বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৭ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা দাবি করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাকে পুরস্কৃত করবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি উচিত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কমিটি তার মতো ব্যক্তিদের পুরস্কৃত না করার একটি ধারণা রয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবে। ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা তিনি জানেন না। তার মতো মানুষের জন্য পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে কমিটির একটি পরিচিতি রয়েছে।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি তার কূটনৈতিক তৎপরতার কথা তুলে ধরে দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর আটটি সংঘাতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সমাধান বা হস্তক্ষেপে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এসব সংঘাতের প্রকৃতি এবং সেগুলোর সমাধানে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতভেদ রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এখন সেই সময়টি এসেছে।’ গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, মাচাদোর কাছ থেকে পরোক্ষভাবে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মাচাদো চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। তিনি এটি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে তুলে দেন। তবে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরস্কার একবার ঘোষণার পর তা অন্য কাউকে হস্তান্তর, ভাগ বা বাতিল করা যায় না।
এদিকে কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেছেন। তবে এসব মনোনয়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই, কারণ নোবেল কমিটি মনোনয়নদাতাদের পরিচয় ও মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন রাখে।
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য ডন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা দীর্ঘ আট মাস পর চালু হওয়ার দুই দিন পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে সার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস পেয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) গভীর রাতে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে কারখানার অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে। বয়লার প্ল্যান্টের সমস্যার সমাধান হলে কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে। পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুই দিনে মোট এক হাজার ৬শ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা হয়েছে।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে দুই দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস যমুনা সার কারখানা বন্ধ ছিল। পরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দৈনিক ১৭শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার ভোররাতে আবারও সার উৎপাদন শুরু করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ। যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতিমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যান্য খরচ ছাড়া শুধু প্লান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। থাইল্যান্ডের নাগরিক উপসর্ন ভালোবাসার মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
কিন্তু ভারতে এসে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী মোহাম্মদ ইরফান পূর্বে থেকেই বিবাহিত এবং তার তিন সন্তান রয়েছে। প্রায় ৬০ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৬ লাখ টাকা) স্বামীর হাতে তুলে দেওয়ার পর এই তথ্য প্রকাশ পায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের বাসিন্দা উপসর্ন একটি রেস্টুরেন্ট ও ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের চামড়াব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
দুই বছর আগে ইরফান নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে থাইল্যান্ডে উপসর্নকে বিয়ে করেন। এরপর বিভিন্ন খরচের কথা বলে স্ত্রীর কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা নিতে শুরু করেন। উপসর্নের অভিযোগ, নিজের ব্যবসার জমানো আয় ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা অর্থ মিলিয়ে তিনি ইরফানকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি দেন। কিন্তু পুরো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ইরফান হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে ভারতে ফিরে যান।
গত ৬ অক্টোবর কানপুরে সশরীরে ইরফানের বাড়িতে হাজির হন উপসর্ন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। উপসর্নের আরও অভিযোগ, প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে ইরফান তাকে মারধর করেন। টাকা ফেরত পেতে হলে তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বোরকা পরার শর্ত দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কানপুর পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন উপসর্ন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অনওয়ারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের নথি, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগসহ মামলার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আবাসিক সম্পাদক কামাল পারভেজকে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন বগার হুমকির ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (সিটিআরএন) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সিটিআরএন নেতাদের দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "একজন পেশাদার সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া নয়। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত।" তারা আরও বলেন, "যে সাংবাদিক সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেন, তাকে হুমকির মুখে ফেলার অর্থ পুরো গণমাধ্যমকে নীরব করার চেষ্টা।"
নেতারা সিটিআরএন এর পক্ষ থেকে জানান, "হুমকি-ধমকি দিয়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার দিন শেষ। সাংবাদিকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব থেকে কোনো ভয়ভীতি তাদের সরাতে পারবে না।" তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, হুমকির ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সিনিয়র সাংবাদিক কামাল পারভেজসহ চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে সংগঠনের আহ্বায়ক হোসাইন জিয়াদ, যুগ্ম আহ্বায়ক একে আজাদ, এবং সদস্যরা আরিচ আহমেদ শাহ, ফখরুল ইসলাম, তামিম মাহমুদ, ফেরদৌস লিপি ও শহিদুল সুমন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বাগেরহাটের রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজীব আল রশিদ মারা গেছেন। চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগের কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, ১০ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ৬ বছর বয়সী এক মেয়ে রেখে গেছেন।
রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত পাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এটি জানা গেছে যে, রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজীব আল রশিদকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজীব আল রশিদের জানাজা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাদ জোহর খুলনার আইচগাতিতে তার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ