প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার ঐতিহ্যবাহী কাশবন। একসময় গ্রাম বাংলার ঝোপঝাড়, রাস্তাঘাট ও নদীর দুই ধারায় কাশফুলের মনমুগ্ধকর উপস্থিতি দেখা যেত। হাওয়ায় দোল খাওয়া কাশফুলের দৃশ্য মানুষের মনে এক ভিন্ন আনন্দের অনুভূতি জাগাত। তবে কালের পরিবর্তনে এলাকাগুলোতে শরৎকালের সেই পরিচিত দৃশ্য এখন আর তেমন দেখা যায় না।
বর্তমানে গ্রামবাংলায় বিচ্ছিন্নভাবে যে কটি কাশবন বা কাশফুল দেখা যায়, সেগুলোও বিলুপ্তির পথে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, কাশবন চাষে অতিরিক্ত পরিচর্যা কিংবা সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় অথবা বীজ ছিটিয়ে দিলেই কাশবনের সৃষ্টি হয়। এর ব্যবহারও বহুমুখী। কাশবনের গাছ কিছুটা বড় হলেই তা গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি গ্রামের বধূরা কাশ দিয়ে ঝাঁটা, ডালি ও দোন তৈরি করে থাকেন।
তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মানুষ ঝোপঝাড়, বন-জঙ্গল ও পতিত জমি কেটে কৃষিজমি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছেন। এর ফলে প্রকৃতির রূপ দেওয়া কাশবনসহ গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়লে কাশবনসহ এসব ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতিতে শরৎ মানেই নদীকূলে কাশফুলের শুভ্র উপস্থিতি, যা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। তবে সময়ের চাহিদায় যান্ত্রিক জীবনের প্রভাবে মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পূর্বে যেখানে কাশফুলের অরণ্য দেখা যেত, সেখানে আজ গড়ে উঠেছে মৌসুমি ফসলের খেত। এভাবেই আধুনিকায়নের প্রভাবে শরতের প্রকৃত সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে বসেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃতি উপভোগের সুযোগও দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন