ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে


ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এর জন্য রয়টার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক মার্কিন কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন কর্মকর্তা ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আশা, শীঘ্রই একটি চুক্তির কার্যকরী রূপ দেখা যাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেহেতু চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চয়তা পাবে, সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ওই কর্মকর্তার কথায়, ইরান ও ওমানের আলোচনা সফল হচ্ছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ত obstante, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে যে, ইরান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কিনা।

মার্কিন কর্মকর্তার আরো বক্তব্য হল যে, ইরানের প্রতিশ্রুতি কি পরিমাণে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ দোকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ দোকান

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এই আগুনের ঘটনা ঘটে শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর রাতের দিকে উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারের পশ্চিম গলিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোর রাতে প্রথমে একটি দোকান থেকে অকস্মাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের অন্যান্য দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

খবর গ্রহণ করার পর রামগতি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানায় যে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হয়েছে। দোকানগুলো টিনশেড হওয়ায় এবং অনেকটা ফাঁকা থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুদি দোকান, সেলুন, ফার্মেসি, হোটেল ও প্লাস্টিকের দোকান অন্তর্ভুক্ত।

রামগতি ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকানে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে তাদের তৎপরতার ফলে প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি খরচে দেশে ফিরছে প্রবাসী শেখ ফরিদের ম র দে হ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


সরকারি খরচে দেশে ফিরছে প্রবাসী শেখ ফরিদের ম র দে হ

মালদ্বীপে স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৪৫ বছর বয়সি প্রবাসী বাংলাদেশি মো. শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে ফিরেছে।

শেখ ফরিদের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নসা মিয়া। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।

হাইকমিশন জানায়, মৃত্যুর পর শেখ ফরিদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে সাত দিন ধরে মর্গে ছিল। মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রবাসী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে বা অসুস্থ কিংবা আহত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ইনস্যুরেন্সের আওতায় তার চিকিৎসার খরচ এবং প্রয়োজনে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

তবে শেখ ফরিদ মৃত্যুর সময় বৈধভাবে মালদ্বীপে অবস্থান করছিলেন না। ফলে, তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

পরে মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং শেখ ফরিদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ ফরিদের নিকটাত্মীয় ও বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান যে, প্রায় দুই বছর আগে নতুন করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে পাড়ি জমান শেখ ফরিদ।

তিনি জানিয়েছেন, শেখ ফরিদ দীর্ঘকাল ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে স্ট্রোকের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর সঙ্গীরা তাকে দ্রুত মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শরিফুল ইসলাম বলেন, শেখ ফরিদের মালদ্বীপে যাওয়ার পর প্রথম দিকে বিভিন্ন কোম্পানিতে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল। তবে ভিসা ফি পরিশোধ না হওয়ার কারণে তিনি শেষ দিকে অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ফলে তার কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কোনো কোম্পানি তার মরদেহ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নেয়নি।

পরে মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ ফরিদকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে মালদ্বীপের বিমানবন্দরে তার স্বজন, সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ প্রবাসীরা উপস্থিত হন। এ সময় ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও সেখানে ছিলেন।

মরদেহ দেশে পাঠানোর সময় বিমানবন্দরে শোকের আবহ নেমে আসে। স্বজন ও সহকর্মীরা আবেগঘন পরিবেশে শেখ ফরিদকে শেষ বিদায় জানান।

বিনা খরচে শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা এই ধরনের সহযোগিতাকে প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে, গত এক সপ্তাহে মালদ্বীপে আটজন প্রবাসী বাংলাদেশির অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এই মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, একে একে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যু হলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাতে প্রায় ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেখ ফরিদের মরদেহ গ্রহণ করেন তার নিকটাত্মীয় শিপুল ও আজিজ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ২২ দিন পর কর্মস্থলে যোগদান করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ২২ দিন পর কর্মস্থলে যোগদান করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

ভোলায় ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা ছুটি শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সাত দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি, শঙ্কর কৃষ্ণ দাস, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শঙ্কর কৃষ্ণ দাস গত ১২ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ভোগ করেছেন। কিন্তু তার নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর, ২৬ জুলাই কর্মস্থলে যোগদান না করে তিনি ২ আগস্ট অফিসে হাজির হন। এর মানে হল, ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি মোট ২২ দিন পর কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

এই ঘটনায় তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত ছুটি শেষ হওয়ার পরে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদানের নিয়ম থাকলেও, শঙ্কর কৃষ্ণ দাস তা না মেনে অতিরিক্ত কয়েকদিন অনুপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শঙ্কর কৃষ্ণ দাস বলেন, "আমি কিছুই জানিনা। স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।"

অপরদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. রাজন জানান, "আমার অফিসে কর্মরত উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শঙ্কর কৃষ্ণ দাস ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেননি। এ বিষয়ে আমি তার কাছে জানতে চেয়েছি। জবাবে তিনি জানিয়েছেন, পাইলসের চিকিৎসা নেওয়ার কারণে সময়মতো যোগদান করতে পারেননি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।"

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, "অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের প্রমাণ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিনল্যান্ডে অনুমতি ছাড়াই কূপ খননের প্রস্তুতি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত তেল কোম্পানির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


গ্রিনল্যান্ডে অনুমতি ছাড়াই কূপ খননের প্রস্তুতি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত তেল কোম্পানির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পুনরায় গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি জোরালো করে তুলছেন, ঠিক সেই সময়েই ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মার্কিন তেল কোম্পানি গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এই কাজ শুরু করেছে।

সম্প্রতি, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে দুর্গম এলাকায় তেল অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নামানো হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রিনল্যান্ড সরকার ‘কড়া সতর্কবার্তা’ দিয়ে জানিয়েছে, তাদের কাছে সরঞ্জাম নামানোর কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি।

গ্রিনল্যান্ড সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সব ধরনের লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট খনিজ সম্পদ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং তাদের অনুমোদন নিতে হবে।

এই ঘটনার দুই দিন পরে, ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনল্যান্ডের একটি গ্রামের ওপর নিজের ছবি বসিয়ে একটি হুমকিসূচক পোস্ট দেন।

গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান **গ্রিনল্যান্ড এনার্জি** তাদের কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য ডানপন্থি সাবেক টকশো উপস্থাপক ফিল ম্যাকগ্রাকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি ‘ড. ফিল’ নামেই বেশি পরিচিত এবং ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ‘আধুনিক সময়ের এই ওয়াইল্ডক্যাটারদের মিশন’ তুলে ধরা হবে। ওয়াইল্ডক্যাটার বলতে সাধারণত বড় কোম্পানির বাইরে স্বাধীনভাবে তেল অনুসন্ধানে নামা ব্যক্তিদের বোঝানো হয়।

গ্রিনল্যান্ড এনার্জি আরও একজন মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্যকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওই ব্যক্তি বর্তমানে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি ‘গোল্ডেন ডোম’-এর সঙ্গে কাজ করছেন। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে ট্রাম্প এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড এনার্জির চেয়ারম্যান ও বড় শেয়ারহোল্ডার ল্যারি সোয়েটসের ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো সম্পর্ক নেই।

জুন মাসে, জেমসন ল্যান্ড এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের এক বৈঠকে কোম্পানির এক প্রতিনিধি ভুলভাবে দাবি করেছিলেন যে, তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম তীরে নামানোর জন্য তাদের অনুমতি রয়েছে। পরে সোয়েটস বলেন, প্রকল্পটির প্রতি তাদের অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

কিন্তু পরের মাসেই ওই বিরল জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, একটি টাগবোট একটি বার্জকে তীরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে থেকে প্রায় এক ডজন কনটেইনার নামানো হচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেমসন ল্যান্ডের নুনাপ কেক্কা এলাকায় পরিকল্পিত তেল অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তীরে নামানোই ছিল ওই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।

ডেনমার্কভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্যানওয়াচ ওই জাহাজ পরিবহনকারী কোম্পানির প্রধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সরঞ্জামগুলো গ্রিনল্যান্ড এনার্জির জন্যই পাঠানো হয়েছিল।

গ্রিনল্যান্ড এনার্জি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার শেয়ারহোল্ডারদের পাঠানো এক চিঠিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রকল্পের নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক ও তদারকি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো ইতিবাচক ছিল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কূপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় বাকি অনুমোদনগুলো পাওয়ার পথে অগ্রগতি হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে কোম্পানি আশাবাদী। প্রাথমিকভাবে একটি কূপ খননের মাধ্যমে প্রকল্প শুরু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড এনার্জির একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের প্রায় ৩০০ কনটেইনারে থাকা তেল অনুসন্ধান সরঞ্জাম নিয়ে একটি জাহাজ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর কানাডা থেকে গ্রিনল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। অক্টোবরেই কূপ খননের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক দূত ও কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি এরই মধ্যে জানিয়েছেন, আগামী বছরই গ্রিনল্যান্ডে তেল উত্তোলন শুরু হতে পারে।

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত কর্তৃপক্ষের হাতে। ফলে তারা এখন একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি রয়েছে।

একদিকে তারা তেল অনুসন্ধানের অনুমতি দিতে পারে, অন্যদিকে পরিকল্পিত কূপগুলো জলাভূমি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক রামসার কনভেনশনের আওতাধীন একটি সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে পড়ে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

আবার অনুমতি না দিলে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন কোনো অজুহাত তৈরি হতে পারে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ বিদ্যমান।

গ্রিনল্যান্ড সরকার অবশ্য জানিয়েছে, সরঞ্জামগুলো তীরে নামানোর পর সেগুলো আবার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া ‘অনুপাতসম্মত হবে না’। একই সঙ্গে তেল অনুসন্ধানের অনুমতির আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার আগেই তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছে যাওয়ার এ ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এটি দেখায় যে, দ্বীপটির প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারের কর্তৃত্ব কতটা কার্যকর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো সেখানে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%