০৮:৩৮ পি.এম
ক্রেতা সংগ্রহের জন্য ভিজিটিং কার্ড বিলি করে এরপর মাদক বিক্রির কাজ শুরু করা হয়। কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রুপে অর্ডার করার মাধ্যমে হোম ডেলিভারিতে মাদক কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা পাওয়া যায়। সম্প্রতি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ড্রপআউট শিক্ষার্থীকে অভিনব কায়দায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানায়, সিক্রেট গ্রুপ থেকে মাদক ক্রয় করছেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চারশ শিক্ষার্থী। এদিকে, গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
ভিজিটিং কার্ডটির এক পাশে লেখা রয়েছে "ক্রেভিংস"। অন্যপাশে কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি ওয়েবপেজ আসে। সেখানে "ক্রেভিংস" লেখা সিক্রেট টেলিগ্রাম পেজের লিংকও রয়েছে। নিচে ওয়েবপেজে লগইন-রেজিস্ট্রেশনের অপশন রয়েছে। টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করতে সাবস্ক্রাইব করার অপশন দেখা যায়। এরপর অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগের অপশন আসে, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী মাদকদ্রব্য অর্ডার করা সম্ভব।
সাইবার প্যাট্রোলিংয়ে ডিএনসির নজরে আসে সিক্রেট গ্রুপটি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রুপের অ্যাডমিনকে খুঁজে বের করা হয়। এরপর রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম নামের ওই অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল সংখ্যক ভিজিটিং কার্ড ও মাদক বিক্রির আলামত উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: ভেসে যাচ্ছিলেন একজন, উদ্ধারে একে অপরের হাত ধরে শেকল তৈরি করেও রক্ষা হয়নি
সাইম ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে পুরো চিত্র প্রকাশ পায়। জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া সাইম ২০২৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হন এবং দুই বছর পর ড্রপআউট হন। আইটি সম্পর্কে তার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রি শুরু করেন সাইম।
ডিএনসি জানায়, সাইমের টেলিগ্রাম গ্রুপ "ক্রেভিংসে" ৩৯৭ সাবস্ক্রাইবারের মধ্যে বেশিরভাগই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সাইম তাদের কাছে মাদক বিক্রি করতেন।
ডিএনসির ঢাকার বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, তিনি ৬ মাস ধরে এ মাধ্যমের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। তার টার্গেট ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়ে। কার্ডের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে তারা একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করেছিলেন, মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য।
ঢাকা বিমানবন্দরে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি কুশের চালান ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসি জানায়, দেশে কুশের বাজার তৈরির চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র। সেই চক্রের কাছ থেকে সাইম কুশ কিনেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি শনাক্ত করেছি। দেখা গেছে, ওই চ্যানেলে ২৫০ এর মতো শিক্ষার্থী রয়েছেন। বর্তমানে সাইম ইসলামের মাধ্যমে তারা মাদক কেনাবেচা করত। মামলা মাত্র রুজু হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত আছেন, আরও কেউ আছে কি না, তা খুঁজে বের করা হবে।
ডিএনসি গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলেও জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন