০২:৪০ পি.এম
রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে ভারত এবার বড় ধরনের মার্কিন শুল্কের সম্মুখীন হতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে একটি বড় নিষেধাজ্ঞার বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এমন খবরই জানিয়েছে এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা।
‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। তবে কংগ্রেসের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেখানে এ নিয়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনসহ অন্তত পাঁচটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পণ্যে নতুন করে বড় শুল্ক বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের রপ্তানি খাতের ওপর নতুন চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন সামুদ্রিক নেটওয়ার্কগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন উদ্যোগ রাশিয়াকে চাপে ফেলতেই নেয়া হয়েছে।
সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার আগে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিশ মন্তব্য করেন, এই উদ্যোগ রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে অবদান রাখতে পারে। তার দাবি, এর মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের আঘাত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বিলটি পাস হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, রাশিয়ার ওপর শক্তিশালী মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ সমাপ্তিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের পাশাপাশি দেশটির জনগণের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এই বিলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন। গত ১১ জুলাই তার মৃত্যু হওয়ার পর এই বিলটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
বিল পাস হওয়ার পর গ্রাহামের আসনে দায়িত্ব গ্রহণকারী তার বোন ডারলাইন গ্রাহাম নর্ডোন জানান, এই বিল পুতিনকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে এমন ক্ষেত্রে আঘাত করবে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনও বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি পুতিনের প্রতি স্পষ্ট ও দুই দলের সমর্থিত চাপের বার্তা প্রদান করেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
প্রতিনিধি পরিষদে বাধার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইয়েন এই বিলটি পাস হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি জানিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স ও ডন বেয়ার জানান, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে অতিরিক্তভাবে ব্যবহার হতে পারে। তাদের মতে, শুক্রবার গৃহীত বিলের বর্তমান রূপ সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসও বিলটির বিরোধিতা করেছে। দূতাবাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সংকট এবং গ্যাসের দাম বাড়ার সময়ে রাশিয়া ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে এটি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিলটি কি প্রতিনিধির পরিষদে পাস হবে কি না। কিন্তু সিনেটের এই সিদ্ধান্তে রাশিয়ার তেল কেনা ভারতীয় পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঝুঁকিতে পড়ায় দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন