শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৫ পি.এম
মডেল ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষক মেঘনা আলম মন্তব্য করেছেন যে, তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বিনাবিচারে কারাবরণের শিকার হয়েছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ দাবি জানান।
মেঘনা আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তার কারাবাসের ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলে ছিলেন, তখন আমার সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়ই ছিল না। এর অনেক পর উনার সঙ্গে পরিচয় ও বাগদান হয়। কিন্তু জুলাইয়ের পর বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, সৌদির রাষ্ট্রদূত মনে করতেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হয়তো অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সহায়তায় নতুন সরকার গঠন করবে। তবে তিনি রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরামর্শ দেন। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে অন্য রাষ্ট্রদূতদের আগেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার বিষয়েও তিনি তাকে বুঝিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মেঘনা আলম।
মেঘনা আলম বলেন, “একজন মহান নেত্রী বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছিলেন। আমিও বিনাবিচারে কারাবরণের স্বাদ নিয়েছি। সেই ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি ও নোংরামি করবেন না।”
তিনি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। মেঘনা আলম বলেন, দেশের মানুষকে অসম্মান করা এবং এ ধরনের নোংরা আচরণের কারণে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও দাবি করেন।
মেঘনা আলম বলেন, “আজ এ দেশের দুই নাগরিক এসব নোংরামির কারণেই ভিনদেশে জীবন হারিয়েছেন। আপনাদের এই নোংরামির কারণেই, দেশের মানুষকে অসম্মান করার কারণেই এ দেশের নারী-পুরুষকে বিয়ে করা সৌদিতে নিষিদ্ধ। তারা আপনাদের অকারণে ইদুর, মিসকিন বলে না— নোংরা মনে করে আপনাদের নিজেদের স্বভাবেই! নিজের দেশের মহান নেত্রীর জেলজীবন নিয়ে নোংরামি করতে লজ্জা করে না???”
ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো ব্যক্তিদের সেগুলো মুছে ফেলার আহ্বান জানান মেঘনা আলম। তিনি একই সঙ্গে এমন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে অন্য দেশগুলো বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বলিউডের নতুন সিনেমা উড়তা তীর-এর প্রচারকালে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা এবং অভিনেত্রী সারা আলি খান। আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে সিনেমার প্রচারের সময় পাকিস্তানের দিক থেকে পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের তাজদার-এ-হারাম গানটি উচ্চ শব্দে বাজানো হয়। এই কারণে আয়ুষ্মান ও সারার বক্তব্য দর্শকদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছাতে পারেনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উড়তা তীর সিনেমার প্রচারদল অমৃতসর ও আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে উপস্থিত হয়। দর্শকদের উদ্দেশে কথা বলার জন্য আয়ুষ্মান ও সারা মাইক্রোফোন হাতে নেন। কিন্তু পাকিস্তানের দিক থেকে উচ্চ শব্দে গান বাজতে থাকায় তাদের কথা শোনা কঠিন হয়ে যায়।
ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, দর্শকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেন দুই অভিনেতা। কিন্তু গানটির শব্দে তাদের বক্তব্য অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়।
এর আগে আয়ুষ্মান ও সারা এই আয়োজনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে সারা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, "তাদের প্রতিদিনের শক্তি ও আত্মত্যাগ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করে।" তবে প্রকাশিত ভিডিওটিতে আয়োজনের সরাসরি শব্দ শোনা যায়নি।
অমৃতসর সফরের সময় সারা আলি খান স্বর্ণমন্দিরেও যান। সেখানে প্রার্থনার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নেপালে নিষিদ্ধ সিনেমা উড়তা তীর
ভারতে মুক্তি পেলেও নেপালে নিষিদ্ধ হয়েছে আয়ুষ্মান খুরানা ও সারা আলি খান অভিনীত সিনেমাটি। নেপালের চলচ্চিত্র সমালোচক সামিপ্যরাজ তিমিলসিনার তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির কাহিনি সাজানো হওয়ায় দেশটিতে এটি মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, "অন্য কোনো দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সিনেমা নিষিদ্ধ করার বিধান দেশটিতে রয়েছে।"
কী আছে সিনেমার গল্পে?
উড়তা তীরকে দেশাত্মবোধক হাস্যরসাত্মক সিনেমা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিনেমাটিতে আয়ুষ্মান খুরানাকে পাকিস্তানি এক গুপ্তচরের চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি একটি বিশেষ মিশনে ভারতে প্রবেশ করেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেললে তাকে ভারতীয় গুপ্তচর বলে বিশ্বাস করানো হয়। এ ঘটনা থেকেই তৈরি হয় নানা হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি।
আকাশ কৌশিক পরিচালিত সিনেমাটিতে আয়ুষ্মানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সারা আলি খান। ২৩ অক্টোবর সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।
তবে মুদ্রণমালিকদের মতে, বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বইগুলো সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।
এদিকে, এনসিটিবির বই ছাপানোর হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোর কাজের গতি ধীর। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বই সংগ্রহ করে পরিমার্জন শেষে আবার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর শিক্ষার্থীদের কাছে আবার সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মাঠে বিতরণ করা বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক। এই কারণে প্রতীকটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে যেভাবে যুক্ত হলো ‘দাঁড়িপাল্লা’
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।
উপাত্ত স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্য স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা রাখা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির এই আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর অধিকাংশ ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এছাড়া, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।
আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।
চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে এসেছে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এনসিটিবি এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কিনেছে নতুন চুক্তির আওতায়। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে ডিজেলের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে এই জ্বালানি তেলের আমদানির চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়া ডিজেলের প্রথম চালান পাঠানো শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ডিজেল আমদানির এই চুক্তির পর ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু বিধান স্থগিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড় না করলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এলএসইজি শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর তারিখ ৭ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই চালানের ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২২ সালে রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে রুশ ডিজেল আমদানি হচ্ছে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের কোম্পানিগুলো সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর পর আরও চালান পাঠানো হবে।
এই চুক্তির অংশ হিসেবে ডিজেল রপ্তানির ওপর রাশিয়ার নিজস্ব আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং ‘এর পরপরই’ আরও ১০ লাখ টন রপ্তানি করা হবে।
নোভাকের মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে আগের স্বাভাবিক মাত্রায় (মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন) নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
এলএসইজি শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে কয়েকটি জাহাজে ডিজেল তোলা হয়েছে। তবে সেগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এখনো স্পষ্ট নয়। বেশির ভাগ ট্যাংকারের গন্তব্য হিসেবে জিব্রাল্টার, আটলান্টিক উপকূল কিংবা পোর্ট সাঈদের নাম দেখা গেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে রাশিয়া মূলত ব্রাজিল, তুরস্ক ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান এবং ওয়াহাজ আলী অভিনীত ধারাবাহিক মিট্টি দে বাওয়ে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নতুন পর্বগুলো সম্প্রচারের পর নাটকের নাটকীয় মোড়, অভিনয় এবং জাতপাতের বৈষম্যের নির্মম চিত্র দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছে।
গ্রিন এন্টারটেইনমেন্টে প্রচারিত এই ধারাবাহিকটি প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত হয়। সপ্তম এবং অষ্টম পর্বের সম্প্রচারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকটির গল্প ও অভিনয় নিয়ে দর্শকদের নানা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পাচ্ছে।
ধারাবাহিকটিতে বালা চরিত্রে ওয়াহাজ আলীর অভিনয় বিশেষ প্রশংসা অর্জন করছে। অন্যদিকে, বিলকিস বানু বা বিল্লো চরিত্রে মাহিরা খানের অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে শুধু অভিনয় নয়, জাতপাতের বিভেদ, পারিবারিক সম্মানবোধ এবং সামাজিক ভণ্ডামির কঠিন চিত্র তুলে ধরার জন্যও নাটকটি প্রশংসিত হচ্ছে।
দুই পর্বের গল্পে বড় মোড়
সপ্তম পর্বের শেষের দিকে রেলক্রসিংয়ে গোলাগুলির ঘটনায় বালার ভাই আসলাম বা আচি নিহত হয়। ভাইকে হারানোর পর বালার জীবন সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে যায়। অষ্টম পর্বে দেখা যায়, শোকাহত বালা ধীরে ধীরে কঠোর মানসিকতার বালা গুজরাতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সে ফাজ্জা নামের এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফাজ্জা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল আহমেদ।
ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে ভেঙে পড়া বালা থেকে প্রতিশোধপরায়ণ এক কঠোর মানুষ হয়ে ওঠার দৃশ্য দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেকের মতে, ওয়াহাজ আলীর অভিনয়ের জন্যই বালা চরিত্রটি তৈরি হয়েছে।
বালার স্ত্রী জারিনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমর খান। তার অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। অনেক দর্শক তাকে ধারাবাহিকটির অন্যতম আলোচিত মুখ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে জারিনার চরিত্রের পরিস্থিতি ও মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন।
বিল্লোকে নিয়ে দর্শকের দ্বিধা
মাহিরা খানের অভিনীত বিল্লো চরিত্রটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চরিত্রটির মধ্যে একই সঙ্গে নির্যাতিত এবং নির্যাতনকারীর বৈশিষ্ট্য থাকায় দর্শকরা তার অবস্থান নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন।
কৈশোরে বালার প্রতি ভালোবাসার কারণে বিল্লোকে পরবর্তীতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে তার শ্বশুর তাকে নিজের বাড়ি থেকে বের করে দেন। ধারাবাহিকটিতে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতার কথা বলা হলেও কীভাবে সেগুলো ক্ষমা করার বদলে কাউকে অপমান করতে ব্যবহার করা হয়, তা-ও তুলে ধরা হয়েছে।
জাতপাত ও পারিবারিক সম্মানের সংঘাত
মিট্টি দে বাওয়ে ধারাবাহিকটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতপাতের বিভেদ। শাহ ও মিরাসি সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক ব্যবধান গল্পের বিভিন্ন বিশ্বাসঘাতকতা ও দ্বন্দ্বের পেছনে ভূমিকা রাখে। শাহ বলতে প্রভু বা ক্ষমতাবান শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে, আর মিরাসিরা বংশপরম্পরায় সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত।
বিল্লোর অতীতকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং নিজেদের বংশের মর্যাদা রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যদিকে, বালা সারাজীবন নিজের বংশপরিচয়ের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে।
দর্শকদের একাংশের মতে, জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য, অপূর্ণ ভালোবাসা এবং সামাজিক শ্রেণিবিভেদের কারণে ধারাবাহিকটির গল্পের সঙ্গে এমিলি ব্রন্টির বিখ্যাত উপন্যাস ওয়াদারিং হাইটস-এর কিছুটা মিল রয়েছে। প্রতিশোধের নেশা কীভাবে মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে, সেটিও গল্পে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
সৈয়দ ওয়াজাহাত হুসাইন পরিচালিত এবং ফায়জা ইফতিখারের লেখা এই ধারাবাহিকটি তাই কেবল প্রতিশোধের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। শক্তিশালী অভিনয় এবং সাহসী গল্প বলার মাধ্যমে জাতপাত, পারিবারিক সম্মান এবং সামাজিক ভণ্ডামি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিট্টি দে বাওয়ে।
সূত্র: ডাউন ইমেজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ