প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মালদ্বীপে স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৪৫ বছর বয়সি প্রবাসী বাংলাদেশি মো. শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে ফিরেছে।
শেখ ফরিদের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নসা মিয়া। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
হাইকমিশন জানায়, মৃত্যুর পর শেখ ফরিদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে সাত দিন ধরে মর্গে ছিল। মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রবাসী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে বা অসুস্থ কিংবা আহত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ইনস্যুরেন্সের আওতায় তার চিকিৎসার খরচ এবং প্রয়োজনে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
তবে শেখ ফরিদ মৃত্যুর সময় বৈধভাবে মালদ্বীপে অবস্থান করছিলেন না। ফলে, তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
পরে মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং শেখ ফরিদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ ফরিদের নিকটাত্মীয় ও বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান যে, প্রায় দুই বছর আগে নতুন করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে পাড়ি জমান শেখ ফরিদ।
তিনি জানিয়েছেন, শেখ ফরিদ দীর্ঘকাল ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে স্ট্রোকের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর সঙ্গীরা তাকে দ্রুত মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শরিফুল ইসলাম বলেন, শেখ ফরিদের মালদ্বীপে যাওয়ার পর প্রথম দিকে বিভিন্ন কোম্পানিতে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল। তবে ভিসা ফি পরিশোধ না হওয়ার কারণে তিনি শেষ দিকে অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ফলে তার কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কোনো কোম্পানি তার মরদেহ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নেয়নি।
পরে মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ ফরিদকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে মালদ্বীপের বিমানবন্দরে তার স্বজন, সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ প্রবাসীরা উপস্থিত হন। এ সময় ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও সেখানে ছিলেন।
মরদেহ দেশে পাঠানোর সময় বিমানবন্দরে শোকের আবহ নেমে আসে। স্বজন ও সহকর্মীরা আবেগঘন পরিবেশে শেখ ফরিদকে শেষ বিদায় জানান।
বিনা খরচে শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা এই ধরনের সহযোগিতাকে প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে, গত এক সপ্তাহে মালদ্বীপে আটজন প্রবাসী বাংলাদেশির অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এই মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, একে একে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যু হলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাতে প্রায় ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেখ ফরিদের মরদেহ গ্রহণ করেন তার নিকটাত্মীয় শিপুল ও আজিজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন