আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ গ্রহণ করে থাকে, অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে, অথবা সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ব্যাংক ঋণ ও অনুদান একই সময়ে, এককালীন এবং অনুমোদিত পরিমাণে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হবে। নগদে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে, নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা কোনো পর্যায়ে ঋণের অপব্যবহার হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে, বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তরিত হবে। ওই অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।
কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো পর্যায়ে তদবির করলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী অযোগ্য বিবেচিত হবেন এবং তার আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া, অসত্য তথ্য প্রদান বা অন্যের ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন যেকোনো পর্যায়ে বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
কর্মসূচি সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা, উদ্যোক্তার যোগ্যতা, অর্থায়নের কাঠামো, আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এবং এসএমই পোর্টালে প্রকাশিত সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যাংক অর্থায়নের আওতায় এনে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলকাতা পুলিশের কর্তৃপক্ষ ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাদের দাড়ি কামানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখার যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশিকায় পুলিশের প্রচলিত দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবিলম্বে জানিয়ে দেওয়া এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন হজ পালন শেষে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।
এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রযোজ্য হবে না।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের জন্য প্রণীত বিধিমালা বা ‘ম্যানুয়াল’-এ সাধারণভাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা দাড়ি রাখতে পারবেন না। তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধির ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের এ ধরনের পোশাক ও সাজসজ্জার বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা এবং বাহিনীগত সামঞ্জস্য বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেই ধারাবাহিকতায় দাড়ি রাখার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ নির্দেশিকায় সেই পুরোনো বিধিই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাহিনীর শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ভূমি অফিসে নামজারি করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যক্তির অভিযোগ অনুযায়ী, চারটি নামজারির জন্য প্রথমে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এ সময় নগদ টাকা গ্রহণ ও গোনার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়াচর চর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ২০ মে ভূমি মেলার সময় ছয়টি দলিলের নামজারির বিষয়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহানের কাছে যান। তার অভিযোগ, শুরুতেই ছয়টি নামজারির জন্য ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।
মহিউদ্দিনের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা নগদ দেন। বাকি ১০ হাজার টাকা কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে একটি নামজারি সম্পন্ন হলেও বাকি আবেদনগুলো ঝুলে আছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরটিভির হাতে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তির হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি টাকা গুনে নিজের কাছে রাখছেন। ভিডিওতে নামজারি ও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
সরকারি নির্ধারিত হিসাবে একটি নামজারির ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। অভিযোগটি সত্য হলে চারটি নামজারির জন্য সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খন্দকার তার কাছে আসেননি এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও তার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নামজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের সত্যতা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ গাভদোসের নিকটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ফলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘টু ভিমা’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নৌকাটিতে মোট ৭৭ জন যাত্রী ছিল। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর গ্রিসের কোস্টগার্ড ৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে গ্রিসের কোস্টগার্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্স যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানের জন্য চারটি নৌযান, একটি উড়োজাহাজ এবং একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে কোন কোন দেশের নাগরিক রয়েছেন, সেই তথ্য এখনও গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়নি। তবে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ক্রিট দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইআরটি জানিয়েছে, সোমবার থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, গ্রিসে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আইন যথেষ্ট কঠোর। দেশের ভূখণ্ডে নথিবিহীন অবস্থায় প্রবেশ করলে বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক আটক, শাস্তি এবং দ্রুত বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুস্থ থাকতে চাইলে সব সময় কঠিন নিয়ম বা দ্রুত ফল পাওয়ার পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই শরীর ও মন ভালো রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য নিয়ে নানা পরামর্শ ও নতুন নতুন পদ্ধতির ভিড়ে সহজ ও দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা যায়—এমন অভ্যাসই বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের জীবনে এমন পাঁচটি অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন
প্রতিদিন কিছু সময় বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। হাঁটার সময় চারপাশের গাছপালা, পাখি বা প্রকৃতির দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে মন শান্ত হতে এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ধ্যানও মন ও শরীরকে শান্ত রাখতে সহায়ক। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করা যায়। নিয়মিত এমন অনুশীলন দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমাতে, হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
খাওয়ার সময়ও মনোযোগী হওয়া জরুরি। ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া এবং খাবারের স্বাদ উপভোগ করা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুমকে গুরুত্ব দিন
ভালো ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, শরীর ও মনের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও শান্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতি, বিচারবোধ এবং মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শুধু কত ঘণ্টা ঘুম হলো, তা নয়—ঘুম কতটা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন হলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জেগে ওঠার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, বিকেল ও সন্ধ্যার পর চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর আগে বেশি খাবার না খাওয়াও উপকারী। ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মুঠোফোন, কম্পিউটার বা অন্য পর্দার ব্যবহার বন্ধ করা ভালো।
নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাকৃতিক খাবার বেশি খান
শাকসবজি, ফল, ডাল, মটরশুঁটি, ছোলা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এসব খাবার দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ রাখতে এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় বেশি লবণ, চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি, রং ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়। এসব খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো নয়।
তাহলে খাবারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব তাজা ও স্বাভাবিক খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া ভালো।
বেশি নড়াচড়া করুন, কম বসে থাকুন
ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা খুব সহজ। কিন্তু শরীরকে সচল রাখতে দিনের বিভিন্ন সময় নড়াচড়া করার সুযোগ খুঁজে নেওয়া জরুরি।
প্রতিদিন একটানা ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা ভালো। তবে এর পাশাপাশি সারাদিন ছোট ছোট সময় হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা অন্যভাবে শরীর সচল রাখাও উপকারী।
কাজের ফাঁকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার পরিবর্তে হাঁটতে হাঁটতে সময় কাটানো—এ ধরনের অভ্যাস শরীরকে সচল রাখতে পারে।
বয়স, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে যাদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপযুক্ত শারীরিক কার্যক্রম বেছে নিতে পারেন।
প্রতিদিনের ক্ষতিকর উপাদান থেকে নিজেকে বাঁচান
বায়ুদূষণ, অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা এবং কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান আধুনিক জীবনে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন। এসব উপাদান শরীরে ঢুকে ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বায়ুদূষণ বা আগুনের ধোঁয়ার অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে হৃদ্রোগ, ফুসফুসের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
রান্নার সময় গ্যাসের চুলা থেকেও কিছু ক্ষতিকর গ্যাস ও অতিক্ষুদ্র কণা তৈরি হতে পারে। তাই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সম্ভব হলে বৈদ্যুতিক বা তড়িৎচৌম্বক চুলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
পানি পরিষ্কার রাখতে উপযুক্ত পানি পরিশোধক ব্যবহার করা, রান্নাঘরের প্লাস্টিকের বদলে কাচের পাত্র ব্যবহার করা এবং পানির জন্য স্টিলের বোতল ব্যবহার করাও ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বাইরের বাতাসে দূষণ বেশি থাকলে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করেন এমন মানুষের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কঠিন কোনো নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। মনকে শান্ত রাখা, ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত নড়াচড়া এবং ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমানোর মতো সহজ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নতুন নতুন পদ্ধতির পেছনে না ছুটে প্রতিদিনের জীবনে টেকসই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ পথ।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ